গৌরীপুর ময়মনসিংহ থেকে শেখ বিপ্লব :
মদ, গাজা, হেরোইন ও ফেনসিডিলের পর এবার ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সর্বত্রই ছড়িয়ে দিয়েছে মরন নেশা ইয়াবা (বাবা)। তরুন, তরুনী, যুবা, মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধরাও এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। একাধিক মাদক মামল্রা আসামী কুখ্যাত মাদক সম্রাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের আঃ রেজ্জাক রেজু মিয়ার ছেলে কাজল (৪২)। দিবারাত্রী প্রকাশ্য ইয়াবা (বাবা) বিক্রি করে ফিরছে। হামলার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। একাধিক মামলা থাকার পরও প্রকাশ্য মাদক বিক্রি করে ফিরছে। তাকে ধরছে না পুলিশ তার খুটির জোর কোথা জানতে চায় এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক সেবী জানান, কাজল প্রায় ১ যুগধরে মাদক বিক্রি করে আসছে। মদ, গাজা, হেরোইন ও ফেনসিডিলের পর প্রায় ২ বছর যাবত রাজনীতিক দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় সে দেদারছে ইয়াবা (বাবা) বিক্রি করে আসছে। কাজলের নিজ বাড়ী দৌলতপুর, বাড়ই পাড়া মদকের ছন পাটে, হাটশিরা,হিম্মতনগর ও বোকাইনগর ডাঃ মুক্তাদির চক্ষু হাসপাতালের পিছনের রাস্তায় পুরাতন মটের পাশে নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত প্রকাশ্য ইয়াবা (বাবা) বিক্রি করছে। সকাল বিকাল তার নিজ বাড়ীর সামনে তাকে নিয়মিত পাওয়া যায়। প্রতি পিস ব্যক্তি বিশেষ ৫০ টাকা ছাড় অন্যথায় ৩ শ টাকা ফিকস্ট প্রাইজ বলে জানায়। এ বিষয়ে সরে জমিনে গেলে এলাকাবাসী জানায়, কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত প্রতিনিয়ত কাজলের বাড়ীর সামনে কম করে হলেও শতাধিক মটরবাইক ও প্রাইভেট কার আসা যাওয়া করে। আর রিক্সা বাই সাইকেল তো আছেই। অজানা অপরিচিত কোন লোক এ যান চলাচলের দৃশ্য দেখলে মনে করবে গৌরীপুরে রাজা জমিদাররা তাদের দৃষ্টি নন্দনীয় দর্শনীয় স্থাপত গুলো বাবা কাজলের বাড়ীর সামনে স্থাপন করেছেন। দুর-দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা নয়নাভিরাম স্থাপনা গুলো দেখতে প্রতিনিয়ত এখানে আসে। এলাকাবাসী তাদের উঠতি বয়সী সন্তানদের নিয়ে চরমাতংকে রয়েছেন। বিড়াম্বনায় ভোগছে স্কুল কলেজ গামী শিক্ষার্থীরা।এ রাস্তা দিয়ে ৩/৪ গ্রামের প্রায় হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। মাদকাসক্তদের বেপরোয়া বাইক চালানো কারনে দুর্ঘটনা এড়াতে আর বখাটেদের বখাটেপানা থেকে রক্ষা পেতে বিকল্প পথে যাতায়াত শুরু করেছে। পাশাপাশি গ্রামের খোলামেলা প্রকৃতিতে গায়ের বধুরা বেরোতে পারছে না। দুঃচিন্তায় ভোগছে বিবাহ যোগ্য মেয়েদের পিতা মাতারা। বরের বাড়ীর বা কনের বাড়ীর লোকজন পরিচয়দেয় কুখ্যাত মাদক স¤্রাট কলিযোগের বাবা কাজলের বাড়ীর পাশে বা তার গ্রামে বলে। সম্প্রতি কাজলের নামের সাথে মাদকাসক্তরা নতুন শব্দ সংযোজন করেছে। মাদক সেবীরা তাকে আদর করে ডাকে বাবা কাজল বলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গৌরীপুর থানা পুলিশ বাবা কাজলের মটর বাইকটি বেশ কয়েকে বার আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘন্টা খানেক সময়ের ব্যবধানে হয়ে যায় যেই লাউ সেই কদু। অথচ পুলিশ ইচ্ছে করলেই কাজল ও তার বাইকসহ আটক করতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় পুলিশ আর কাজলের ঘটনা বাংলা ছবির দৃশ্যের মত শ্লো মোশানে পুলিশ আসছে আর কাজল বাইক ফেলে রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছে। পুলিশ কাজলের পিছু না ছোটে বাইক নিয়ে থানায় চলে আসে। দৌড় ঝাপ শুরু হয়ে যায় মদতদাতা নেতাদের বাইকটি ছাড়াতে। সম্প্রতি গৌরীপুর কমিউনিটি পুলিশের উদ্যোগে জঙ্গীবাদ. সন্ত্রাস ও মাদক নিমূল বিষয়ে স্থানীয় হারুন পার্কে ময়মনসিংহ বিভাগের পুলিশের বড় কর্তারা মাদক নিমূলের জন্য কঠিন বক্তব্যের মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশকে কড়া নির্দেশ প্রদান করেন। গৌরীপুর বাসীর প্রশ্ন বড় কর্তাদের এই বক্তব্য কি শুধু লোক দেখানো ? তা না হলে থানা থেকে ১ দেড় কিঃমিঃ দুরে কাজলের বাড়ী সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে বাবা কাজল একটি পরিচিত নাম। বারবার তার বাইক আটক করে কিন্তুু কাজলকে ধরতে পারেনা পুলিশ বিষয়টি হাস্যকর। বাবা কাজলকে আটক করতে পুলিশ বা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অনিহা কোথায় ? না কি বড় কর্তাদের চেয়েও কাজলের খুটির জোড় বেশি। যদি তাই হয় তাহলে গৌরীপুর বাসী জানতে চায় কাজলের খুটির জোড় কোথায় ?
এলাকাবাসীর দাবী গৌরীপুরে যুব সমাজকে কুখ্যাত মাদক সম্রাট বাবা কাজলের হাত থেকে রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

স/ এষ্

         
print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন