পরিষ্কার করা হবে মহাকাশের আবর্জনা!

নিউজ ডেস্কঃ পুরনো স্যাটেলাইট এবং রকেট থেকে সৃষ্ট জঞ্জাল আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের জন্যও হুমকিস্বরুপ৷ ক্রমশ বাড়তে থাকা এবং বিপজ্জনক হতে পারে এমন জঞ্জাল আমাদের বিশ্বের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷

গবেষকরা তাই এসব জঞ্জাল পরিষ্কার করার উপায় খুঁজছেন। মহাকাশে জঞ্জাল ক্রমশ বাড়ছে৷ এ সব জঞ্জালের মধ্যে আছে হাজার হাজার পুরনো স্যাটেলাইট যা বিকল হয়ে গেছে।

অর্থাৎ এখন আর সেগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে না৷ ব্রিটিশ সাউন্ড ডিজাইনার নিক রায়ান শব্দ নির্ভর এক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন যা মহাকাশে জঞ্জাল শনাক্ত এবং সেটির অবস্থান জানাতে পারে৷ এটা বড় কোনো জঞ্জাল হতে পারে, যেমন রকেটের পুড়ে যাওয়া ইঞ্জিন৷

অধিকাংশ জঞ্জালই আকারে ছোট, তবে সেগুলো যে গতিতে ছুটছে তা বিপজ্জনক৷ তিনি বলেন, ‘‘এমনকি একটি রংয়ের ছিটেফোঁটাও যদি একটি স্যাটেলাইট বা, সৃষ্টিকর্তা না করুক আইএসএস-এ আঘাত হানে, তাহলে বিপর্যয় ঘটতে পারে৷

এটা ভূপৃষ্ঠে থাকা অবকাঠামোর জন্যও হুমকিস্বরুপ৷ কেননা আমরা কক্ষপথে স্থির স্যাটেলাইট এবং আবহাওয়া স্যাটেলাইটের উপর নির্ভরশীল৷ মহাকাশে জঞ্জাল তাই সবকিছুর জন্যই হুমকি৷”

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র বা আইএসএস-এ ইতোমধ্যে একটি স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে, যেটির নাম ‘রিমুভ ডেব্রি৷’ আইএসএস-এ পৌঁছানোর পর নভোচারীরা সেটিকে এক বিশেষ মিশনের জন্য প্রস্তুত করেছেন৷ আর তা হচ্ছে, মহাকাশ পরিষ্কার করার অভিযান৷

জঞ্জাল পরিষ্কার করার এই স্যাটেলাইট আগামী মাসগুলোতে বেশকিছু পদ্ধতি পরীক্ষা করবে৷ এর মধ্যে রয়েছে, হারপুন বা টেটা ছুঁড়ে জঞ্জাল ধরা৷ কিন্তু, এরপর কী হবে?

এটি কি ভবিষ্যতে এক ভাসমান ডাস্টবিনে পরিনত হবে? প্রফেসর গুলিয়েল্মো আলিয়েটি বলেন, ‘‘এটা অনেকটা অদ্ভূত হবে যদি জঞ্জাল পরিষ্কার করার মিশনে ব্যবহৃত একটি স্যাটেলাইট সবশেষে নিজেই জঞ্জালে পরিণত হয়৷ না, সেটা হবে না, আমরা এই মিশনের পর সবকিছুই পরিষ্কার করে ফেলবো৷”

জঞ্জাল পরিষ্কার করার এই স্যাটেলাইট কাজ শেষে নিজেই নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবে৷

স/মমি

Print Friendly, PDF & Email