বেশ কয়েক বছর ধরে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে যাত্রা করছে বাংলাদেশ। দরিদ্র দেশের তকমা মুছে ফেলে বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে পরিচিত অনন্ত সম্ভাবনার দেশ হিসেবে। তবে এই অবস্থানে আসার পথটি বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই কঠিন কাজটি সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন সংকটকালীন সময়ে অত্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যা বাংলাদেশ ও দেশের জনগণকে নিরাপদে রেখেছে। দেখে নিই বিভিন্ন সময়ে গ্রহণ করা শেখ হাসিনার ১০ সাহসী সিদ্ধান্ত।

১। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং আন্তর্জাতিক আপত্তি সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করা : শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় সাফল্য মানবতাবিরোধী কার্যক্রম ও গণহত্যা সংগঠনকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং প্রধান অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর করা। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা পুনর্বাসিত হয়েছিল। রাজনীতি করার অধিকার ছিল জামায়াতে ইসলামীর। এমনকি ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদদের মতো যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাঁদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এমন অনাচারের মধ্যেই শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলে ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস হয় এবং ২০১০ সালের ২৫ মার্চ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত সংস্থা ও আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়। এই বিচার প্রক্রিয়ায় গত আট বছরে জামাত ও বিএনপির শীর্ষনেতা সহ একাধিক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং কয়েকজনের ফাঁসিও কার্যকর করা হয়েছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আপত্তি জানিয়ে আন্তর্জাতিক পরাশক্তিরাও লবি করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি না দিতে প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। কিন্তু কোনো চাপই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে শেখ হাসিনাকে বাধ্য করতে পারেনি। অদম্য সাহসিকতায় শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন।

২। প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে সপরিবারে নিহত হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তাঁর খুনিরা রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বিধায় দীর্ঘদিন ধরে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। বরং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করে রাষ্ট্রযন্ত্র। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশও জারি করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ একুশ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে, ওই বছর ১২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি বাতিল বিল পাস হয়। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ২১ এপ্রিল নিম্ন আদালতে প্রচলিত আইনে শুরু হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ২৩ বছর পর বিচারিক আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে আবার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে নানান তালবাহানা শুরু হয়। আবার ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘোষণা করা আদালত। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য কোনো নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়নি, বিচার সম্পন্ন হয়েছে দেশের প্রচলিত আইনেই। দেশের প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার করা এবং খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করা ছিল শেখ হাসিনার আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত।

৩। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া: রাষ্ট্রীয় নির্যাতনে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সীমান্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেন। সারা বিশ্বের ক্ষমতাশালী সব দেশ যখন রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরবতা অবলম্বন করে, তখন শেখ হাসিনার সাহসী ও মানবিক এই সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ব এক মানবিক সংকট থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পায়। বাংলাদেশ এমনিতেই জনসংখ্যার ভারে জর্জরিত। এমন অবস্থায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া ছিল শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্ত। এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার সাহসী উচ্চারণ, ‘যদি আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি, তাহলে আরও পাঁচ অথবা সাত লাখ মানুষকেও খাওয়াতে পারব।’

৪। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর নেতৃত্বশূন্য আওয়ামী লীগের সামনে চরম দুর্দিন নেমে আসে। এমন সময় ১৯৮১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বহুধা বিভক্ত আওয়ামী লীগকে রক্ষায় হোটেল ইডেনে দলের কাউন্সিলে সর্বসম্মতভাবে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচন করা হয়। তখনো শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসতে পারেননি। কিন্তু রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা দেশ ও দলের মঙ্গলের জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বভার গ্রহণে সম্মত হন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ১৭ মে, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা যখন অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায়, তখন সেই সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশে ফিরেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। নিজের প্রাণের ভয় উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসার এবং দলের নেতৃত্বভার গ্রহণ করার সেই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত সাহসী একটি সিদ্ধান্ত।

৫। পদ্মা সেতু: নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছিল শেখ হাসিনার অন্যতম সাহসী সিদ্ধান্ত। প্রথমে কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা হবে। কিন্তু সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ এনে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায় বিশ্বব্যাংক।  প্রধানমন্ত্রী তখন বেশ জোর দিয়েই বলেছিলেন, দুর্নীতি প্রমাণ করুন; ব্যবস্থা নেব। কিন্তু কোথাও দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি বিশ্বব্যাংক। কিন্তু তারপরও প্রকল্প থেকে সাহায্যের হাত গুটিয়ে নেয় সংস্থাটি। কিন্তু স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ কিন্তু তাতে বন্ধ হয়ে যায়নি। অসীম সাহসী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেদের অর্থেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করবেন। নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা নির্মাণব্যয়ে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্ভব হচ্ছে শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্তের কারণেই।

৬। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প: রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার রামপালে অবস্থিত একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০১০ সালে জমি অধিগ্রহণ করে বালু ভরাটের মাধ্যমে নির্মানের কাজ শুরু হয় এই প্রকল্পের। সুন্দরবনের মাত্র ১৪ কি. মি. দূরে অবস্থিত হওয়ায় সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে দাবি করে প্রথম থেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে পরিবেশবাদীরা। বাম দলগুলো এই ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনও করেছে। কিন্তু দেশের বিদ্যুৎ খাতকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের অপপ্রচারের সমুচিত জবাবা দিয়ে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শেখ হাসিনা। নির্মানাধীন বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কাজ ২০২০ সালে এবং তার ছয় মাস পর দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

৭। খালেদা জিয়াকে বিচারের মুখোমুখি করা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন করা একটি কঠিন কাজ। কিন্তু খালেদা জিয়াকে সুনির্দিষ্ট অপরাধে বিচারের সম্মুখীন করে এই কঠিন কাজটিই করেছেন শেখ হাসিনা। বিচারে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। সেদিন থেকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বেগম জিয়া। এছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা, কুমিল্লায় নাশকতা মামলার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা বিচারাধীন অবস্থায় আছে।

৮। ২০১৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা: ২০১১ সালের ৩০শে জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাশ করলে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার শরিক জোটগুলো নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা পুনরায় চালু করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধান মোতাবেক বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তখন বিরোধী দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে ঘোষণা দেন এবং আন্দোলনের নামে সহিংসতা শুরু করেন। বিএনপির বোমা সন্ত্রাসে ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত ৪১ দিনে মারা গেছেন ১২৩ জন। নির্বাচনের দিন সহিংসতায় নিহত হন আরও ১৯ জন। নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামাতের সহিংস আন্দোলন তো ছিলই, সঙ্গে ছিল তথাকথিত সুশীল সমাজের সমালোচনা। ফলে অনেকেই মনে করেছিল, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন শেখ হাসিনা। কিন্তু আরেকবার অটল ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়ে সংবিধান অনুযায়ীই দশম জাতীয় সংসদ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

৯। বিডিআর বিদ্রোহের পরদিন বিডিআরদের কাছ থেকে অস্ত্র জমা নেওয়া: ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ রাইফেলস এর সদস্যরা রাজধানীর পিলখানা এলাকায় অবস্থিত বিডিআর সদরদপ্তরে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে। এই ঘটনায় দেশে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন এবং অস্ত্র জমা দিয়ে ব্যারাকে ফেরার নির্দেশ দেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণ করে ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে। এরপর বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বিদ্রোহীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অস্ত্র সমর্পণ শুরু করেন। এমন একটি হত্যাকাণ্ডের পরদিনই ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে বিডিআর বিদ্রোহীদের কাছ থেকে অস্ত্র জমা নেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে শেখ হাসিনার অন্যতম সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায়।

১০। নূর হোসেনের মৃত্যুর সময় সেই মিছিলেই ছিলেন শেখ হাসিনা: ১৯৮৭ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। সেই আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন সাহসী শেখ হাসিনা। ’৮৭ সালের ১০ নভেম্বর যেদিন নূর হোসেন মারা যায় সেদিন সেই মিছিলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও ছিলেন। নূর হোসেন শেখ হাসিনাকে একথাও বলেছিলেন যে, `আপা আপনি আমাকে দোয়া করুন, আমি গণতন্ত্র রক্ষায় আমার জীবন দিতে প্রস্তুত।` শত নিপীড়ণ-নির্যাতনের পরও গণতন্ত্রের জন্য স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছিল শেখ হাসিনার আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন