মোঃ আজম খাঁন,বাঘারপাড়া(যশোর) থেকে : বাঘারপড়ার করিমপুর গ্রামের জরিনা খাতুন প্রায় ৪০ বছর যাবৎ ভিক্কা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।দীর্ঘদিনের ভিক্কা করা অর্থ থেকে তিলে তিলে জমানো অর্থ দিয়ে ক্রয় করেছেন করিমপুর মৌজার প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমি।এছাড়া ১০/১২ লক্ষ টাকা খরচ করে বাড়িতে বিল্ডিং এর কাজ শুরু করেছেন।ইতিমধ্যে ঘরের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ সমাপ্ত হয়েছে।জরিনা খাতুনের সাফল্যের জীবন দেখে এলাকাবাসী বিস্মিত।জীবন যুদ্ধে তিনি একজন বিজয়িনী সেনা।
জরিনা খাতুনের নিকট তার জীবন ইতিহাস ও সাফল্যের কাহিনী জানতে চাইলে তিনি ভারাক্রান্ত হ্রদয়ে কান্না জড়িত চোঁখে বলতে থাকেন তার হ্রদয়স্পর্শী জীবন কাহিনী।তার স্বামীর নাম ছিল দলিল উদ্দীন।তারা অন্য গ্রামের বাসিন্দা।জরিনা খাতুন হত দরিদ্র পিতা মহর সরদরের কন্য।বিয়ের পর অর্থ কষ্টে অনাহারে ও অর্ধাহারে জীবন কেটেছে।একসময় স্বামীকে নিয়ে পিত্রালয়ে এসে পরের জায়গায় কুড়ে ঘর বেধে বসবাস করেছে।তিন কন্যা ও এক ছেলে সন্তান হওয়ার পর হঠাৎ করে স্বামী মারা যাওয়ায় জরিনা খাতুনের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে।চার সন্তানকে মানুষ করার জন্য অসহায় সম্বলহীন জরিনা খাতুন নেমে পড়েন ভিক্কাবৃত্তিতে।প্রথম প্রথম সারাদিন ভিক্কা করে সন্তানদের মুখে দু‘বেলা খাবার দিতে পারতো না।বড় মেয়ে জুলাইখা দু‘বেল খাবারের বিনিময়ে পরের বাড়ী কাজ করত।বর্ষা কালে ঘরের চালা দিয়ে পানি পড়ত।ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সারা রাত ভিজে ভিজে রাত কাটাত।এসব কথা বলতে বলতে জরিনা খাতুন কেঁদে বুক ভাসান।এর পর সাফল্যের কাহিনী বলতে বলতে মুখে হাসি ফুটে ওঠে।তিনি জানান যে,ভিক্কার চাল সব না খেয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অর্ধাহারে ও অনেক সময় অনাহারে থেকে কিছু কিছু সঞ্চয় করে এক সময় তা বিক্রয় করে প্রতিবেশী নওশের খাঁনের নিকট জমা রাখত।কিছু টাকা জমার পর কিচ’ জমি বন্ধক রেখেছিল।এব্যাপারে তিনি নওশের খাঁনের সহযোগীতার কথা কখনও তিনি ভুলবেন না বলে জানান। এভাবেই তার সঞ্চয় শুরু হয়।পর্য্য়ক্রমে মেয়েগুলো বিয়ে হয়। এতে সঞ্চয়ের বেশ কিছ’ টাকা খরচ হয়ে যায়।তার পর ও জরিনা খাতুন থেমে থাকেনি।ভিক্কা ও সঞ্চয় একই সাথে চালিয়ে গেছেন।এক সময় জমি কেনা শুরু করেন।এভাবে প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমি ক্রয় করেছেন।কিন্তু ভিক্কাবৃত্তি ছাড়েননি।এবছর দ্বোতলার ভিত দিয়ে ৪ রুমের ফ্লাট বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছেন।যার কাজ প্রায় ৭০ ভাগ ইতমিধ্যে সমাপ্ত হয়েছে।নির্মানাধিন বিল্ডিং এর সামনে ছবি তুলতে চাইলে তিনি আনন্দে কেঁদে ফেলেন।জরিনা খাতুনের সাফল্যে এলাকাবাসী বিস্মিত।

স/এষ্

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes