মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী কাটাখালি খাল। এটি মুন্সীগঞ্জ ডায়বেটিক সমিতির কাছ থেকে শুরু হয়ে সার্কিট হাউজের পাশ দিয়ে কাটাখালি বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ।এই খালটিই ছিল এক সময় সাধারন মানুষের মুন্সীগঞ্জ শহরে প্রবেশের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। এক সময় এ খাল দিয়ে বড় বড় জাহাজ, নৌকা, ছোট বড় সব ধরনের যানবাহন চলাচল করিত বলে জানান স্থানীয়রা। কালের বিবর্তনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দখলদারদের কারনে খালটি নাব্যতা হারায়। পাশাপাশি শহরের ময়লা আবর্জনা ফেলে খালটি এখন ভরাট হয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালটির পূর্ব পাশে কাটাখালি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে খালের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক ভবন। আবার কোথাও কোথাও ময়লা ফেলার কারনে ভরাট হয়ে গেছে। অবশেষে খালটি খননের উদ্যোগ নিয়েছেন মুন্সীগঞ্জে জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা। এ জন্য তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে একটি প্রকল্পও তৈরী করেছেন। আর প্রকল্পের নাম দিয়েছেন সবুজে সাঁজাই মুন্সীগঞ্জ। আগামী ১৪ মার্চ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করবেন জেলা প্রশাসক।
স্থানীয় পৌর বাসিন্ধা জসিম উদ্দিন বলেন, মুন্সীগঞ্জে দখল হওয়া কাটাখালি খালটি দখলমুক্ত করে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরী করলে এবং খালের পাশে সৌন্দর্য বর্ধন করলে ভাল হবে। মুন্সীগঞ্জ শহরকে একটি সবুজ আর মডেল শহর হিসাবে গড়ে তুলতে আমরা জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করিব। আর্থিকভাবে ও শ্রম দিয়ে হলেও সকলে স¤িœলিতভাবে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত।
জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বলেন, বিভিন্নভাবে নদীনালা ও খালবিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ শহরের মধ্যে কোন খালের নেটওয়ার্ক নেই। আমরা কাটাখালি খালটি উদ্ধার করে খনন করব এবং খালের পাশে পাড় বেঁধে একটি হাঁটার রাস্তা তৈরী করব।সেখানে গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্য বর্ধন করা হবে। খালের দু”পাড়ে আমরা যদি ওয়াক ওয়ে তৈরী করতে পারি তাহলে শহরবাসী সন্ধ্যা এবং সকালে হাঁটতে পারবে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল সবুজে সাঁজাই মুন্সীগঞ্জ। আমি প্রথমে খাল কাঁটায় হাত দিব। আমার জেলা প্রশাসন টিম এবং যতোগুলো বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মকর্তা আছে সকল বিভাগ খাল কাঁটায় অংশ গ্রহন করবে। সরকারীভাবে যদি খালটি আমরা খনন করতে যাই তাহলে এখানে একটি অর্থায়নের বিষয় আছে । একটি প্রকল্প অনুমোদনের বিষয় আছে এবং এটি একটি দীর্ঘ সুত্রতায় পড়ে যায়। আমাদের কাজটা যে প্রকল্প ছাড়া যাচ্ছে তা নয়। এ জন্য আমরা স্থানীয়ভাবে এলজি ইডি ইঞ্জিনিয়ার, ত্রান ও দূর্যোগ মন্ত্রনালয়, আমাদের সকল শাখা এবং সাবিস্ট্রি ইঞ্জিনিয়ার আছে তাদের মাধ্যমে আমরা একটি প্রকল্প তৈরী করেছি। প্রকল্পে যে খরচটা হবে সেটা আমরা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করব। যেমন এই প্রকল্পে আমি প্রথম আমার এক দিনের বেতনের টাকা দিব।এরপর আমার পাশাপাশি আমার জেলা প্রশাসনের সহকর্মীরাও তাদের এক দিনের বেতন দিবে। তেমনিভাবে এই শহরে যারা বিত্তবান, ব্যবসায়ী জনগন আছে তারা যদি মনে করে এই প্রকল্পে টাকা দিয়ে বা মাটি কেঁটে অংশ গ্রহন করবে তাহলে তারা সেটা করতে পারবে। কোদাল দিয়ে মাটি কেঁটে খাল খনন করা হবে। আর টাকা দিয়ে খালের পাড়ে হাঁটার জন্য রাস্তা তৈরী করা হবে। সকলের অংশ গ্রহনের মাধ্যমেই আমরা সবুজে সাঁজাই মুন্সীগঞ্জ গড়ে তুলব।

স/শা

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন