প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাবাদের বিরুদ্ধে উদ্যোগী হতে হবে। সকলকে স্ব স্ব জায়গা থেকে স্ব স্ব ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে ছেলে-মেয়েরা সংশ্লিষ্ট না হয়।

মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ থেকে ২০১৬-২০১৭ বর্ষে গ্র্যাজুয়েশন করা অফিসারদের মধ্যে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার এ সংকট মোকাবিলায় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছে, সশস্ত্র বাহিনীও এ ব্যাপারে যথেষ্ট পারদর্শিতা অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ দেশ হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্নত ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হয়- এমন কিছু ঘটুক তা কখনোই কাম্য নয়।

এবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫৮ জন, নৌ বাহিনীর ২৭ জন ও বিমান বাহিনীর ২৪ জন এবং চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কুয়েত, লাইবেরিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, তানজানিয়া, উগান্ডা, যুক্তরাষ্ট্র ও জাম্বিয়ার ৭১ জনসহ মোট ২৮০ জন অফিসার এ কোর্সে অংশ নেন।

তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘ ১০ মাস অক্লান্ত পরিশ্রমের পর আজ তোমাদের পূর্ণতাপ্রাপ্তি ও আনন্দের দিন।”

সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজকে বাংলাদেশের একটি ‘ঐতিহ্যবাহী এবং স্বনামধন্য’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এই বিদ্যাপীঠ থেকে ডিগ্রি অর্জন যে কোনো সামরিক অফিসারের জন্য অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত ও গৌরবের বিষয়।

“বর্তমানে আমাদের এই স্টাফ কলেজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে; এ জন্য আমরা অত্যন্ত গর্বিত।”

গ্র্যাজুয়েট অফিসারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আজ তোমরা সমর বিজ্ঞানের উপর উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেছ। আমার বিশ্বাস, এ প্রশিক্ষণ অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালনে এবং যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তোমাদের আরও আত্মপ্রত্যয়ী হতে শেখাবে।

“শুধু তাই নয়, এখন থেকে আরও বড় ধরনের নেতৃত্ব প্রদানে তোমরা নিজেদের প্রস্তুত রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এ বছর ১৪ জন নারী অফিসার গ্র্যাজুয়েট হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবছর নারী অফিসারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সশস্ত্র বাহিনী তথা বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের দিক-নির্দেশক হিসাবে কাজ করছে।”

সশস্ত্র বাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ‘মূর্ত প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধামন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা রক্ষার সুমহান দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক মোকবিলায়ও প্রশংসনীয় অবদান রাখছেন।”

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনাসহ পুনর্গঠনের কাজে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছেন।

“তাদের সাফল্যে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের কমান্ডেন্ট মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন।

স/শাহীন

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন