সিরিয়ার ইদলিবের খান শেইখুনে দেশটির বিমানবাহিনীর কথিত রাসায়নিক হামলা ও এর জবাবে দেশটির একটি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এর বড় উদাহরণ ভূমধ্যসাগরের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজের রওনা দান। কৃষ্ণসাগরের নভরসসি বন্দর থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ ‘এডমিরাল গ্রিগরভিচ’ ভূমধ্যসাগর হয়ে সিরিয়ার তারতুসের একটি লজিস্টিকস ঘাঁটিতে অবস্থান করবে। রুশ রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা তাস এ কথা জানায়। যুদ্ধজাহাজটি সিরিয়ার জলসীমায় এক মাসের বেশি সময় ধরে অবস্থান করতে পারে বলে অজ্ঞাত সেনা-কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়। আর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়াকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে ইদলিবে রাসায়নিক হামলায় রাশিয়ার হাত আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। গত ৪ এপ্রিল সিরিয়ার ইদলিবের খান শেইখুনে জঙ্গিদের অস্ত্রাগারে কথিত রাসায়নিক হামলা চালায় দেশটির বিমানবাহিনী। এতে শিশুসহ কমপক্ষে ৮৬ জনের প্রাণহানি হয়। সিরীয় সরকারের পক্ষে সন্দেহভাজন এ রাসায়নিক হামলায় বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। মূলত এ হামলার জবাবেই ট্রাম্প প্রশাসন গত শুক্রবার রাতে সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শাইরাত বিমানঘাঁটিতে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন রণতরী থেকে ৫৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ হামলায় বিমানঘাঁটিটিতে থাকা ২০টি সিরীয় যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হয়েছে। এ ছাড়া এ হামলায় কমপক্ষে ৯ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন এ হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ ও দেশটির বিরুদ্ধে ইরাকের মতো আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন রাশিয়ার মন্তব্যে হতাশ হলেও বিস্মিত হননি বলে জানিয়েছেন। ইদলিবে কথিত রাসায়নিক হামলা ও এর জবাবে সিরিয়ার বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। রাশিয়া শুক্রবারই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে, সিরিয়ার শাইরাত বিমানঘাঁটিতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলাফল মারাত্মক হতে পারে। এ হামলা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য খুবই মারাত্মক হতে পারে বলে জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ ডেপুটি রাষ্ট্রদূত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে এ হুঁশিয়ারি দেন। অপরদিকে সংস্থাটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি তার বক্তব্যে সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারের পক্ষে রাশিয়ার অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাশিয়ার কাছ থেকে দায়িত্বশীল ব্যবহার আশা করে বলে তিনি জানান। ফলে সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখন এক প্রকার উত্তেজনা চলছে। এদিকে, সিরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী এ ব্যাপারে কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যালি জানিয়েছেন, সিরিয়ায় প্রয়োজনে আরও হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ।

স/ এষ্

         
print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন