নিজস্ব প্রতিবেদক,বাঘারপাড়া : বাঘারপাড়া সিদ্দিকীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ২জন কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দুটি পদে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আবেদনকারিদের কোন চিঠিপত্র না দিয়েই ১৭ সেপ্টেম্বও সোমবার বেলা দুইটায় পাতানো এ নিয়োগের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানাগেছে, সহকারি গ্রন্থগারিক পদে ও অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপরেটর( নিম্নমান সহকারি) পদে লোক নিয়োগের জন্য গত ৬ মার্চ ২০১৮ তারিখে দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দুটি পদের প্রথমটিতে ছয়জন ও দ্বিতীয়টিতে সাতজন আবেদন করেন। নীতিমালা অনুযায়ি পত্রিকায় সার্কুলারের ছয় মাসের মধ্যে নিয়োগ দিতে না পারলে সার্কুলার বাতিল হয়। হিসাব মতে গতকালই ছিল ছয়মাস পূর্ণ হওয়ার শেষ দিন। নিয়োগ পরিক্ষায় সহকারি গ্রন্থগারিক পদে অংশ নিয়েছেন চারজন। অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপরেটর (নিম্নমান সহকারি) পদে অংশ নিয়েছেন তিনজন।

নিয়োগ কমিটির এক সদস্য সূত্রে জানাগেছে, সময় সল্পতার কারণে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ডিজি কয়েকদিন আগে প্রকাশিত সার্কুলারে নিয়োগ বন্ধের চিঠি ইস্যু করেন। গত রবিবার এ মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান ঢাকাতে যেয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ডিজিকে ম্যানেজ করে নিয়োগের অনুমতি নিয়ে আসেন। এরপর কামরুজ্জমান এদিন রবিবার রাত নয়টায় মাদ্রসা অধ্যক্ষ মাও. হায়দার আলীকে মোবইল ফোনে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাগজ পত্র তৈরী করতে বলেন। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অপারগতা প্রকাশ করেন। পরদিন গতকাল সকাল থেকে অধ্যক্ষ কাগজপত্র তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। মোবইলে অধ্যক্ষ হায়দার আলীর সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদ্রসা পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি আব্দুস সামাদ। তিনি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য। গতকাল সোমবার সকাল ১০ টা ৪৮ মিনিটে এ বিষয়ে তার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। একটু আগে সভাপতি আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছেন, আজ নিয়োগ পরিক্ষা হবে। আবেদনকারিদের কোন চিঠি দেওয়া হয়েছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, কোন আবেদনকারিকে চিঠি দেওয়া হয়নি। কিভাবে নিয়োগ দেব তাতো বুঝতে পারছি না’।

অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপরেটর( নিম্নমান সহকারি) পদে আবেদন করেছেন মাগুরার শালিকা উপজেলার দেওয়াডাঙ্গা গ্রামের অলিয়ার রহমানের ছেলে নাজমুল হুসাইন। তিনি জনিয়েছেন, নিয়োগ পরিক্ষার বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি কোন চিঠি পাননি।
যশোর সদর উপজেলার ভায়না রাজাপুর গ্রামের বদিউর রহমানের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সহকারি গ্রন্থগারিক পদে আবেদন করেন। কথা হয় তার সাথে। সাবিনা বলেন, নিয়োগ পরিক্ষার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে কোন চিঠি দেওয়া হয়নি।
বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহম্মদ তেজারত জানিয়েছেন, ‘উক্ত দুটি পদে নিয়োগ দিতে হলে অবশ্যই আমি বিষয়টি জানবো। কিন্ত আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না’।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন