বিজিএমইএ ভবন কোন পদ্ধতিতে ভাঙা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল। রাজউকের ওই বিশেষজ্ঞ প্যানেলটি এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছে। বৈঠকে বিস্ফোরক ব্যবহারের মাধ্যমে ভবনটি ভাঙার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ জন্য চীনসহ কয়েকটি দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কথা বলেছে রাজউক। তবে এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

বিস্ফোরক পদ্ধতি ব্যবহার করে মাত্র এক মিনিটেই ১৫তলা ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলে জানান রাজউকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার বেশকিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। সেগুলো হলো ঘটনাস্থলে প্রচণ্ড ধুলি, শব্দ ও কম্পন তৈরি হতে পারে। এর ফলে বিজিএমইএ ভবনের কাছাকাছি থাকা বাড়িঘর, হাতিরঝিলের আন্ডারগ্রাউন্ড ও সংলগ্ন সড়কে থাকা পানি, গ্যাস ও বৈদ্যুতিক লাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষতির শিকার হতে পারে সোনারগাঁও হোটেলও।’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এসব বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে ভবন ভাঙার ফলে সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পরিবেশ অধিদফতর। তবে পরিবেশ অধিদফতর এ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ এখনও জানায়নি।’ ভবনটি ভাঙার পর সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ সরাতে  কমপক্ষে এক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে রাজউক।বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয় করছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজউক কর্তৃপক্ষ আদালতের রায় অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষও নিজেদের ওই ভবন থেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আপাতত উত্তরায় অফিস করবে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। ওই ভবনের ভাড়াটিয়ারাও সরে যাওয়ার জন্য নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।  ইতোমধ্যেই তারা বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাবতীয় পাওনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই ঢাকা ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের একজন জেনারেল ম্যানেজার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকা ব্যাংকের একটি শাখা অফিসের জন্য বিজিএমইএ ভবনে স্পেস নেওয়ার সময় একটি দলিল হয়েছে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। দলিলেই বলা আছে, কিভাবে ঢাকা ব্যাংক এখানে শাখা পরিচালনা করবে। অফিস ছাড়ার বিষয়েও দিক নির্দেশনা রয়েছে উভয় প্রতিষ্ঠানের জন্য। তবে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে ভবন ছাড়তে হচ্ছে সবাইকে। তাই এখানে দলিলের শর্ত শতভাগ প্রযোজ্য নাও হতে পারে। যা উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পর্যায়ে আলাপ আলোচনায় চূড়ান্ত করা হবে।’

চলতি বছরের ১২ মার্চ ছয় মাসের মধ্যে হাতিরঝিল থেকে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আদালতের রায় আমরা মেনে নিয়েছি। আদালতের দেওয়া রায় অনুযায়ী আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ভবন ছেড়ে দেব। আপাতত উত্তরায় বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ অফিস পরিচালনা করবে। এখানে যারা ভাড়াটিয়া রয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সমস্যা হবে না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আদালত রায় দিয়েছেন। রায় বাস্তবায়ন করা হবে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কোন পদ্ধতিতে ভবনটি ভাঙা হবে, তা নিয়ে রাজউক কাজ করছে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি মনিটরিং করছে।’

স/ এষ্

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes