আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কোন অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধী কোন ব্যক্তি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সচিবালয়ে রবিবার (৫ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কোন অবস্থাতেই বিতর্কিত ও স্বাধীনতাবিরোধী কোন ব্যক্তিকে অনুষ্ঠানে গেস্ট করা যাবে না। কোন অনুষ্ঠানেই অতিথি হিসেবে তারা যাবেন না।’

স্বাধীনতাবিরোধীদের কোন তালিকা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের কাছে স্বাধীনতাবিরোধীদের কোন তালিকা নেই। উপজেলার নেতারা জানেন কারা স্বাধীনতাবিরোধী, কারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। জেলা পর্যায়ের লোকজনও জানেন। কাজেই সেইভাবেই জিনিসটি মেইনটেইন করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি আমাদের জাতীয় পতাকা যত্রতত্র ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় পতাকার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। সেজন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা দিয়ে দেবে। পতাকার সাইজ কি হবে, কখন থেকে কখন পর্যন্ত পতাকা উড়ানো যাবে, কিভাবে পতাকা উড়বে- এ সবকিছু নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারাদেশে প্রচার করা হবে।’

‘যারা এটা মানবে না সেই বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনী তত্ত্বাবধান করবে।’

নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মাধ্যমে জাতীয় দিবসটি উৎসব মুখর পরিবেশে পালনের আশাবাদ ব্যক্ত করে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘তিনদিন টানা ছুটি আসছে। ট্যুরিস্ট প্লেসগুলোতে যথেষ্ট ভীড় হবে বলে প্রত্যাশা করছি। সেখানেও আমাদের পুলিশ বাহিনী, টুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ সজাগ থাকবে।’

তিনদিন ছুটি নিয়ে কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘না এখন পর্যন্ত কোন থ্রেট নেই। গোয়েন্দারা অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ সুন্দরভাবে দিনটি উদযাপন করতে পারবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাভার স্মৃতিসৌধ ও ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশেষ নজর থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে স্মৃতিসৌধের রাস্তাটিতে কেউ তোরণ তৈরি করতে পারবে না। আমরা আগেও দেইনি, এখনও সেটা বিধি-নিষেধের মধ্যে রয়ে গেছে। স্মৃতিসৌধ এলাকায় যে ধরণের নিরাপত্তা আমরা প্রতিবার দিয়ে থাকি, এবার ঠিক সেইরকমই থাকবে।’

সিকিউরিটি গেট, সিটিটিভি, আর্চওয়ে, কন্ট্রোলরুম গতবারের মতো এবারও স্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নৌপথে নৌপুলিশ টহলে থাকবে। বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা প্রদানে একটা স্টাবলিস্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমরা দাঁড় করিয়েছি। তাদের এলাকা থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশের স্কটের মাধ্যমে নিয়ে আসা হবে। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারা একইভাবে স্ব স্ব এলাকায় চলে যাবেন।’

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্কস্তবক অর্পণ স্থলেও নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। সব ধরণের নাশকতা এড়াতে জাতীয় দিবস পালনে আইনশৃঙ্খলা-রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবেন বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘পদাতিক ডিভিশন সাভার স্মৃতিসৌধে ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেন, এবারও তাই হবে।’

সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে। স্মৃতিসৌধ, জাতীয় স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন নেভানোর যন্ত্রসহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও প্রস্তুত থাকবেন। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবস পালনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব কামালউদ্দিন আহমেদ, বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স/শা

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন