কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে মঙ্গলবার দুপুরে প্যারাডাইস ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্যরে নের্তৃত্বে একটি টিম ক্লিনিকটি সিলগালা করে ওই ভবনের মালিকে বুঝে দেয়া হয়েছে। তিনি ক্লিনিকটির লাইসেন্স বাতিলের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সুপারিশ করবেন বলে জানা গেছে। কেশবপুর শহরের উপজেলা সড়কের পাশে প্যারাডাইস ক্লিনিকে গত ২৭ ফেব্র“য়ারি হাতুড়ি ডাক্তারের ভূল অপারেশনে লাকি আক্তার নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ আবু শাহীনের নেতৃত্বে তদন্ত টিম চিকিৎসার গাফিলতির কারণে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয় বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর যশোরের সিভিল সার্জন গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেন।
কেশবপুরের সদর ইউনিয়নের আলতাপোল গ্রামের রাশিদুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী লাকি আক্তারের প্রসব বেদনা অনুভব করলে প্যারাডইস ক্লিনিকে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই শুধু আল্ট্রাসনো রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ক্লিনিক মালিক হাতুড়ে ডাক্তার আব্দুল মান্নান সিজারিয়ান অপারেশের পর গত ২৭ ফেব্র“য়ারি তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর রোগীর স্বজনসহ এলাকাবাসি ২৮ ফেব্র“য়ারি শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে ক্লিনিকটি বন্ধ করার ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, চিকিৎসার গাফিলতির কারণে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ওই ক্লিনিকটি কেশবপুরে আর কখনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
যশোরের সিভিল সার্জন গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য বলেন, ক্লিনিকটি স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওই ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানোর কাজ চলছে।

স/জনী

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন