হাফিজুর রহমান হৃদয়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ও চরশৌলমারী,রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ও মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর হাট ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত গ্রামগুলোতে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক হারে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

রোববার সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায় রাক্ষসী ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙ্গনের দৃর্শ্য। ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড় বামতীরে অবস্থিত ২ উপজেলার ১৫টি গ্রাম একযোগে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে ।

এসব এলাকার মানুষ ভাঙ্গন আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। গত কয়েক দিবে রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর বাজারের ১২টি দোকানঘর নদের ভাঙ্গনে দেবে গেছে।

এতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল আজিজ বিডিআর জানিয়েছেন।
ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলো হলো উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগুয়ারচর, দক্ষিণ বাগুয়ারর, দক্ষিণ বলদমারা পূর্বপাড়া, বাইসপাড়া, কুটিরচর(ফলুয়ারচর), বাঘমারা, চরশৌলমারী ইউনিয়নের চরইটালুকান্দা, সাহেবের আলগা, চর গেন্দার আগলা, চরঘুঘুমারী, ঘুঘুমারী, উত্তর খেদাইমারী, পশ্চিম পাখিউড়া, পাখিউড়া ও রাজিবপুর উপজেলার কোদাল কাটি ইউনিয়নের পাইকানটারী পাড়া,উত্তর কোদালকাটি,শংকর মাধবপুর মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর বাজার ,বড়বেড় চর সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবতী এলাকায় অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, কাঁচা পাকা রাস্তা, ব্রীজ, কালবার্ট, ঘর-বাড়ী, ফসলী জমি, গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন রোধে জরুরী কোন পদক্ষেপ না নিলে অদুর ভবিষৎতে রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলা পরিষদ ভবনসহ সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

খেদাইমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বিদ্যালয়টি দুই বছরে তিন বার সরিয়ে নিয়েছি। সর্বশেষ বাগুয়ারচর
গ্রামে ছিলাম দুই এক দিনের মধ্যে সরিয়ে অন্য স্থানে নিতে হবে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা নদী ভাঙনে আতঙ্কে থাকে।

রৌমারী নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সিএসডিকে এনজিওর নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবু হানিফ মাস্টার বলেন,
উদবাস্ত পরিবারের পূর্নবাসন ও নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করলে আগামী ১০বছরে মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে রৌমারী ও
রাজিবপুর নামের দুটি উপজেলা বিলেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী বলেন, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে গাছ বাঁশ ফেলে
নদের ভাঙন রোধে অস্থায়ীভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি সাথে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে রোধ করা যাচ্ছে না। এভাবে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে অদুর ভবিষৎতে মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তাঞ্চল হিসাবে পরিচিত রৌমারী উপজেলা বাংলাদেশের মানচিত্র হতে বিলিন হয়ে যাবে। অপর দিকে রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জননেতা শফিউল আলম জানান,আমি চেষ্টা করছি প্রধান মন্ত্রী ও পানি সম্পদ মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে শীঘ্রই একটা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙ্গন রোধে অস্থায়ী ভাবে বাগুয়ারচর গ্রাম রক্ষায় বাঁশের বান্ডল তৈরী করা হয়েছিল ব্যাপক ভাঙনের কারণে রক্ষা করা যাচ্ছে না। ব্রহ্মপত্র নদের পূর্ব পাড় (বামতীর) স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য ডিপিপি প্রনয়ন করে প্রেরণ করা হয়েছে একনেক সভায় অনুমোদন হলে স্থায়ী কাজ হবে।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন