ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে প্রিন্স ফার্নিচার। আসবাবপত্রের দোকান হলেও এখান থেকে পাঠানো হয় স্পেন। ‘আসেন আর উড়ে যান স্পেন’। অনেকটা এমনভাবেই সাধারণ মানুষের বিশ্বাস পুঁজি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাজেদুল ইসলাম লিটন নামের এক আদম ব্যবসায়ী।

নোয়াখালীর দুই যুবক স্পেন যাওয়ার ফাঁদে পড়ে ইউক্রেনের কারাগারে বর্তমানে মানবেতর জীবন পার করছেন। তারা হলেন_ মো. মঈন উদ্দিন (৩৩) ও কাওসার হাসান (২১)।

চমক নিউজের অনুসন্ধানী টিম বর্তমানে সাজেদুল ইসলামের প্রতারণার অনুসন্ধান চালাচ্ছে। চমক নিউজের কাছে ভুক্তিভোগীর পরিবার অভিযোগ করেন, সাজেদুল ইসলাম স্পেন নেবার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা ইসলামী ব্যাঙ্কের নবাবপুর রোড শাখায় নিজ একাউন্টে নিয়ে নেন। ফুটবল বিশ্বকাপের সময় মঈন উদ্দিন ও কাওসারকে রাশিয়াতে ‘ফ্যান কার্ড’ করে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইউক্রেনে।

এরপর তাদের অত্যাচার করে পরিবারকে বলতে বাধ্য করেন তারা স্পেন পৌঁছেছেন। ইউক্রেনে পৌঁছার পরে তারা সেখানকার পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। বর্তমানে তাদের কাছে আরো টাকা দাবি করছে সাজেদুলের দালাল চক্র। সাজেদুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফরিদ আহম্মেদ সাগর বাংলাদেশের গৌরিপুর ময়মানসিংহের বাসিন্দা। তিনি মঈন উদ্দিন ও কাওসার হাসানকে ছাড়াবার কথা বলে ইতোমধ্যে তাদের পরিবার থেকে একলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েও ক্ষান্ত হননি সাজেদুল। তাদের ছাড়াবার তো কোন ব্যবস্থা করেননি, বরং পরিবারকে উল্টো হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন। সাজেদুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তিনি অসংখ্য লোককে আলজেরিয়া, মরক্ক হয়ে স্পেন নেবার কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে ফরিদ আহম্মেদ সাগর রাশিয়াতে আত্মগোপনে রয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে ফরিদ আহম্মেদ সাগরের ময়মানসিংহের গৌরিপুরের বাড়িতে খোঁজ নিলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা-মাসহ পরিবারের সবাই আত্মগোপনে চলে গেছে। তাদের বাড়িটি বর্তমানে একটি মাদ্রাসার কাছে ভাড়া দেওয়া রয়েছে। চমক নিউজের অনুসন্ধানী টিম দালল এই চক্রের অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তিন পর্বের ধারাবাহিকে দ্বিতীয় পর্বে থাকছে আরো নতুন তথ্য। চোখ রাখুন চমক নিউজে…

 

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন