অপহরনের ৩ মাসেও মা জানেন না তার সন্তান কোথায় ?

নিজস্ব প্রতিবেদক : অপহরনের ৩ মাস পরেও মা মহছনা বেগম জানতে পারেননি তার সন্তান কোথায় কিভাবে আছে ? দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার অজপাড়াগাঁও নসরতপুর দিঘী নালার মৃত নাসির উদ্দিন ও মহছনা বেগম দম্পত্তির সহজ সরল ছেলে দেলোয়ার হোসেন(৩০)। একমাত্র কৃষিকাজই তার পেশা। এলাকার মানুষ তাকে শান্ত ভদ্র লোক হিসেবে চিনে।

তাদের উচ্চ পর্যায়ের কোন আত্মীয়, স্বজন নেই। অপহরনের কিছুদিন পূর্বে এলাকার পেশাদার দালাল ১। হাবিব (৩৫), পিতা: আব্দুল মান্নান (দুনদা) ২। বাবলু (৩৫), পিতা: কছর জালিয়া, সর্বসাং: নসরতপুর, থানা: চিরির বন্দর, জেলা: দিনাজপুর। অপহিত দেলোয়ারের বড় ভাই ও আত্মীয় স্বজনদের গিয়ে বলে তোমাদের প্রশাসনে কোন লোক আছে কিনা ? পুলিশ প্রশাসনে কোন লোক আছে কিনা ? উত্তরে তারা বলল আমরা নিরীহ মানুষ, গরীব মানুষ কৃষি কাজ করে খাই। এই কথা বলার ২/৩ তিনদিন পর উক্ত দালাল ফরমা নামে পরিচিত ঐ ২ ব্যাক্তি এসে বলে আমাদের ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা দিতে হবে, না হয় স্যারদের তালিকায় তোদের নাম ঢুকিয়ে দিব। পরে লাখ টাকাও আসতে পারবি না।

ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় ঐ দালালরা আবার এসে বলে, টাকা দে, বলছি, তখন বাধ্য হয়ে মসলেম উদ্দিন উক্ত দালালদের হাতে ১১,০০০ (এগার হাজার) টাকা তুলে দেয়। ঘটনার এখানে শেষ নয়, অপহরনের দিন ২৭/০৬/২০১৮ ইং তারিখ বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় উক্ত দালালরা এসে বলে, টাকা দিসনি, এবার মজা দেখ। এর পরপরই কয়েক ব্যাক্তি এসে কোন কথা না বলেই দেলোয়ারকে বাড়ির অদূরে ডেকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। নিরুদ্দেশ হওয়ার কয়েকমাস হলেও তারা জানেন না সে এখন কোথায় আছে? কিছুদিন পূর্বে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে ফোন করে জৈনেক ব্যক্তি জানায় দেলোয়ার কেরানিগঞ্জ জেলখানায় আছে। দেলোয়ারকে নাকি ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার নাসকতা মূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে।

তাদের পারিবারিক সূত্র জানায় দেলোয়ার জীবনে কোনদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় যায়নি এবং কোন ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত নয়। এলাকার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, তাহাকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে জানি ও চিনি। তার চরিত্র ভালো। গত ১৫/০৯/২০১৮ ইং তারিখে চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম শাহ আরও বলেন তিনি কোন প্রকার রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন না। বর্তমানে দেলোয়ারের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও শিশু কন্যা অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করছে। তার মা জানান পূর্বেও এদালালরা একই কায়দায় তার এই কৃষিজীবি ছেলেকে একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ছিলো। পরে আদালত পূর্বের ঘটনাটি আমলে নিয়ে তাকে জামিনও দিয়েছে।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন