রোজার সময় খাদ্যতালিকায় যা রাখবেন

 

রোজার সময় দৈনন্দিন লাইফ স্টাইলে পরিবর্তন আসা জরুরি। সারা দিন কোন খাবার বা পানি না খেয়ে ব্যায়াম
করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। তার ওপর এবার রমজান হচ্ছে
গরমের সময়ে, ফলে এখানেও দরকার বাড়তি সতর্কতা।

রোজায় খাবারের বিষয়ে দরকার একটু বিশেষ খেয়াল। চলুন জেনে নেই রোজায় যা যা করা উচিত-

বেশি করে ফল ও সবজি: গরমের দিনে রোজা তাই ইফতার বলুন কিংবা সেহরি, ফলের সমাহার থাকা চাই খাবার
টেবিলে। যতটা সম্ভব তাজা ফল কিনুন এই মাসের জন্য। ইফতারির আয়োজনে ভাজা খাবার যত কম থাকবে, তত
বেশি থাকবে ফল। ফলের রস, শরবত, স্যালাদ সবকিছু খাবেন বেশি করে। এতে শরীর অনেকটাই সতেজ লাগবে
আর ক্লান্তি কমবে ও গরমে শান্তিও পাবেন।

হালকা খাবার: হালকা খাবারেই গরমের রোজার জন্য ভাল। বিরিয়ানি, খিচুড়ি বা পোলাও এমন ভারি খাবারগুলো
ঈদের দিনের জন্যই রাখুন। মাংস দিয়ে অল্প তেলে বরং ফ্রায়েড রাইস করে নিতে পারেন চাইলে। সাথে থাকবে প্রচুর
সবজি আর ডিমের স্বাদ। অর্থাৎ সহজে হজম হবে এমন খাবার খান।

ইফতার ও সেহরিতে মিষ্টি খাবার: মিষ্টি জাতীয় খাবার কিছু না কিছু অবশ্যই রাখবেন ইফতারে। সম্ভব হলে সাথে
সেহরিতেও রাখুন মিষ্টান্ন। খেজুর রমজানের একটি আদর্শ মিষ্টি খাবার। কাজেই ফল এবং মিষ্টি উপাদান হিসেবেও
খেজুর বেছে নিতে পারেন। দুধ-চাল আর বাদামের মিশ্রণে পায়েসও বেশ ভাল খাবার হবে আপনার ইফতারির
আয়োজনে।

কড়া পানীয় নয়: কড়া পানীয়ের বদলে হালকা পানীয় খান এই মাসে। দুধ চা না খেয়ে লাল চায়ের অভ্যাস করুন।
বাইরের কোমল পানীয় নয়, ঘরে তৈরি শরবত, ফলের জুস খান।

সঠিক খাবার তালিকা অনুসরণ করে রোজা রাখা উচিত। কখনোই শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখবেন না। অতিভোজন
থেকেও বিরত থাকুন। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাবেন, যা আপনার হজমে সহায়ক হবে। ইফতার ও
সাহ্‌রিতে আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করুন। গ্লাস গুনে পানি খেতে অসুবিধা হলে সমপরিমাণ পানি বোতলে ভরে
রাখুন এবং ইফতার থেকে সাহ্‌রির সময়ের মধ্যে তার পুরোটা পান করুন। এনার্জি ড্রিংক, কার্বনেটেড ড্রিংক এবং
সোডাজাতীয় পানীয় বর্জন করুন। এগুলো অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দেয়।

Print Friendly, PDF & Email