মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

পার হয়েছে স্বাধীনতার ৪৬ বছর তবুও পাওয়া হয়নি মুক্তি ভাতা ও গেজেটে ভুক্ত হয়নি নামটিও ।এমনটা ঘটেছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের সর্দার গ্রামের মৃত আ: আজিজ বেপারীর ছেলে আবুল বাসার ওরফে শাহ আলমের সাথে । দেশের সরকার পরির্বতনের সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেও প্রকৃত যোদ্ধারা বঞ্চিত হচ্ছে এমনটা মনের করেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাসার । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষনের পর পর মুন্সীগঞ্জ সরকারী হরগঙ্গা কলেজে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা হয়। সেখানে আবুল বাসার যুদ্ধের জন্য অস্ত্রের ট্রেনিং নেন। তিনি ৮ম শ্রেনীতে পড়াকালীন সময়ে আনসার বিডিবি ট্রেনিং প্রাপ্ত থাকায় তৎকালীন সময়ে তাকে আর ভারতে যেতে হয়নি। হাবিলদার আব্দুল মালেক ও আব্দুর রবের কাছে সুখবাসপুরে যুদ্ধের জন্য ট্রেনিং গ্রহন করেন আবুল বাসার। কাজী আনোয়ারে নেতৃত্বে ট্রেনিং শেষে মুন্সীগঞ্জ সদরের রতনপুর, থানা কাউন্সিল, কাশিপুর ও পরে মুন্সীগঞ্জ নয়াগাঁও এলাকায় পাকিস্তানী শত্রু হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন এই যোদ্ধা।দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষী যুদ্ধের পরে স্বাধীন হয় সবুজ বাংলা।
আবুল বাসার অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৮৩ সালে রামপাল ইউনিয়নের কালিঞ্চিপাড়া গ্রামের মৃত আমির হোসেন খয়রাতির ছেলে ফজলুল করিম গংরা আবুল বাসারের পৈত্রিক ভিটাতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট চালায়। একই সময়ে আবুল বাসারের বাড়ীর সকলকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়ে পুরো বাড়ীঘর জমিজমা ও সম্পত্তি সব লুনে নেয়। সেই সময়ে আবুল বাসারের যুদ্ধকালীন কাগজপত্র ও মুক্তিযোদ্ধা সনদ লুট হয়ে যায়। ফলে নিজের সম্পত্তি পূনরুদ্ধারের লক্ষে আদালতে মামলা নিয়ে ব্যস্ত সময় থাকেন তিনি। বিভিন্ন সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন ও স্বাধীনতা বিরোধী জামাত বিএনপির আমলেও সুযোগ পায়নি আবেদন করার। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি মুক্তি সনদের জন্য আবেদন করার ঘোষনা দেন। এর পর ২০১৪ সালে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অনলাইনে মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় বরাবর আবেদন করতে বলেন সরকার। ঠিক তখনই ২০০৯ সালে সরাসরি এবং ২০১৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন আবুল বাসার। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই উচ্চ আদালতের নির্দেষে মুন্সীগঞ্জসহ সারাদেশে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ ৪৬ বছরেও তার ভাগ্যে মিলেনি মুক্তিভাতা ও গেজেটে নাম ওঠা।
তিনি যে একজন মুক্তিযোদ্ধা তার প্রমান হিসাবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ট্রেজারিতে থাকা ৬৫০ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম রয়েছে ৮৮ নং সিরিয়ালে। বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক কর্নেল এম এ জি ওসমানীর সনদপত্র নাম্বার ২,৮২৩ সেটাও লিষ্ট ট্রেজারিতে জমা রয়েছে। জীবনের শেষ সময় হলেও জাতীয় পতাকাটি বুকে জড়াতে চায় এই যোদ্ধা। প্রতি বছরে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের দু’টি সম্মাননা ছাড়া পাওয়া হয়নি মুক্তিভাতা হয়নি কিছুই। দীর্ঘ ৪৬ বছরেও গেজেটে তার নামটিও অন্তভ’ক্ত করা সম্ভব হয়নি। জেলায় অনেক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা সনদ ও ভাতা পেলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বিশাল অংশ এখনো পায়নি সনদ ও ভাতা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন , দেশের জন্য যুদ্ধ করেও মরার পরে দেশের পতাকাটা বুকে জড়ানো হবেনা এটা মানতে পারছিনা।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ কাদের মোল্লা বলেন, যারা পায়নি তারা অনলাইনে আবেদন করে থাকলে যাচাই বাছাই করা হবে। এখন হাই কোর্টের আদেশে বাছাই প্রক্রিয়া বন্ধ আছে। চালু হলে তখন যাচাই বাছাই করে সহযোদ্ধাদের বক্তব্য অনুয়ায়ী যদি সঠিক প্রতীয়মান হয় তাহলে গেজেট হবে। তারপর তারা সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

স/জনী

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন