রাহুল রাজ

কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর মনের ‘স্থায়ী ক্ষত’ এর নাম এশিয়া কাপের ফাইনাল। শেষ ওভারে বাংলাদেশ লড়াই করে হারলেও জিতেছে ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়। ম্যাচ শেষে বিশ্বের নামিদামী ক্রিকেট বোদ্ধারা বাংলাদেশের প্রশংসায় ছিল পঞ্চমুখ। মূলত একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নানান গল্প। ভক্তদের মনে উঁকি দিয়েছে ভারতবিদ্বেষী নানা প্রতিক্রিয়া।

লিটন দাসের আউটের সিদ্ধান্ত চাওয়া হয় তৃতীয় আম্পিয়ারের কাছে। যেখানে ব্যাটসম্যানের ‘বেনিফিট অব ডাউট’ পাওয়ার কথা সেখানে আম্পায়ার জানিয়ে দেন লিটন আউট। মুলত সেই আউটের পরেই টাইগার ব্যাটসম্যানদের মনবলে চিড় ধরে। পুরো পঞ্চাশ ওভারও খেলতে পারেনি বাংলাদেশ।

২২২ রানেই ভারতকে কম্পন ধরিয়ে দিতে সক্ষম হয় টাইগার বোলারেরা। স্কোরবোর্ডে যদি আর মাত্র ১০ থেকে ১৫ টি রান হত তবে এশিয়া কাপের ইতিহাস পাল্টে যেতো পারতো।

এদিকে মুশফিক রহিম ও মাহামুদুল্লাহ রিয়াদের আউটের ধরন নিয়ে ভক্তদের মনে জেগেছে নানান প্রশ্ন। শেষের দিকে কেন বাংলাদেশ ৯ বল বাকি থাকতে অলআউট হয়ে গেল। পুরো পঞ্চাশ ওভার খেলতে পারলে স্কোরবোর্ডে হয়ত আরো দশটি রান যোগ হতে পারতো। আর সেই রানগুলোই নতুন ইতিহাস লেখতে সহযোগিতা করতো।

শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকার তার একান্ত মতে এশিয়া কাপের ফাইনাল নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘ক্ষমতার জোরে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরা রাখা ঠিক না।’ পাকিস্তানের রমিজ রাজা ফাইনালকে খুব শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বলে আক্ষা দিয়েছেন। এবং আইসিসিকে আরো একবার নিরপেক্ষ থাকার জোর দাবি জানিয়েছেন। ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছেন, একটি সিদ্ধান্ত পুরো ফাইনালের ফলাফল বদলে দিয়েছে।

ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগে বিভিন্ন ভক্ত তাদের মনের আবেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকে রাজনৈতিক কারণে এই ম্যাচের ফলাফল পূর্ব নির্ধারিত ছিল বলে যেমন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তেমনি অনেকে আইসিসিকে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কন্টোল বোর্ড হিসেবে মন্তব্য করেছে। অনেকে লিখেছেন, ইন্ডিয়া আম্পিয়ারসহ ১৪ জন বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। অনেক আবেগী ভক্ত লিখেছেন, এক এশিয়া কাপ জয় করতে না পারলে কি হয়েছে, আমাদের আছে মাশরাফির মত এমন এক শিরোপা যে নিজেই সব কিছুর উর্ধ্বে।

যখন দলে তামিমের মত ওপেনার ছিল না সাকিবের মত বিশ্বসেরা বোলার ছিল না পুরো দলের ভিতর ছিল ইঞ্জুরির মিছিল। সেই দলকে এশিয়া কাপের ফাইনালে নিয়ে গেছেন মাশরাফির মত অধিনায়ক। মাত্র ২২২ রান করেও ভারতের মত বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনাফে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিল টাগারেরা। এই লড়াকু দাপটেই বাংলাদেশ এশিয়া কাপ জয়ের স্বাদ পেয়ে গেছে।

যারা বলছে, ফাইনাল ম্যাচটি কি পাতানো ছিল! তাদের জানা উচিৎ যে দলে মাশরাফির মত অধিনায়ক থাকে সে দলে কোন দিন ম্যাচ পাতানোর কালো থাবা হানা দিতে পারে না।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন