ঝিনাইদহে পানি খেলেই সব রোগ মুক্তি!

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহে এবার দুরন্ত মাঠের টিউবওয়েলের পানিতে সব রোগের মুক্তি মিলছে, রোগ মুক্তির আশায় টিউবয়েলের পানি নিতে সেখানে হাজার হাজার লোক জনের সমাগম হচ্ছে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ২নং মধুহাটি ইউনিয়নের বাজার গোপালপুর থেকে ভিখের মোড় নামক স্থানে যেতে ডান পাশের দুরন্ত মাঠের মধ্যে একটি মেহগনি বাগান আছে।

সেই বাগানের ভিতর সদ্য অবস্তিত একটি টিউবওয়েলের পানি পান করলেই সব রোগ মুক্তি পাচ্ছেন মানুষ। এমন গুজব খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক জনের সমাগম হচ্ছে রোগমুক্তির আশায় পানি সংগ্রহ করার জন্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে একটি সদ্য নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে, স্থানীয় লোকজন জানায়, এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েল নলকুপটি ঐ এলাকার কৃষকদের পানি পান করার সুবিধার্থে স্থাপন করেছেন।

কে বা কারা এধরনের গুজব রটনা করেছে এই নলকূপের পানি পান করলে সমস্ত রোগব্যাধি ভালো হয়ে যাবে। তবে কারো রোগ ভালো হয়েছে এমন কোনো সঠিক তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তবে অনেক দূর থেকে গভীর রাত্রেও সেখানে লোকজন আসছে ও রোগ মুক্তির আশায় পানি সংগ্রহ করছে। দেখা যায়, অনেক মহিলা তাদের পারিবারিক অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে দূর দুরান্ত থেকে এখানে আসছে রোহ মুক্তির আশায়। কিন্তু ঐস্থানটিতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা না থাকায় যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, একজন জানায়, তিনি দীর্ঘদিন প্যারালাইজড রোগে পড়ে আছেন। পরে ঐ নলকূপের পানি পান করে রোগমুক্তি হবে এ আশায় তিনি সেখানে যান এবং পানি পান করেন। কিন্তু পানি পান করে রোগমুক্ত হননি বলে তিনি সাংবাদিকদের জানায়।

স্থানীয়রা জানান, গত রোজার আগে ২নং মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মাঠের কৃষকদের পানি পান করার জন্য একটি টিউবওয়েল স্থাপন করেন।

গত ২০ দিন আগে লোকমুখে আলোচনা আসতে থাকে, কে যেন স্বপ্ন দেখেছে এই টিউবওয়েলের পানি আর আশকেল (দাতন) গাছের শিড়ক বাকল খেলে রোগ, বালা মছিবত দূর হচ্ছে। এরপর থেকেই ১/২ করে লোকজন বাড়তে থাকে। তবে বর্তমানে হাজার হাজার লোকজনের ভিড় জমছে।

পানি নিতে তালসার গ্রামের রহমান, সেলিম বলেন, তারা আত্মীয়দের মাধ্যমে জেনেছেন, একজন স্বপ্নে দেখেছে টিউবওয়েলের পানি খেলে রোগ ভালো হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসছে টিউবওয়েলের পানি নিতে। তাই আমরা দেখার জন্য এসেছি।

সেই সাথে পানিও নিয়ে যাচ্ছি। তবে কে স্বপ্নে দেখেছে তা খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ২নং মধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েল কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email