মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দির সংঘর্ষের ঘটনায় বিস্ফোরক ও চাঁদাবাজি ২টি মামলা আতংক

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন যার পরিচিতি ককটেলের জনপদ হিসাবে। সদর উপজেলার এই ইউনিয়নটিতে প্রায় প্রতিদিনই বিস্ফোরিত হচ্ছে ককটেল। মুহুর্মহু বিস্ফোরন আতঙ্কে ইউনিয়নটি সাধারণ মানুষ।

এ যেন এক যুদ্ধের জনপদ। গত – ৮দিন পূর্বশত্রুতার জের ধরে আ”লীগের দু”পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে চলছে সংঘর্ষ। দিন আর রাত নেই দু”পক্ষের লোকজন ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাশের সৃষ্টি করছে। গত- কয়েকদিনে সংর্ঘষ ও ককটেল তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরনে ৩ জন আহত হয়েছেন তারা হলেন, বাবু (২৫), স্বপন (২৩) বিল্লাল(৩০),সহ দু”পক্ষের গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে।

সংঘর্ষপূর্ন গভীর রাতে এলাকায় অনুপ্রবেশ করার সময় এক পুলিশ পরিচয় দানকারী মেহিদী, বহিরাগত ক্যাডার মোস্তফা, নাসির ও হিরু এরা গনধোলাই খায়। পরে তাদেরকে ধরে এলাকাবাসী পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সংঘর্ষের ঘটনায় ইতো মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় ১টি বিস্ফোরক ও ১টি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে বিপুল পরিমান পুলিশ এলাকায় টহল দিচ্ছে। ২টি মামলায় আসামী করা হয়েছে ৯২ জনকে। এবং অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে প্রায় ৮০ জনকে। তবে এখন পর্যন্ত সংঘর্ষে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার , ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আ”লীগের সাধারন সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আহাজার হোসেন এর সাথে একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য স্বপন দেওয়ানের সাথে বিরোধ চলছে। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে ড্রেজারের শ্রমিকদের মারধর করার করা করে আজহার গ্রুপের লোকজন। সেই ঘটনায় স্বপন মেম্বার বাদী হয়ে আহাজার মোল্লাসহ অনেকের বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

গত- ২৯-০৬-১৯ইং তারিখে পুরাবাজার এলাকায় ড্রেজার ব্যবসা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সে সময় স্বপন মেম্বারের লোকজন বাজারের এক দিনমজুর (কুলি) ফরিদ হালদারকে কুপিয়ে গুরুতর যখম করে। এ সময় প্রতিবাদ জানিয়ে নোয়াদ্দা গ্রামের কয়েকজন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও পিটায় আহত করে স্বপন মেম্বারের লোকজন।

পরে বিষয়টি মিমাংশা করার জন্য মহেষপুর এলাকা থেকে ছুটে যান ইউসুফ আর জাহাঙ্গীর। তারা বাজারে গিয়ে স্থানীয় ঢালীকান্দি গ্রামের ইউপি সদস্য মেজবাউদ্দিন মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করেন। এ সময় স্বপন মেম্বারের কিছু লোক মনে করেছে ইউসুফ , জাহাঙ্গীর মনে হয় মেজবাউদ্দিনের পক্ষ নিয়ে ঝগড়া করতে এসেছে।

পরে দুই পক্ষের মধ্যে তৃমুখী সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে।এর পর এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে নোয়াদ্দা , ঢালিকান্দি, মুন্সীকান্দি ও বেহারকান্দি গ্রামে। ইউপি সদস্য স্বপন মেম্বারের সাথে বেহারকান্দি গ্রামের বিএনপি নেতা উজির আহম্মেদের সাথে ছিলো চরম বিরোধ। ঐদিন নোয়াদ্দা গ্রামের লোকজন যখন স্বপন মেম্বারের বাড়ীতে হামলা চালায় তখন স্বপন মেম্বারের বিপক্ষে গিয়ে হামলায় অংশ নেন তার গ্রামের বিএনপি নেতা উজির আহম্মেদ সমর্থকরা।

নোয়াদ্দা গ্রামের লোকদের শক্তি পেয়ে বেহারকান্দি গ্রামের উজির আহম্মেদের লোকজন স্বপন মেম্বারের বাড়ীতে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও ককটেল বিস্ফোরন ঘটায়। এর পর দু”পক্ষের লোকজন দেশী বিদেশী অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করে। একটু পর পর বিভিন্ন গ্রামের লোকজন ককটেল ফাটিয়ে আতংক ছড়ায় ।

ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে হামলাকারীরা গ্রামছেড়ে বিস্তির্ন ফসলী জমিতে লুকিয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নটির বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা সংঘর্ষের বিষয়টি মিমাংশা না করে একটি পক্ষকে সমর্থন করায় দিন দিন সংঘর্ষের ব্যাপকতা বেড়েই চলছে।

সংঘাত পূর্ন গ্রামগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ীতে কোন পরুষ নেই। চারদিকে মহিলাদের আনাগোনা। সাংবাদিক আর পুলিশ দেখলে এগিয়ে এসে উভয় পক্ষের লোকজন এক পক্ষ আরেক পক্ষের নামে নানান অভিযোগ তুলে ধরে হামলাকারী হিসাবে পরিচিতি দেয়া চেষ্ঠায় চালাচ্ছে। মাত্র শুরু হয়েছে বর্ষ মৌসুম খালের পানি , জমিতেও আসতে শুরু করেছে।

তাছাড়া পুরো এলাকার কৃষিজমিতে রয়েছে ধইঞ্চা ও পাট। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দু”পক্ষের হামলাকারীরা ফসলি জমিতে লুকিয়ে থেকে হামলা চালায় । পুলিশ অভিযানে গেলে জমিতে লুকিয়ে পরে। বাড়ীঘর গুলো থাকে সব সময় পুরুষশ্যুন্য। তাদের নেটওয়ার্ক এতাটাই মজবুত গ্রামগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব, সাংবাদিকসহ আইনসৃংখলা বাহিনীর লোক যাওয়ার আগে সবাই জেনে যায়। গ্রামগুলো দিয়ে হাঁটার সময় দেখা যায় ফোনে নারীদের কর্মব্যস্থতা।

কে কি করছে কোথায় কারা আসছে সব খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামে থাকা নারীরা। কোনখানে কোন গ্রুপের লোক অবস্থান করেছে স্থানীয় গ্রামগুলোর মহিলাদের সবই জানা। সংঘর্ষের ঘটনায় স্বপন মেম্বারের পক্ষে স্বপন মেম্বার বাদি হয়ে আ”লীগ নেতা আজাহার মোল্লা, ইউপি সদস্য মেজবাউদ্দিন, বিএনপি নেতা উজির আহম্মেদসহ ৬৯ জনকে আসামী করে মামলা করে।

অপরদিকে স্বপন মেম্বারের প্রধান সহকারী সেলিম দেওয়ানও একটি চাঁদাবাজি মামলা করেছে আজহার গ্রুপের বিরুদ্ধে। হামলাকারীদের এখন পর্যন্ত আইনের আওতায় আনতে না পারার কারনে এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে এখনও ভয় আর শংকা রয়েছে। কখন আবার কোন গ্রামে ককটেল হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট হয়। স্থানীয়দের দাবি যারা এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরন, চাঁদাবাজি. ভাংচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে তাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

পুরা বাজারের দিনমজুর ফরিদকে কুঁপিয়ে গুরুত্বর আহত করার বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি সদস্য স্বপন দেওয়ান বলেন, আজাহার মোল্লা ও বিএনপি নেতা উজির আহম্মেদ বর্তমানে এলাকায় ত্রাশের রাজস্ত কায়েম করছে। এলাকায় চাঁদাবাজি, ককটেলবাজি, মাদকব্যবসাসহ নানা অপরাধ অপকর্ম করে সাধারন মানুষকে অতিষ্ট করে তুলছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চেয়ে আ”লী নেতা আজাহার মোল্লা ও বিএনপি নেতা উজির আহম্মেদকে একাধিকবার ফোন দিলে তারা ফোন রিসিভ করেনি।

মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আ”লীগের সভাপতি ফরহাদ খাঁন বলেন, আমি সংঘর্ষের বিষয়টি শুনেছি। আমার জানামতে দু”পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনাটি চেয়ারম্যান কল্পনা মিমাংশা করিতে পারে। কিন্তু ওনি বিষয়টি মিমাংসা না করে একটি পক্ষেকে সমর্থন করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে সেটা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন।

মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা বলেন, ইউনয়ন আ”লীগের সভাপতি ফরহাদ খাঁন ও সাধারন সম্পাদক আজাহার মোল্লা বিএনপির লোকদের টাকা পয়সা খেয়ে স্বপন মেম্বারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিষয়টি আমি মিমাংশা করার চেষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে মানবন্ধন ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্সীগঞ্জ (সদর সার্কেল) আশফাকুজ্জামান জানান, মোল্লাকান্দির সার্বিক শান্তি রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় ২টি মামলা হয়েছে, অভিযুক্তদের আইনের আওয়তায় আনা হবে। এব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email