গাজীপুর :

রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের টঙ্গী মডেল থানার এরশাদ নগরের বস্তিতে খুনি-ছিনতাইকারী আর মাদক সেবীদের নিরাপদ গোপন আস্তানা গড়ে ওঠেছে। ওই বস্তিতে হাত বাড়ালেই মিলে মরণ নেশা মাদক। তাই চাদাঁবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত, পকেটমার, ছিঁচকে চোর, অপহরণকারী, দাগীঁ সন্ত্রাসীদের যাতায়াত অহরহ।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সেখানে ১ লাখ লোকের বসবাস। তাই মাদকের ছড়াছড়ি। আর মাদক সহজলভ্য হওয়ায় ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকা থেকে অপরাধীরা এখানে এসে আশ্রয় নেয়।

সোমবার সকালে সরজমিনে গিয়ে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অপরাধীরা এরশাদ নগর বস্তিকে নিরাপদ ঘাটি হিসেবে বেছে নিয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযান থেকে বাচঁতে তারা বিভিন্ন স্থান থেকে পালিয়ে এসে সেখানে মাদক সেবন করে নেশায় ডুবে থাকে। বস্তিতে রয়েছে শত শত ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘর। অনেকে সেখানে রাত কাটায়। এক দিকে বেরিবাঁধ অন্য দিকে শত শত অলি-গলি ও সরু রাস্তা তৈরি করা হয়েছে ওই বস্তিতে। রয়েছে উচুঁ-নিচু ঘর বাড়ি। বস্তিতে ঢুকলেই মনে হয় এটি অন্য একটি জগৎ। আশে-পাশের লোকজন মাদক পল্লী হিসাবে এটাকে চিনে। টঙ্গীর বস্তিগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় এবং লোকসংখ্যার হারও বেশি। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই কেবল ঘর-বাড়ি। ঘনবসতিপূর্ণ এ বস্তিতে মানুষের চলাচল তাই অনেক বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশ স্বাধীনতার পর এ বিশাল বস্তি গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির শাসনামলে এরশাদ নগর (বাস্তহার) নামে নামকরণ করা হয়। সেই থেকে এ বস্তিটির নাম এরশাদ নগর বস্তি হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। টঙ্গীর এ বস্তিতে প্রতিদিন প্রায় ৪/৫ লাখ টাকার মাদক ও চোরাই মালামাল কেনাবেচা হয়। ফেন্সিডিল, গাঁজা, বাংলামদ, হেরোইনের নেশায় ডুবে থাকেন অপরাধীরা। বস্তির ঘরে কে গেলো আর কে আসলো মাদকসেবীদের কাছে তা ভয়ের কিছু নেই। কারণ নিরাপদের জন্য পুলিশকে নিয়মিত হারে মাসোহারা দেওয়া হয়।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূএে জানা যায়, ওই বস্তিতে যারা মাদক ব্যবসা করে এদের সংখ্যা প্রায় ২ শতাধিক। আর এদের সহযোগী রয়েছে প্রায় শতাধিক। এরশাদ নগর বস্তির মাদক বিক্রিতারা হচ্ছেন দলনেতা পুলিশের সোর্স নামধারী শুক্কুর, মো. সিরাজ মিয়া, শ্যালিকা চম্পা আক্তার, সোলেমান, শাহজাহান, গোলাম মোস্তফা, আসলাম, নোয়াব আলী, ভেলা, হাতকাটা হালিম, পারভিন, মজিবর, আনিস, হাসেম, পিচ্চি হাসেম, বোবার স্ত্রী,সন্ত্রাসী পিচ্চি হোসেন, পুড়ি মাসুদ, পারভেজ, সালাউদ্দিন, মঞ্জুরুল হক ওরফে বাপ্পি, রিপন, আউচ পাড়া ও দওপাড়া গ্রামের সিরাজ, নুরু, ইয়াসিন, সাইফুল, প্রিন্স, শাহআলম, মামুন মোল্লা স্বপন, ইসমাইল, আলাউদ্দিন (জুয়াঁ ও মদ) আমতলী কেরানী টেক বস্তির ন্যাংরা জামাল ওরফে কালিগঞ্জের জামাল, জামাল ওরফে ফেন্সি জামাল, সোর্স রানা, মোল্লা শহীদ, আজিজ ওরফে চোরা আজিজ, সেলিম, আলমগীর, সোর্স শহীদ, মেকার ফারুক, মাহাবুব,মিজান, পারুল, রাশিদা, রোকসানা, চম্পা, রুবি, ব্যাংক মাঠ বস্তির মাদক ব্যবসায়ী আলামিন, ফজলু, দেলোয়ারা, নিপা, রিপা, সাইফুল, স্বপ্না বগি, টুকু, সোর্স ফারুক, কালা ফারুক, নার্গিস, মরকুনের মাদক সম্রাট দেলোয়ার হোসেন দিলু, অলি উল্যাহ ওরফে অলি, মজিবুর, সুজন, সোহাগ, সোহেল, শফি,দেলু, রাশিদা, লতা প্রমুখ।

টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ তালুকদার ওই বস্তিতে মাদক কেনাবেচা হয় স্বীকার করে জানান, মাঝে-মধ্যে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল মদ, গাজা, ফেন্সিডিলসহ অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। গত সপ্তাহে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য পুলিশ টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে উদ্বার করেছে।

টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফিরোজ তালুকদার জানান, সোর্সদের অপর নাম হচ্ছে গুপ্তচর। সোর্সরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে থাকে। তবে সোর্সদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

ওসি (তদন্ত) মো. হাসানুজ্জামান খান জানান, এরশাদ নগর বস্তি থেকে পুলিশ চাপাতি, ছোরা, অস্ত্রসহ বহু সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

স/ জ

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন