রাজধানীতে হাঁস-মুরগীর ব্যবসার আড়ালেকোটি কোটি টাকা লোপাট

চমক প্রতিবেদক : রাজধানীতে হাস-মুরগী বাজারজাত করার জন্য সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ফজলুল হক মৃধা ও হেলাল উদ্দিনের বাহিনী কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছে বলে জানা গেছে।

সমবায় অধিদপ্তরকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে গত ৬ বছর যাবৎ তারা মহানগর হাস-মুরগী বাজারজাতকরণ সমবায় সমিতি লিঃ কে কুক্ষিগত করে রেখেছে। তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তারা নিজেদের খেয়াল খুশী মতো ভ্যান চালক, মুদি দোকানী, চা দোকানী, মুচি, ঠেলাগাড়ী চালককেও সদস্য করেছে বলে জানা গেছে।

তারা অবৈধ ভাবে এক হাজার চার জনকে সদস্য করে প্রহসনের নির্বাচন করার পায়তারা করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। একটি সূত্র জানায়, ফজলুল-হেলাল গং এর কথিত এই কমিটি প্রতিদিন বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় দুই লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করে কামিয়ে নিচ্ছে।

সে হিসেব অনুযায়ী মাসে ৬০ লক্ষ টাকা করে আসলে বছরে আসে ৭ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। নতুন সদস্যদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক লক্ষ টাকা করে চাঁদা নিলে এক হাজার চার জনের কাছ থেকে এককোটি চার লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকৃত পক্ষে ২শ জন এই ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলেও বাকীরা বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত।

সমিতির কোটি কোটি টাকা আয় হলেও গত ৬ বছরের কোন আয়-ব্যায়ের হিসেব না দিয়ে সদস্যদের সাথে প্রতারণা করে তারা আগামী ১৭ মে প্রহসনের নির্বাচন করতে চাচ্ছে বলে অন্যান্য সদস্যরা দাবী করছেন। তেজগাঁওয়ের হাস-মুরগীর ব্যবসা স্থলটি মেট্রো রেলের আওতায় হওয়ায় সরকার ভেঙ্গে দিয়ে সায়দাবাদ টার্মিনাল সংলগ্ন সিটি সুপার মার্কেটে বরাদ্দ দেয়।

সেখানে ২ কোটি টাকা ব্যয় করেও আবার তেজগাঁওয়ের পূর্বের জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করেছে ফজলুল হক মৃধা ও বিল্লাল হোসেন গং। গত ৬ বছর তারা অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখলেও আয়-ব্যায়ের কোন হিসাব দেয়নি। ফজললু-বিল্লাল গং সংগঠনের টাকা দিয়ে রাজধানী ও তার আশেপাশে নিজের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে বহুজমিজমা ক্রয় করেছে। এই নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্ত করেছেন।

শুধু তাই নয় সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মোঃ হলোল উদ্দিনকে কোন সভায় রাখা হয়নি বলে জানা যায়। সম্পূর্ণ এককভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে উক্ত ব্যক্তিরা প্রহসেনের নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় আসার জন্য চেষ্টা তদবির করছে বলে জানা গেছে।

একটি সূত্র জানায়, বিএনপির প্রভাবশালী নেতার ভাই বিল্লাল হোসেন মুরগী ব্যবসায়ীদের ছাড়া বিএনপি ও জামাত শিবিরের লোকজনকে অবৈধ ভাবে সদস্য করেছে। শুধু তাই নয় ১৭ মে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ভোটাররা অদ্যাবধি তাদের ভোটার আইডি খুজে পায়নি বলে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ ব্যাপারে সাধারণ সদস্যরা সমবায় অধিদপ্তর ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email