গৌরীপুর ময়মনসিংহ থেকে শেখ বিপ্লব :

জ্বীন আর কালী দিয়ে সকল রোগের চিকিৎসার নামে একটি প্রতারক চক্র অপ্রাপ্ত বয়স্ক মাদ্রাসার ছাত্র কাচামাল বিক্রেতা মোঃ নুরুল ইসলামের ছেলে জ্বীনের বাদশা মোঃ আমিনুল ইসলামকে (১৪) জ্বিনের বাদশা সাজিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এবার জীনের বাদশার অপচিকিৎসায় প্রান গেল জন্ম থেকে অঙ্গপ্রতিবন্ধী আরমান (১৪)। এ ঘটনাটি ঘটেছে ২৯ (সেপ্টেম্বর) শুক্রবার গভীর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিমান্তবর্তী তারাকান্দা উপজেলার বিসকা গ্রামে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একটি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আজিমপুর ইউনিয়নের কটিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী হারুন মিয়ার সাথে ট্রেনে পরিচয় হয় জীনের বাদশার মনোনিত এক দালালের। দালাল হারুনের বিস্তারিত শুনে তার জন্ম প্রতিবন্ধী ছেলে আরমান (১৪) কে সুস্থ্য করে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়। ২৮ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) অসহায় পিতা হারুন সন্তানের সুস্থ্যতার জন্য তারাকান্দা গ্রামে জীনের বাদশার কাছে নিয়ে আসে। জীনের বাদশা অঙ্গপ্রতিবন্ধীকে তার শারীরিক নির্যাতনের চিকিৎসা শুরু করে। পর দিন ২৯ (সেপ্টেম্বর) শুক্রবার রাত প্রায় আড়াইটায় ছেলেটে মারা যায়। মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আগেই সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য দীপালি রানী সরকারের সহযোগীতায় ময়মনসিংহের এক এ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে জীনের বাদশা ১৮ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে মৃতদেহটি চট্টগ্রামের পাঠিয়ে দেয়। এলাকাবাসী জানায়, রাতেই মহিলা ইউপি সদস্য দীপালি রানীর মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি নিস্পত্তি করে। এ বিষয়ে দীপালি রানীর সাথে কথা বললে তিনি সব কিছু অস্বীকার করেন। হত্যার ঘটনাটি থানা পুলিশকে অবগত করানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন থানা পুলিশকে জানানো হয়নি। এসব বিষয়ে জানতে চাওয়ায় দীপালি রানী এ প্রতিনিধির উপর ক্ষিপ্তত হয়।

বিসকা ইউপি চেয়ারম্যান আঃ সালাম সন্ডলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি বলেন আমি শহরে মিটিং এ আছি পরে তার মোবাইাল ফোনটি বন্ধ করে ফেলেন যার কারনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ্যাম্বুল্যান্স ড্রাইভার মোঃ আলম মিয়ার সহযোগীতায় প্রতিবন্ধীর পিতা হারুনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি অনেক দুর থেকে ছেলের সুস্থ্যতার জন্য গিয়েছিলাম ফিরেছি লাশ নিয়ে। আজ সন্ধ্যায় তার দাফন কাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য সত্য বলে তিনি নিশ্চীত করে কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন আমার ছেলে তো আর ফিরে আসবেনা, আমি অনেক দুর থেকে গিয়ে ছিলাম কাকে কি বলবো এটা আমার ভাগ্যে ছিল। তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুল হকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন বিষয়টি থানা পুলিশ জানেনা,আপনি বলেছেন আগামীকাল ২ (অক্টোবর) মঙ্গলবার তিনি ঘটনাস্থলে আসবো। সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উল্লেখ্য,জীনের বাদশা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গুনজর আলীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পরে তারাকান্দা থানা পুলিশ ভন্ড জীনের বাদশাকে উচ্ছেদ করে। কিন্তুু দালাল চক্রটি জীনের বাদশা আসন ঘরটিসহ প্রায় ১ কিলোঃ দুরে তার পূর্বপুরুষের ভিটায় সড়িয়ে নিয় প্রতারনার ব্যবসা আরো জমজমাট করে তোলে।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন