এশিয়া কাপের বাংলাদেশের এবারের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। দু’দলই পার করছে নিজেদের সেরা সময়। বাংলাদেশ যখন শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের পরাজয় উপহার দিয়েছে তখন আফগানিস্তান ৯১ রানের জয় তুলে নিয়েছে লঙ্কানদের বিপক্ষে।

ম্যাথিউস-মালিঙ্গাদের বিদায়ে বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় রাউন্ড ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে। এবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবার পালা। গত জুনে ভারতের মাটিতে এই আফগানিস্তানের বিপক্ষেই বাজেভাবে হেরেছিল বাংলাদেশ। যদিও সেটা ছিল টি-২০ সিরিজ। এবার একদিনের ম্যাচে আরব আমিরাতে মাটিতে বাংলাদেশ আফগানদের মুখোমুখি হবে। মাঠের পরিসংখ্যানে এগিয়ে আফগানিস্তান। এই আরবের মাটিতে এখন পর্যন্ত তার ম্যাচ খেলেছে ২২৭টি। যা এবারের আসরে অংশগ্রহণ করা সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। নিজেদের দেশে নিরাপত্তার কারণে আফগানিস্তানদের আরব আমিরাতের মাটিতে বেশির ভাগ ম্যাচ খেলতে হয়েছে। আর এটাই তাদের এনে দিয়েছে বিশেষ সুবিধা। আরব আমিরাতের ডে-নাইট ম্যাচের কন্ডিশন কেমন হয়, সেটি আফগানদের চেয়ে ভাল কেউ জানে না।

দিনের প্রচণ্ড দাবদাহ সামলে খেলে যাওয়ার শারীরিক সামর্থ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে আফগানরা। সন্ধ্যার পর বলের হালকা সুইং কী করে আদায় করে নিতে হয়, সেটিও যেন সবচেয়ে ভাল জানেন তারা। সেখানে বাংলাদেশ এখানে ম্যাচ খেলেছে মাত্র একটি।

আফগানদের দলের সবাই যখন তরজাতা সেখানে বাংলাদেশর স্কোয়াডে ইঞ্জুরির মিছিল। কে কার আগে ইঞ্জুরিতে পড়তে পারে সেই নিয়ে রয়েছে পালা। সেরা ওপেনার ইঞ্জুরিতে দলে নেই। তার স্থানে কে মাঠে নামবে তাও এখনো ঠিক হয়নি। আছে সাকিব আল হাসান ও শান্তর হাতে ব্যথা। সেই সাথে নতুনভাবে মুশফিকের বুকের ৯ নম্বর হাড়ে চিড় বেশ ভাবাচ্ছে নির্বাচকদের। গত দুদিনে নিজেকে সুস্থ রাখতে কমতি রাখছেন না কোন কিছুতেই। এরইমধ্যে গিলেছেন ২৫টি ব্যথানাশক ওষুধ। এই শেষ নয়, রয়েছে রুবেলের পুরাতন মেরুদণ্ডের ব্যাথার টান। সবমিলিয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

মাঠ ও পিচ বিবেচনায় আফগানদের বোলিং বনাম বাংলাদেশের ব্যাটিং যুদ্ধ দেখা যাবে ২০ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে।

আফগানিস্তানের ক্রিকেটের উত্থান যদিও নতুন নয়। এর আগে তারা জিম্বাবুয়েকে জিম্বাবুয়ের মাটিতে গিয়ে টানা দুই সিরিজে হারিয়ে এসেছে। আফগানদের উত্থানের সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশ। সত্যি বলতে কি, এবারের এশিয়া কাপে ভারত, এমনকি পাকিস্তানকেও চমকে দিতে পারে আফগানরা!

এদিকে তামিমের স্থানে নাজমুল হোসেন শান্তকে এগিয়ে রাখছে টিম ম্যানেজম্যান্ট আবার মিঠুন আলীকেও দেখা যেতে পারে লিটন দাসের সঙ্গী হতে। দলে মমিনুলকে সুযোগ দেওয়া হবে। তবে সেটা কোন স্থানে যেটা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান দু’দলই আত্মবিশ্বাসে চাঙ্গা আছে। ম্যাচ শেষে বোঝা যাবে পরিস্থিতির বিচারে কে কার মনবলে চিড় ধরাতে পারে।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন