ব্যাটিং স্বর্গে ভারত রীতিমতো রানের পাহাড়ে উঠে বসেছে। ১৬৬ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১ম ইনিংসে ৬৮৭ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা।

শুক্রবার হায়দ্রাবাদ টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে বিশাল সংগ্রহের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। তবে সেই চাপের সামনে দাঁড়িয়ে টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা নিরাপদে শেষ করতে পারল না টাইগাররা।

১ম ইনিংসে শেষ বেলায় এসে সৌম্য সরকারের ডিফেন্সটা ছিল অলস। উমেশ যাদবের বলে ঋদ্ধিমান সাহার হাতে বল গেল। বিরাট কোহলি মনে করলেন আউট। আপিল তিনি ও আরো দুই তিনজনার। ঋদ্ধিমান আপিলে যোগ দেননি। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেন কোহলি। সেই রিভিউতে দিনের শেষের চুরি যাওয়া আলোয় সর্বনাশ টাইগারদের। পাল্টায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। সৌম্য ফেরেন ১৫ রান। যদিও আদৌ ব্যাটে-বলে হয়েছিল কি না সে নিয়ে সংশয় থেকে গেছে কিছুটা।

রাজিব গান্ধী স্টেডিয়ামে ১৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪১ রানে দিন শেষ করেছে টাইগাররা। ওই উইকেটটা না পড়লে আরো বেশি স্বস্তি থাকতো সফরকারীদের। শনিবার তৃতীয় দিনের সকালে ব্যাট হাতে নামবেন তামিম ইকবাল ২৪ ও মুমিনুল হক ১ রানে। আপাতত ফলোঅন বাঁচানোটাই লক্ষ্য থাকবে সফরকারীদের। ভারতকে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নামাতেও টাইগারদের তুলতে হবে আরো অন্তত ৪৪৭ রান! টাইগাররা পিছিয়ে ৬৪৬ রানে।

এর আগে চা বিরতির পর মনে হচ্ছিল ঋদ্ধিমান সাহার সেঞ্চুরির অপেক্ষাতেই আছেন বিরাট কোহলি। তার এই ব্যাটসম্যানও তিন অংকের সেই ম্যাজিক্যাল স্কোরের দেখা পেতেই বুঝি ইনিংস ঘোষণা করবেন। কিন্তু তা হল না। বাংলাদেশের আরো কয়েকটা ওভার দেখে নিয়েই ডেকে নিলেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানকে। এ নিয়ে টানা তিন ইনিংসে ছয়শ রানের বেশি করল ভারত। এবারেরটি ভারতের সর্বোচ্চ রানের টেস্ট ইনিংসের তালিকায় থাকল পঞ্চমস্থানে।

১০৬ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন ঋদ্ধিমান। অথচ ব্যক্তিগত ৪ রানের সময়ই জীবন পেয়েছেন তিনি। মুশফিকের বদন্যতায় পাওয়া সেই সুযোগটা কাজে লাগালেন সেঞ্চুরি করে। এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট শতরান। একইসঙ্গে ক্যারিয়ার সেরাও। অন্যপ্রান্তে থাকা রবীন্দ্র জাদেজা ৬০ রান নিয়ে ফিরেছেন হার না মেনে। দু`জন মিলে সপ্তম উইকেট জুটিতে জমা করেন ১১৮ রান।

এই ব্যাটিং স্বর্গে অারো একটা দিন ব্যাট হাতে রাজত্ব করলেন স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানরা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভারতে খেলতে নেমে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে টাইগাররা। অবশ্য দু`দিন ধরেই একের পর এক ভুল করে যাওয়ার মাশুল গুনল তারা।

তবে এই দিনটা আসলে বিরাট কোহলির। ক্যারিয়ারের সেরা সময়টাই কী তাহলে পার করছেন তিনি? এইতো সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খেলেছিলেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। ২৩৫ রান করে ফিরেছিলেন। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষেও ডাবল সেঞ্চুরি। রীতিমতো ইতিহাস গড়া যাকে বলে। টানা চার সিরিজে চারটি ২০০ ছাড়ানো ইনিংস। টেস্ট ইতিহাসে এমন কীর্তি এর আগে কেউ গড়তে পারেনি! স্যার ডন ব্র্যাডম্যান ও রাহুল দ্রাবিড়কে টপকে গিয়ে এই রেকর্ড গড়লেন কোহলি।

এমন ইতিহাস গড়েই অবশ্য সাজঘরে ফিরে গেলেন ভারত অধিনায়ক। তাকে থামালেন তাইজুল ইসলাম। ২৪৬ বলে ২০৪ রানের নান্দনিক এক ইনিংস। যেখানে ২৪ চারের সমাহার! এর আগে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই মহা তারকা। ভারতীয় মৌসুমে সবচেয়ে বেশি টেস্ট রানের রেকর্ডও অবশ্য আগেই গড়ে ফেলেছেন কোহলি। এই মৌসুমে এখন তার রান ১১৬৮। আগের রেকর্ড গড়েন বিরেন্দর শেবাগ। ২০০৪-০৫ মৌসুমে, ১১০৫ করেন তিনি।

এরপর দলকে আরো সুসংহত জায়গায় নিয়ে গেছেন ঋদ্ধিমান ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। দু`জন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে করেন ৭৪ রান। ৩৪ রান করা অশ্বিনকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

তার আগে লাঞ্চ বিরতির কিছু আগে কোহলি আর আজিঙ্কা রাহানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। এ দু`জন ২২২ রানের জুটি গড়ে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যান দলকে। মেহেদীর অসাধারণ ক্যাচে রাহানে বিদায় নেয়ার আগে করেন ১৩৩ বলে ৮২ রান।

এদিনও দৃষ্টিকটু ফিল্ডিং দেখা গেছে বাংলাদেশের। ব্যাক্তিগত চার রানের সময়ই অবশ্য ফিরতে পারতেন ঋদ্ধিমান। কিন্তু তাইজুলের বলে স্টাম্পিংয়ের সহজতম সুযোগটা হাতছাড়া করেন উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। তাইজুলের বল এগিয়ে খেলতে গিয়ে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি ঋদ্ধিমান। বল চলে যায় মুশির গ্লাভসে। প্রথম প্রচেষ্টায় বেল ফেলতে ব্যর্থ। পরে ফেললেও আর লাভ হয়নি, জায়গায় চলে আসেন ঋদ্ধিমান!

বোলারদের হতাশার দিনে তাইজুল ১৫৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ১৬৫ রানে ২ উইকেট নেন মেহেদী।

দ্বিতীয় দিনের এই সকালে উইকেটে নামেন দুই নট আউট ব্যাটসম্যান কোহলি ১১১ ও আজিঙ্কা রাহানে ৪৫ রানে। সকালেই ব্যাক্তিগত ৬২ রানের সময় জীবন পান রাহানে। কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে পয়েন্টে ক্যাচ ভেসেছিল। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও সাব্বির সেটা হাতে জমাতে পারেন নি!

এর আগে বৃহস্পতিবার হায়দ্রাবাদ টেস্টের প্রথম দিনে টাইগারদের বিপক্ষে ভারত প্রথম ইনিংসের ৩ উইকেট হারিয়ে ৯০ ওভারে করে ৩৫৬ রান। বিরাট কোহলি ১৩০ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৬ নম্বর সেঞ্চুরি তুলে নেন। লাইফ পেয়ে মুরালি বিজয়ের নবম টেস্ট শতরানের ইনিংসটি শেষ হয় ১০৮ রানে।

চেতেশ্বর পুজারা জীবন পেয়ে অবশ্য শতরান করতে পারেন নি। ৮৩ রানে ফিরে যান তিনি। ‘ঐতিহাসিক’ ম্যাচে টস জিতেছিলেন কোহলি। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত গড়ে পাহাড়সম স্কোর। কে জানে এর নিচেই চাপা পড়ে কীনা মুশফিকের বাংলাদেশ!

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
ভারত ১ম ইনিংস: ১৬৬ ওভারে ৬৮৭/৬ ইনিংস ঘোষণা (রাহুল ২, বিজয় ১০৮, পুজারা ৮৩, কোহলি ২০৪, রাহানে ৮২, ঋদ্ধিমান ১০৬* অশ্বিন ৩৪, জাদেজা ৬০*; তাসকিন ১/১২৭, রাব্বি ০/১০০, সৌম্য ০/৪, মিরাজ ২/১৬৫, সাকিব ০/১০৪, তাইজুল ৩/১৫৬, সাব্বির ০/১০, মাহমুদউল্লাহ ০/১৬)।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪ ওভারে ৪১/১ (সৌম্য ১৫, তামিম ২৪*, মুমিনুল ১*; যাদব ১/২)

স/শা

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন