তাপস কুমার, নাটোর:
নাটোরের নলডাঙ্গা হালতিবিলে ধানের র্শীষ ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত ও কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে বোরো ধান জমিতে লুটে পড়েছে এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। আর দশ-পনেরো দিন পর ক্ষেতের ধান গোলায় তুলতে পারতেন কৃষকরা। শনিবারের কালবৈশাখী ঝড় শিলা বৃষ্টিতে নাটোরের নলডাঙ্গার হালতি বিলে কৃষককের স্বপ্নের ফসল বোরো আধা-পাকা ধান জমিতে লুটে পড়েছে। এতে ফলনে বিপর্যয় ঘটতে পাড়ে। অন্যদিকে হালতি বিলের কিছু কিছু এলাকায় ধানের র্শীষে ব্যাপক ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় শষ্কিত হয়ে পড়েছে কৃষকরা। কৃষি বিভাগ বলেছে ঝড়ে ধান লুটে পড়ায় তেমন ক্ষতি হবে না, তবে শীষে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত এলাকায় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিন হালতিবিলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার হালতি, খোলাবাড়িয়া, খাজুরা, করেরগ্রাম, কুচকরি, পাটুল, বাঁশিলা, তেঘড়িয়া, সোনাপাতিল, একডালা এলাকার অধিকাংশ আধা-পাকাবোরো ধান কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে কৃষককের স্বপ্নের ফসল বোরো ধান জমিতে লুটে পড়েছে। এতে ফলনে বিপর্যয় ঘটার আশংখা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক নাজির উদ্দিন জানান, আমার ৫ বিঘা বোরো ধানের মধ্যে ৩ বিঘা ধান শুয়ে পড়েছে। সোনাপাতিল গ্রামের কৃষক আসাদ আলী জানান, আমার ৬ বিঘা জমির বোরো ধান সম্পন্ন অংশ লুটে পড়েছে, এতে ফলন ভাল হবে না বলে আশংস্কা করছেন। বাঁশিলা গ্রামের কৃষক আবুল কাসেম জানান, আমার ৪ বিঘা জমির আধা-পাকা ধান সম্পন্ন অংশ পড়ে গেছে।
অন্যদিকে উপজেলার বাঁশিলা ও সোনাপাতিল এলাকায় অন্তত ২৫-৩০ জন কৃষকের শত শত বিঘা বোরো ধানের শীষে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না। বাঁশিলা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবুল কামাল জানান, আমার বোরো ধান চাষকৃত ১৮ বিঘার মধ্যে ৮ বিঘা জমির খাটো-১০ জাতের ধানে ব্লাষ্ট রোগে অক্রান্ত হয়ে পড়েছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না। এছাড়া একই গ্রামের কৃষক সালাম প্রামানিক জানান, আমার ১২ বিঘা জমিতে ধার দেনা করে ধান চাষ করেছি এর মধ্যে ৫ বিঘা জমির ধানে রোগে আক্রান্ত হয়েছে আর বাকী ধান শনিবারের ঝড় বৃষ্টিতে জমিতে শুয়ে পড়েছে। এছাড়া রফিকের ৪ বিঘা, আলালের ৩ বিঘা, খলিলুর রহমানের ৫ বিঘা, জালাল উদ্দিনের ৩বিঘা, মান্নানের ৬বিঘা, জয়নালের ২ বিঘা, আবুল কাশেমের ২ বিঘা, এনতাজের ৩ বিঘা জমির খাটো-১০ জাতের ধানে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে জমির ৮০ ভাগ ধান নষ্ট হয়েছে।
মাধনগর ইউপির কৃষি উপ-সহকারী অফিসার সোহেল পারভেজ ও মাহফুজা আক্তার জানান, শেষ সময়ে ৫ হেক্টর জমিতে ব্লাষ্ট রোগ দেখা দিয়েছে আমরা সব সময় ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত এলাকার কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। উপজেলা কৃষি অফিসার আমিরুল ইসলাম জানান, হালতি বিলসহ উপজেলার এবার ৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শনিবারের কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টিতে অনেক এলাকার বোরো ধান জমিতে লুটে পড়লেও ফলনে তেমন ক্ষতি হবে না।

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes