কিশোরগঞ্জে এ কোন বর্বরতা?

প্রতিবন্ধি নির্মমতার শিকারঃ গ্রেফতার -১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দেশে নৃশংস ঘটনা বেড়েই চলেছে। দুষ্ট-লোকেরা আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রতিবন্ধী এক তরুনকে অতি উৎসাহী হয়ে চোর সন্দেহে হাত-পা বেঁধে নৃশংসভাবে প্রহার ও মূমুর্ষ করার ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন হিটলার (৩৩) নামে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানা পুলিশ এক ভয়ংকর দুষ্ট লোককে গ্রেফতার করেছে।

প্রহৃত তরুনের নামে মোশারফ হোসেন তার পিতার নাম নূর হোসেন. গ্রাম- পূর্বদড়িয়া জাহাঙ্গীরপুর। এ মামলার ১নং আসামি একই গ্রামের মোখলেছুর রহমান খাঁন শাহান (৬০). পিতা- মোসলেহ উদ্দিন খান, তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর-১০/২৩ তাজমহল রোড বাসিন্দা। তার নির্দেশে মোশারফ হোসেন নামের ঐ প্রতিবন্ধী তরুনকে আসামিরা গ্রামের লোক জড়ো করে হাত পা বেধে প্রকাশ্যে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটায়।

গত ০৬/০৬/২০১৯ইং সকালে এ ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এ প্রেক্ষিতে মোঃ আবদুর রউফ মিয়া নামে এক মানবাধিকার কর্মী “বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ” এ এক আবেদন পেশ করেন।

এর পর কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারকে রাতে ফোন করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন ধরেন নি।

পরে তাড়াইল থানার ওসিকে বলা হলো তিনি মামলাটি গ্রহণ করেন। ১নং আসামী মোখলেস একজন ভয়ংকর দূনীর্তিবাজ কাস্টম কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জের গ্রামে একটি প্রাসাদ তুল্য বাড়ী তৈরি করেন। ঐ বাড়ীতে মানসিক প্রতিবন্ধী তরুন নিজ বাড়ী মনে করে প্রবেশ করেছিল।

এরপর ঐ তরুনকে ধরে এনে মোখলেস গ্রাম্য টাউট ও কুখ্যাত চাঁদাবাজ খ্যাত হিটলার এর হাতে তুলে দেয়। হিটলার তাকে কোন কথা না জিজ্ঞেস করে এবং খোঁজ খবর না নিয়ে নির্দয়ভাবে হাত পা বেধে প্রহারে মূমুর্ষ করে ফেলে।

এক পর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার অভিভাবকরা খবর পেয়ে ছুটে আসেন ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ঐ সময় গোটা গ্রামের মানুষ কাঁদছিলো।

এ মামলার অন্যান্য আসামি ডিএস ভূঁইয়া (৩৮), আলম মিয়া (৩০), মুসলিম উদ্দিন ভূইয়া (৬০) ও ললিত ভূঁইয়া (৫৫) এখানো পলাতক। জানা যায় উল্লেখিত দুবির্ত্তরা দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় আইন অমান্য করছে। এর আগেও নানা জনকে ইচ্ছামত প্রহারের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

একি সাথে বিভিন্ন চাঁদাবাজির সাথে জড়িত রয়েছে তারা। এলাকাবাসী ভয়ে মুখ খুলছে না।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email