মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কয়েক দিনের অভিরাম বৃষ্টির কারনে মুন্সীগঞ্জ জেলার আলুর জমিতে হাঁটু পানি জমে গেছে। আলু উত্তোলনের সময় হলেও কৃষক বৃষ্টির কারনে আলু তুলতে পারছেনা। কয়েকদিনের বৃষ্টির কারনে থমকে যায় আলু উত্তোলন। গতকাল শিলা বৃষ্টির কারনে আলুতে পঁচন ধরেছে। হতাশায় কৃষক এখন দিশেহারা। প্রতিকুল আবহাওয়ার কারনে কৃষকরা আলু তুলতে পারছেন না। এতে করে কৃষকরা এবার বড় ধরলের লোকসানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলুর জমিতে পানি জমে আছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়ন, জঙ্গিবাড়ী উপজেলার নি¤œাঞ্চলের কৃষকদের জমির আলু রয়েছে হাঁটু পানির নিচে। পানি কমানোর জন্য কৃষক জমিতে নাল কেটে পানি সরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। দিনভর পানি সেঁচে কৃষক পানি কমায় কিন্তু আবার রাতের বৃষ্টি পূনরায় জমি ডুবে যায়। কোন কোন কৃষক আলু র্পচন থেকে বাঁচাতে মাছ ধরার স্টাইলে আলু উত্তোলন শুরু করেছেন। আবার কোন কৃষক কাঁদা মাটিতে নেমে আলু কুঁড়াচ্ছেন। বেশীর ভাগ জমিতে ১৮ ইঞ্চি পরিমান পানি দেখা গেছে। আর নিচু জমিগুলোতে ছিল হাঁটু পানি। বৃষ্টির কারনে তাদের ফসলের শতভাগ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে । বৃষ্টি যদি এখন কমে তাহলে বড় ধরলের লোকসানের আশংকা করছেন কৃষকরা।এমনটাই জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

একাধিক কৃষক জানান, ধারদেনা করে আলু করেছে তারা এখন আলু উঠানোর সময় প্রতিকুল আবহাওয়া আর বৃষ্টির কারনে পানি সেঁচার কাজে ব্যস্থ তারা। কিছু কিছু কৃষক আলু পঁচন থেকে বাঁচাতে পানিতে নেমেই আর কাঁদার মধ্যে আলু কুঁড়াতে শুরু করেছেন। যদি বৃষ্টি আর না আসে তাহলে অন্তত তারা তাদের মূলধন ফিরে পাবে। অন্যথায় তারা সর্বস্থ্য হারাবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে চলতি অর্থ বছরে মুন্সীগঞ্জের সর্বমোট ৩৯ হাজার ৩শ ২১ হেক্টার জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। এর উৎপাদন লক্ষ মাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লক্ষ টন। যা গতবছরের তুলনায় ১ লক্ষ টন বেশি। কিন্তু কৃষকদের এখন মুলধন টিকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আলুগুলো এভাবে থাকলে পঁচে নষ্ট হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হুমায়ূন কবির জানান,এ বছর মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৩৯ হাজার ৩শত হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে ৯ হাজার ২৫০ হেক্টর জমির আলু। যা প্রায় ২৩ শতাংশ। প্রায় ৩০ হাজার ৫০ হেক্টর জমির আলু এখনও জমিতে আছে। আর গতকালের শিলা বৃষ্টির কারনে ৯০ হেক্টর জমির আলু বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকরা মূলধন হারাবে।

স/জনী

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন