তিতুমীরের আবাসিক হলের বেহাল অবস্থা

মতিউর রহমানঃ ৬৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৩ টা হল তার দুটোই মেয়েদের জন্য। আর ১ টা ছেলেদের। ৩ টা হলই যেনো গনরুমে পরিনত হয়ছে।প্রতিটা রুমে ৪ জনের সিটে ১৫ জনের উপরে থাকছে।

হলের সাদ থেকে সিমেন্ট খোঁষে খোঁষে পড়ছে। ছাদ ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কায় ভর দেয়া হয়েছে বাঁশ দিয়ে। ওয়াশরুমের নোংরা অবস্থা। দুর্গন্ধে ছড়ানো আশপাশ। রাত হলেও চোখে ঘুম নেই শিক্ষার্থীদের। কি করে ঘুমাবে ছারপোকারই আস্তানা যেনো ছাত্রবাস।

শিক্ষার্থীদের নেই পড়ালেখার সুষ্ঠ পরিবেশ। ডাইনিং এ নেই কোন টেবিল চেয়ার। নেই খাওয়ার মত পরিবেশ। এমনই চিত্র দেখা যায় রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের আক্কাসুর রহমান আখিঁ ছাত্রাবাসে। এ যেনো এক ধ্বংশ স্তূপ। যেকোন সময় হয়ে উঠতে পারে মৃত্যুকূপ।

আবাসিক হলে থাকা এক ছাত্রের সাথে কথা বললে তিনি জানান, প্রতিনিয়ত আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। ইদানিং ঝড় বৃষ্টির কারণে আরও বেশি আতঙ্কে থাকে হয় আমাদের।

পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে আমাদের বাধ্য হয়ে আবাসিক হলে থাকতে হয়। কিন্তু এই ছাত্রাবাস একেবারেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হলের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে নোংরা হয়ে আছে সিড়ি আর বারান্দা গুলো। বাথরুমের অবস্থাও খুবই খারাপ। যা দেখে বুঝা যায় শিক্ষার্থীরা যেমনটা থাকতে হয় আতঙ্কে ঠিক তেমনি থাকতে হয় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

এদিকে সরকারি তিতুমীর কলেজে ৬৩ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে ছাত্রদের জন্য ছাত্রবাস রয়েছে একটি ও ছাত্রীদের জন্য হল রয়েছে দুইটি। যেখানে সব্বোর্চ ৫০০ শিক্ষার্থীর ধারণ ক্ষমতা থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ৭০০ শিক্ষার্থী। আবাসিক হল নিয়েও সংকটে কলেজটি।

অনেক গরীব শিক্ষার্থীদের বারতি টাকা দিয়ে থাকতে হয় বিভিন্ন জায়গায়। এতে পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে বন্ধ হয়ে যায় অনেক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার গন্ডি।

এই সকল বিষয় নিয়ে তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আশরাফ হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আক্কাসুর রহমান হল নিয়ে আমরাও অবগত আছি কিছু দিনের মধ্যে হলের মেরামতের কাজ শুরু হবে।

ডাইনিং ওয়াশরুম অনেক কিছুতে বসানো হবে টাইলস। আর আবাসিক সমস্যা শিক্ষার্থীদের তুলনায় তা মেটানো একেবারে অসম্ভব। তবে ছাত্রদের জন্য আমাদের আরেকটি হল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়ে আসছে। আশা করা যায় এক বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email