মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের সভাপদি পদটি ভাগিয়ে নিতে মোজোম্মেল হক মুন্না নামের এক জাসাস নেতা দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে। মুন্সীগঞ্জে বিএনপির দলীয় কর্মকান্ড অনেকটা ঝিমিয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ঝিমিয়ে পড়া বিএনপি এবং এর প্রধান সহযোগী অঙ্গ সংগঠনকে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টির উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদ পদবি ও কমিটির জন্য আলাদা আলাদা দুটি খসড়া কমিটি নিয়ে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। ১ নং কমিটি হল জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট ও জেলা বিএনপির মৌখিক সমর্থন নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের ছাত্রদলের সি:সহ সভাপতি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র শফিকুল হাসান তুষারকে সভাপতি ও শ্রীনগর থেকে মামুনের নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠায়। অপর ২ নং কমিটি হল গজারিয়া থেকে জাসাস ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ব বিদ্যালয় শাখার জাসাসের সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক মুন্না সভাপতি ও মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ও সরকারী হরগঙ্গা কলেজের সাবেক এজিএস হুমায়ুনকে সাধারন সম্পাদক করে অপর কমিটি কেন্দ্রে পাঠানো হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন সুত্রে জানাযায়, গজারিয়া উপজেলার বাসিন্দা সাবেক জাসাস নেতা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদের জন্য নানাভাবে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৬ উপজেলার ছাত্রদলের একাধিক সক্রিয় নেতা কর্মীরা জানান, যারা প্রকৃত ছাত্র রাজনীতি করে তারাই ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসেন। যাদের রাজনীতি শুরু ছাত্র রাজনীতি দিয়ে তাদেরকেই জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে রাখা উচিত। আমরা শুনেছি জাসাসের মোজাম্মেল হক যিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার ছাত্রদলের কোন পদে নেই। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে তাকে তেমন একটা পাওয়া যায়নি। জাসাস থেকে কেউ এসেই ছাত্রদলের মর্ম কি সেটা বুঝবেনা। ছাত্রদলের কর্মকান্ড কি সেটাও সে বুঝবেনা। কর্মী বান্ধব ছাত্রদলের সক্রিয় কাউকে দরকার জেলার সভাপতি পদে। অছাত্র আর গান বাজনা করার লোক দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি চলবেনা। তারা আরো জানায়, জেলা বিএনপির সভাপতি আ: হাই শীররিক অসুস্থ্যতার কারনে কয়েক মাস দেশের বাহিরে ছিলেন। এ সুযোগে অপর একটি চক্র গোপনে মিজানুর রহমান সিন্হা সঙ্গে লবিং করে জেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে গিয়ে মোজাম্মেল হক মুন্নাকে সভাপতি বানাতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। জেলা বিএনপির কমান্ডের বাইরে গিয়ে জমা দেওয়া জাসাস নেতার কমিটি শুধুমাত্র জেলা বিএনপিকে দু’ভাগে বিভত্ত করার একটি অপকৌশল বলে মনে করছেন জেলা বিএনপি ও এর অংশ সংগঠনের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে মুন্নার প্যানেলে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হুমায়ূন ২০০৫ ও ২০০৬ সাল এই ২বার সরকারী হরগঙ্গা কলেজের এজিএস ছিলেন। ১ বার শহর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি, ছিলেন শহর ছাত্রদলের ৩নং সহসভাপতি ও সর্বশেষ শহর ছাত্রদলের সি: যুগ্ন- আহবায়ক। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে হুমায়ূন কিছুটা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে শহর কেন্দ্রিক রাজনীতিতে। তবে একই জেলা শহর থেকে সভাপতি ও সাধারস সম্পাদক পদ পাওয়া নিশ্চিত কিনা সে বিষয়ে তৃনমূলে রয়েছে নানা শংকা।
১ নং কমিটির জন্য জেলা শহর থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন মুন্সীগঞ্জ শহর ছাত্রদলের সি: সহ সভাপতি শফিকুল হাসান তুষার। তিনি বিগত দিনে দলের দু:সময়ে যেকোন আন্দোলন ও দলীয় কর্মসূচীতে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করেছিলেন। জেলা কেন্দ্রিক রাজনীতিতে জেলা শহরেরই একজনকে চাচ্ছেন তৃনমূল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা জানান,যারা এই জাসাসের নেতাকে ছাত্রদলের কমিটিতে টেনে আনতে চাচ্ছে তারও কখন বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলনা। এখন যে তাদের পরবর্তী আন্দোলনে পাওয়া যাবে এমন কোন গ্যারান্টি নেই। জেলা বিএনপির সভাপতি আ: হাইয়ের হাত দিয়ে যদি ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হলে জেলা ছাত্রদল চাঙ্গা হবে। সে লক্ষে ২ পৌরসভার ছাত্রদলের সভাপতি, ৬ উপজেলার ছাত্রদলের সভাপতি ও বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জসিম, সাধারন সম্পাদক মাসুদরানা, জেলা বিএনপির সভাপতি আ: হাইয়ের সমন্বয়ে সুপারিসসহ একটি খসড়া কমিটি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে শফিকুল হাসান তুষারকে সভাপতি ও মামুনকে সম্পাদক হিসাবে এই দুই জনের নাম প্রস্তাব করে। লবিং করে টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হলে সেই কমিটি গঠন পর্যন্তই শেষ। টাকার বিনিময়ে উঁড়ে এসে ঝুড়ে বসার কমিটির কার্যক্রম ফেস্টুন ব্যানারেই সীমাবদ্ধ থাকবে। রাজপথে তাদের আর পাওয়া যাবেনা। এখন যারা টাকার বিনিময়ে জাসাসের নেতাদের ছাত্রদলের সভাপতি বানাতে চাচ্ছেন শুধু মাত্র বিএনপির রাজনীতি ধবংস করার জন্য। দলের এই দু:সময়ে জেলা শহরের বাইরে থেকে আসা কারো নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম সফল হবেনা বলে মনে করছেন বিভিন্ন উপজেলার তৃনমূল নেতাকর্মীরা।
জাসাসের সভাপতির পদের কথা স্বীকার করে জাসাস নেতা মোজাম্মেল হক মুন্না বলেন, আমি জগন্নাথ বিশ্ব বিদ্যালয়ের কালচারাল প্রোগ্রাম করার সুবাদে জাসাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হই। আমি নিজেকে যোগ্য মনে করেছি তাই জেলা ছাত্রদলের সভাপদি পদে প্রার্থী হয়েছি। দলের সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে যদি আমাকে তারা যোগ্য মনে করে তাহলে দিবে। আর যদি দল আমাকে অযোগ্য মনে করে তাহলে দিবেনা। আমি টাকার বিনিময়ে কমিটির জন্য দৌড়ঝাঁপ করতেছি বিষয় ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান এর সাথে ফোনালাপকালে তিনি একটি দৈনিককে জানান, টাকার বিনিময়ে কোন কমিটি হচ্ছেনা এটা ভিত্তিহীন। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে যেসকল ছাত্রদল নেতা সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করেছিল এবং ভবিষ্যত আন্দোলন সংগ্রামে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করি তাদেরকেই মুল্যায়ন করা হবে। তিনি আরো বলেন, তৃনমূল নেতাকর্মীরা আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে যার কাছে ভাল গাইড লাইন পাবে এবং তৃনমূলের পছন্দকেই গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

স/ এষ্

         
print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন