মাঠে মন মাতালো ব্যবস্থাপনা

এলিস হক, ঝিনাইদহ হতে :
সুদূর ২০১১ সাল দিয়েই আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজও তা অব্যাহত ধরে রেখেছে ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী কেসি সরকারি কলেজ। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম মাঠে মন মাতানো খেলা উপহার দিয়েছে ব্যবস্থাপনা বিভাগের খেলোয়াড়েরা। বিশেষ করে ৯ নম্বর জার্সিধারী দলনায়ক নাসিম একাই দলকে ২টি গোল দিয়ে জিতিয়েছেন। যদিও নাসিম আজকের খেলায় হ্যাটট্রিক করার সম্ভাবনা ছিল…হয়েওছিল তার। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে গোলও পেয়ে যাচ্ছিলেন…অফসাইডের গ্যাড়াকলে ধরা পড়েন তিনি। তবুও ফুটবল গোলের খেলা হলে একাই গোল দেয়া যায়…অথচ দুর্ভাগ্যে তাঁর কপালে পিছু লাগে নাসিমের। নাসিমের পাশাপাশি ১০ নম্বর খেলোয়াড় বিশ্বজিৎ নজরকাড়া ফুটবল মুন্সিয়ানার ছাপ সবার চোখে তাক লাগিয়েছে। ১১ নম্বর খেলোয়াড় সাব্বির বলের যোগান দিয়েছে খেলাকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। ঠিক পাশাপাশি রক্ষণভাগ জোনে ২ নম্বর খেলোয়াড় তিতু ও ১৫ নম্বর খেলোয়াড় হাবিবুর যথেষ্ট আস্থার পরিচয় দিয়েছেন। ২-০ গোলে জেতা ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রতিটি খেলোয়াড়রা হাসতে হাসতে মাঠ ত্যাগ করে বাড়িতে ফিরেছেন। ২ গোল খেয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ দল প্রতিযোগিতা হতে বিদায় নিয়েছে। তবে প্রাণিবিদ্যার ৯ নম্বর খেলোয়াড় দলীয় অধিনায়ক ইমরান, ৭ নম্বর নয়ন, ১০ নম্বর পারভেজ, ১১ নম্বর সাব্বির এবং রক্ষণে ২ নম্বর স্টপার ইমরান জুনিয়রের খেলা সকলের দৃষ্টি নজর কেড়েছেন।

খেলার প্রথমার্ধে বিজয়ী দল ২-০ গোলে এগিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আর গোলের দেখা পায়নি ব্যবস্থাপনা দল।
প্রথমার্ধে ১৩ ও ২৫ মিনিটে নাসিম দলকে কাক্সিক্ষত গোল করে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার টিকিট ধরিয়ে দেন। দলীয় খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারেরা হৈচৈ করেছে। এই বিনোদন সত্যিই পোস্ট চেয়ে দেখার মতো…মাঠে নাসিমের নৈপূণ্য দুটি গোলের সুবাদে একদিকের খেলায় যথেষ্ট আনন্দ দিয়েছে। অন্যদিকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের খেলোয়াড়েরা কম হতাশ করেননি। তারাও ভালো খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বটে, তাও একেবারে একবার মাত্র ম্যাচ খেলেই বিদায় নিয়েছে এই বিভাগের খেলোয়াড়েরা।
ব্যবস্থাপনা বিভাগ : গোলকিপার ইমরান জয় ০০, রাজু আহমেদ ১, তিতু ২, মুন্না ৩, রাসেল ৪ (সোলায়মান ১২), তুষার আলী ৬, নাসিম ৯ (অধিনায়ক) (জিসান আলী ৮), বিশ্বজিৎ ১০, সাব্বির ১১, মুক্ত ১৪ ও হাবিবুর ১৫।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ : গোলকিপার জুয়েল ০০, ছোট ইমরান ২, মেজবাহ ৩, আবির ৪, মনির ৫, হানিফ ৬, নয়ন ৭, ইকরামুল ৮, ইমরান ৯ (অধিনায়ক), পারভেজ ১০ ও সাব্বির ১১।
রেফারি : শাহ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। সহকারি রেফারি : জামাল হোসেন ও রবিউল ইসলাম। ৪র্থ সহকারি রেফারি : শাহানুর ইসলাম সাগর।

দিনের অপর খেলায় উচ্চমাধ্যমিক বিভাগ দল হেসে খেলে জিতেছে রসায়ন বিভাগের বিপক্ষে। রসায়ন বিভাগ ০-৫ গোলে হেরে প্রতিযোগিতা হতে বিদায় নিলো। কোনোভাবে মাঠে দাঁড়াতে দেয়নি উচ্চ মাধ্যমিকেরা। কিংবা প্রতিরোধ তো দূরের কথা, কিক অফে বল নড়ার ৩০ সেকেন্ডের মাথায় উচ্চ মাধ্যমিকের ৯ নম্বর জার্সিধারী রফিকুল ইসলাম দর্শনীয়ভাবে গোল করে রসায়নের গোলকিপার আলামিনকে বুঝতেই দেননি (১-০)। প্রথমার্ধে ২৫ মিনিটে উচ্চমাধ্যমিকের রফিকুলের পাস হতে ৬ নম্বর খেলোয়াড় সাদেকুর গোল করেন (২-০)। প্রথমার্ধে ২৮ মিনিটে উচ্চ মাধ্যমিকের ১০ নম্বর জার্সি রায়হানুর দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন (৩-০)। দ্বিতীয়ার্ধের ৩৬ মিনিটে উচ্চমাধ্যমিকের ৫ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় ফাহিম রসায়নের ৪ জন রক্ষণভাগকে কাটিয়ে দেন এবং সামনে থাকা গোলকিপার আলামিনকে পরাস্ত করে দলের পক্ষে ৪র্থ গোল করেন (৪-০)। এবং সর্বশেষ দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫ মিনিটে উচ্চমাধ্যমিকের ১১ নম্বর বদলি খেলোয়াড় আবদুল্লাহ বিশ্বাস দলের পক্ষে ৫ম গোল দিয়ে জয়োৎসব পালন করেন (৫-০)।

উচ্চমাধ্যমিক বিভাগ : গোলকিপার তানভীর হাসান ১৪, সজীব কুমার ২, অপু জোয়ার্দার ৪, ফাহিম ৫, সাদেকুর ৬, কামরুল হাসান ৭ (অধিনায়ক), রেজোয়ান কবির ৮, রফিকুল ইসলাম ৯, রায়হানুর ১০, সজীবুর ১১ (আবদুল্লাহ বিশ্বাস ১৩) ও ফরহাদ জাহাঙ্গীর ১২ (আকাশ ৩)
রসায়ন বিভাগ : গোলকিপার আলামিন ১, কামরুল ৩ (বাবু ২), সেলিম রেজা ৪, আশিকুর ৫, সুফল ৭, ইমরান ৮, তানভির ৯, হাসিবুল ১০ (অধিনায়ক), তন্ময় কুমার ১১, রাসেল ১২ (সাজেদুল ৬৯) আলী আকবর ১৩ ও মেহেদী হাসান সুইট ১৩।

রেফারি : রবিউল ইসলাম। সহকারি রেফারি : শাহানুর ইসলাম সাগর ও জামাল হোসেন। ৪র্থ সহকারি রেফারি : শাহ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার খেলা হবে না। যথারীতি আগামী শুক্রবার ৫ই অক্টোবর’১৮ সকাল ৯টায় খেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম খেলা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বনাম ডিগ্রী বিভাগ এবং দ্বিতীয় খেলা ইংরেজি বনাম গণিত বিভাগ। (সকাল ১০টা)।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন