গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত নারী কনস্টেবল হালিমাকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে এসআই মিজানুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমাবার দিবাগত রাতে নিহতের পিতা মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন আকন্দ বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় এ মামলা করেন (মামলা নং-২, তাং-০৩/০৪/১৭)। উক্ত মামলায় পুলিশ ফোজতে থাকা এস আই মিজানুলকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহাম্মেদ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ময়মনসিংহ উত্তর) এস এম নেওয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌরীপুর সার্কেল সীমা রাণী সরকার ও ময়মনসিংহের ডিএসবি ইন্সপেক্টর মোঃ শহিদুল হক। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে এ কমিটির তাদের প্রতিববেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে। এদিকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত নারী পুলিশ সদস্য হালিমার জানাযার নামায সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার গৌড়াকান্দায় তার গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা নামায শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে ওইদিন সন্ধ্যা ৭ টায় হালিমার লাশ তার বাড়ীতে পৌঁছে। এসময় এলাকার শত শত লোকজন লাশ দেখার জন্য ভীড় করে। উল্লেখ্য রোববার বিকেল ৩টার দিকে গৌরীপুর থানা ব্যারাকে হালিমা নিজ শরীরে কেরাসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এই আগুনে তার মুখমন্ডল সহ শরীর ঝলসে যায়। ঘটনা ঠের পেয়ে পুলিশ থানার মহিলা ব্যারাক থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হালিমাকে উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ওইদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ রেফার্ড করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে ঢামেকে নেয়ার সময় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের সন্ধ্যা ৭ টার দিকে হালিমার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক গৌরীপুর থানার এস আই মিজানকে ক্লোজ করা হয়। নিহত হালিমার গ্রামের বাড়ী নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার গৌড়াকান্দা গ্রামে। তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন আকন্দ ও মাতা লতিফা আকন্দ। ৩ ভাই ও ২ বোনের মাঝে সে ছিল সবার ছোট। ২০১১ ইং সনে মুক্তিযোদ্ধার কোটায় তার পুলিশের চাকুরী হয়। সে ছিল অবিবাহিত। হালিমার মা বলেন অগ্নিদগ্ধের ঘটনার ১০/১৫ মিনিট আগে তার মেয়ে তার সাথে মোবাইলে কুশল বিনিময় করে। এসময় সে স্বাভাবিকভাবেই কথাবার্তা বলেছিল। অভিযোগ ওঠেছে এস আই মিজানের সঙ্গে সম্প্রতি তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসময় মিজান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হালিমার সাথে বেশ কয়েকবার দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয়। গত কয়েকদিন ধরে মিজান তার সাথে প্রতারণা শুরু করে। লম্পট মিজানের প্রতারণা সহ্য করতে না পেরেই ঘটনারদিন আত্মহত্যার চেষ্টায় হালিমা নিজ গায়ে করোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহাম্মেদ বলেন এস আই মিজানের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায়। সে ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তার একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন আকন্দ তার মেয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় এস আই মিজানুলকে দায়ী করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

স/জনী

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন