ভাঙনের আতঙ্কে কয়রাবাসী

মতিউর রহমানঃ ২০০৭ সালের সিডর ২০০৯ সালের আয়লা, আর প্রাকৃতিক দূযোগ, নদী ভাঙ্গান তো লেগেই আছে। সবমিলিয়ে বছরের ১২ মাসই প্রাকৃতিক দূযোগ এর আতঙ্কে থাকে এসব এলাকা বাসী। স্থানীয়সরকার বা সরকার প্রধানের ও তেমন দূত কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

যার জন্য নিরাপত্তাহীনতায় বাস করছে স্থানীয়রা। বলছিলাম খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ওয়াবদা বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙনের কথা।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে শুক্রবার (০৫ জুলাই) সকাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ ফুট ওয়াবদায় বেড়িবাঁধ শাকবাড়িয়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সিডর-আইলায় সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত এলাকাটি আবারও যেন মুহূর্তে তলিয়ে প্লাবিত হওয়ায় আশঙ্কায় সময় পার করছেন এলাকাবাসী।

তারা জানান, খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের আংটিহারা এলাকার (আব্দুল ওহাবের দোকানের পাশে) ওয়াবদা বেড়িবাঁধে বৃহস্পতিবার ফাটল দেখা দেয়। বাঁধের অনেকাংশ ভেঙে এরইমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার আকস্মিক বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শাকবাড়িয়া নদীর গ্রাসে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন আংটিহারা, ঘড়িলাল, মাটিয়া ভাঙ্গা, বিনাপানি, চরামুখা, পাতাখালি এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। যেকোনো সময় নোনা পানি ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে এলাকার ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ১০০ ফুট ওয়াবদায় বেড়িবাঁধ শাকবাড়িয়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক এম এম সাইফুল ইসলাম বলেন, বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় আইলা ও সিডর বিধ্বস্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কয়রার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি সবসময় জানিয়ে আসছেন।

বর্ষায় ভাঙন শুরু হলে দায়সারা মেরামত হয়। পরে আবার তা জোয়ারের পানিতে ভেঙে যায়। এতে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আমাদী সেকশন কর্মকর্তা মশিউল আবেদিন বাংলানিউজকে বলেন, এরইমধ্যে শুক্রবার সকাল থেকে বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। চেষ্টাকরে যাচ্ছি যেকোনো মূল্যে বাঁধ রক্ষা করতে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email