বগুড়াতে প্রার্থী দেবে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: নানা নাটকীয়তার পর এবার শূন্য ঘোষণা হয়ে যাওয়া বগুড়া-৬ আসন ও সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনেও প্রার্থী দিতে যাচ্ছে বিএনপি।

সোমবার (১৩ মে) বিকেলে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। বৈঠক সূত্র জানায়, স্কাইপিতে লন্ডন থেকে তারেক রহমান ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ যোগ দেয়ার কথা থাকলেও তাদের দেখা যায়নি।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্ব করেন।

সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছাড়াও জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবদুল হালিম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদেকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র আরো জানায়, শপথ নিয়ে লুকোচুরির বিষয়টি নিয়ে বেশ উত্তপ্ত ছিল বৈঠক। এ পর্যায়ে দলের পক্ষ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি তার দেয়া ব্যাখ্যায় জোট নেতাদের বলেন, কৌশলগত কারণেই বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আবার কৌশলগত কারণেই তিনি নিজে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থেকেছেন। তাই এটা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া কিংবা ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। তিনি বলেন, আমি আশা করি, আমার এ ব্যাখ্যার পরে এই ইস্যুতে আমাদের মাঝে সৃষ্ট সকল ভুল বোঝাবুঝি ও মান-অভিমানেরও অবসান ঘটবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো।

পরে সিদ্ধান্ত হয় যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছেড়ে দেয়া আসনে পূণরায় প্রার্থী হবেন না। সেক্ষেত্রে বগুড়ার স্থানীয় কোনো নেতা অথবা দলের কেন্দ্রীয় কোনো সিনিয়র নেতাকে প্রার্থী করার চিন্তা ভাবনা করছে দলটি।

দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র কোনো নেতাকে এ আসনে প্রার্থী করে বিজয়ী করে এনে সংসদে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার পক্ষে দলের নীতি-নির্ধারকরা। তবে কাকে প্রার্থী করা হতে পারে তা এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

এছাড়া শুধু বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনেই নয়, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনেও প্রার্থী দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সেক্ষেত্রে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শরিকদের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বৈঠকে কথা ওঠে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি অতিমাত্রায় বিএনপির ঝুঁকে পড়া ইস্যু নিয়েও। যা দেখে বিশদলীয় জোট ছেড়ে যায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।

তাছাড়া এভাবে আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ জোট ছাড়ার ঘোষণা নিয়েও কথা ওঠে। জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেই জোট ছাড়ার ঘোষণা দিতে পারতেন বলে অনেকে কথা বলেন।

বিষয়টি নিয়ে পরে বিশদলীয় জোটের অন্যতম সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান শরিক নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, পার্থ আবার জোটে ফিরে আসবেন। ওনার সঙ্গে কথা বললেই তার অভিমান কেটে যাবে। এ বিষয়ে পার্থ’র সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

জানা যায়, বিএনপির নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিশেষ করে ফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনকে না ছাড়লে বিশদলীয় জোট শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান জোট ছাড়ার যে আল্টিমেটাম দিয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অন্য শরিক দলের নেতারা।

তবে তোপের মুখে ইরান জোট ছাড়ার আল্টিমেটাম দেয়ার কথা বেমালুম অস্বীকার করেন। তিনি গণমাধ্যমের উপর দোষ চাপিয়ে বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দেইনি। যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা গণমাধ্যমের মিথ্যাচার।

ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ইরান যে এসব বক্তব্য রেখেছেন তার কি কোনো প্রমাণ আছে? কোনো সংবাদ কি আছে, যা আপনারা দেখাতে পারবেন?

তখন জোটের একটি দলের চেয়ারম্যান অনলাইনে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সংক্রান্ত সংবাদগুলো উপস্থিত নেতাদের মোবাইলের মাধ্যমে দেখান।

তাছাড়া, জোটকে সংকুচিত করে শুধু নিবন্ধিত দলের সমন্বয়ে বিএনপির এ জোটের পক্ষে গণমাধ্যমে যেসব দল বা দলের নেতারা কথা বলে আসছেন, তা নিয়েও বেশ কয়েকজন প্রশ্ন তোলেন। তারা তথাকথিত বড় দলের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণেরও দাবি করেন। বিশেষ করে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে কে কি কর্মসূচি পালন করেছেন, তা নিয়েও কথা হয়। সে সময় জোটের সংস্কার ইস্যুতে কথা বলা নেতাদের অধিকাংশ নেতাই চুপ করে থাকেন বলে জানান, বৈঠকে অংশ নেয়া এক নেতা।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ২০ দলীয় জোটকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করতে এখন থেকে প্রতি মাসে জোটের বৈঠক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেক্ষেত্রে জোট শরিকরা গণতন্ত্র পূণরুদ্ধার, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায় ও জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করবে।

জানা গেছে, ২০ দলীয় জোটকে সক্রিয় করার পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নতুন নির্বাচনের দাবি আদায়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠনেরও প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে ২০ দলের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্র করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দলটি। বৈঠকে বিএনপির এই উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং তীব্র গরমে ঢাকায় পানির সংকটের প্রতিবাদে ২০ দলীয় জোট একক ও পৃথক কর্মসূচি পালন করবে।

পার্থ নেতৃত্বাধীন বিজেপির ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আন্দালিব রহমান পার্থ আমাদের সাথে শুরু থেকেই ছিলেন। আশা করি, মান-অভিমান ভুলে তিনি আবার ২০ দলীয় জোটে ফিরে আসবেন।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের ২০ দল ছাড়ার আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, ইরান আজকেও বৈঠকেও ছিলেন। তিনি ২০ দলীয় জোট ছাড়ার আল্টিমেটামের কথা অস্বীকার করেছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে মতবিরোধ চলছে কি না-জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পূর্বে ২০ দলীয় জোটের মতামত নেয়া হয়েছে। তারা সকলে জাতীয় ঐক্যগঠনের পক্ষে বলেছেন এবং সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাই ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে ২০ দলে কোনো সমস্যা নেই।

স/এ/ষ

Print Friendly, PDF & Email