এলিস হক, ঝিনাইদহ হতে :

খেলা শুরু হওয়ার ২ ঘন্টা আগে মাঠে উপস্থিত হন। যথারীতি খেলা পরিচালনাকারীদের ড্রেস পরার প্রস্তুতিপর্ব সেরে নেন। মাঠে গিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ওয়ার্ম আপ করেন। হাতে বাঁশির সংকেত দিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের ডাকেন। দুই দলের খেলোয়াড়রা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা খেলোয়াড়দের নামের তালিকা দেখে বৈধ ও অবৈধ চিহ্নিত করেন এবং তারা এ বিষয়ে খেলা পরিচালনাকারীকে অবগত করেন। খেলোয়াড়দের খেলার জন্য বৈধ লাভের পর দুই দলের ক্যাপ্টেনকে ডাকেন। টস করার পূর্বে দুই ক্যাপ্টেনকে প্রচলিত আইন প্রয়োগ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে কিছু কথা জানিয়ে প্রকাশ করেন। খেলা পরিচালনাকারী ঐ দুই দলের ক্যাপ্টেনদের আলোচনাক্রমে কত মিনিট খেলানো হবে তাও জানান। তিনিই টস করেন। যে দল টসে জয়ী সেই সাইড নেবে নাকি সেন্টার তা খেলার বিচারককে সম্মতি-অসম্মতি জানিয়ে দেন। টস শেষে দুই ক্যাপ্টেন ও খেলার বিচারকদ্বয়ের সাথে করমর্দন করেন। সবকিছুর কার্যক্রম সম্পন্ন হলেই তারা লম্বা বাঁশি বাজিয়ে খেলা শুরু করে দেন।

প্রিয় পাঠক বুঝতে পারছেন এখানে কাদের কথা বলা হচ্ছে-বোধ করি ফুটবল রেফারিদের। ফুটবল রেফারিদের একসাথে কতগুলো প্রয়োজনীয় কাজ কিভাবে সম্পন্ন করতে হয়-যা ফুটবলবোদ্ধারা অনেকেই জানেন না। যা আইন প্রয়োগে সঠিকভাবে পরিচালনা করা রেফারিদের সবচেয়ে নৈতিক দায়িত্ব। সুচিন্তিত মতামতের আর প্রয়োজন পড়ে না। রেফারি প্রচলিত আইনের উপর অনুসরণ করেন। মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে রেফারি সব সময়ে কঠোরহস্তে খেলা পরিচালনা করেন। যাদের নিয়ে এতো বর্ণনা করা হলো, আসলে রেফারিরা মাঠের ফিল্ড মার্শাল। সামরিক পদমর্যাদায় এরা ঐ কাতারের মধ্যে পড়েন। এই তো গেলো একটি বিষয়ের অবতারণা। আরেকটি বিষয় এখানে চলে আসবে তাহলো ঝিনাইদহের ফুটবল রেফারিরা কেমন আছেন?

এদেশে একটি প্রবাদ চালু আছে-‘বাংলাদেশের কিছু মানুষের ফুটবল জ্ঞান দেখলে নাক-কান দিয়ে ধোঁয়া বের হওয়ার উপক্রম হয়’! এটিকে সামনে রেখে নিশ্চয়ই করে বলতে হয় যে, ঝিনাইদহের ফুটবল রেফারিরা ভালো আছেন। একটি ফুটবল খেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারলে বলা হয়-ম্যাচ ভালো হয়েছে। খেলার শৃঙ্খলাও ভালো হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। এদেশে খুব কমই লোক আছে যারা রেফারিদের সুনামের কথা বলেন।
গ্রামে গঞ্জে আরেকটি বাংলা প্রবাদ রয়েছে-‘যাকে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা’। তেমনটি ধরে নেয়া হলেও এটা আসলে আমাদের বাঙালির ‘বিচার মানি তালগাছ আমার’ মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। মাঠে অবস্থান অধিকাংশ দর্শক খেলা দেখতে আসেন নিজেদের চিত্তবিনোদন ও আনন্দ পেতে। মনোরঞ্জন প্রকাশ করতে। এটাই ফুটবলের ধর্ম।

রেফারিরা সৎ ও নিরপেক্ষভাবে খেলা পরিচালনা করেন-এটা ফিফার রুলস বিধিতে উল্লেখ রয়েছে। রেফারিরা এমনি রেফারি হন না।
ফিফা পরিচালক বা বিচারকদের ‘ফিল্ড মার্শাল’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন-এ কথা আগেই বলা হয়েছে।। অর্থাৎ মাঠের ফিল্ড মার্শাল হলেন ফুটবল রেফারিরা। তারা এমনি অর্থাৎ ফুটবল আইনের বই পড়ে রেফারি হন না। ফিফা প্রণীত আইন কানুনের সমস্ত থিউরি রুলস ও প্রাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে হয় রেফারিদের। লিখিত, মৌখিক ও ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হয়। সেই ব্যবস্থা করে দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে বাংলাদেশ ফুটবল রেফারি এসোসিয়েশন। এখান হতে যারা রেফারি পরীক্ষা পাশ করে আসেন তারাই হন প্রকৃত ফুটবল রেফারি হওয়ার। এই তালিকায় আছেন ঝিনাইদহের প্রকৃত ফুটবল রেফারির সংখ্যা প্রায় ১০/১২ জন। এর বাইরে আরো কয়েকজন পাশকৃত ফুটবল রেফারি আছেন।

ঝিনাইদহ জেলা ফুটবল রেফারি এসোসিয়েশন রয়েছে। যা বাফুফে দ্বারা এই জেলা ফুটবল রেফারিকে অনুমোদিত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। জেলা ফুটবল রেফারি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রেফারি শাহ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অধীনস্থ ফুটবল রেফারি ট্রেনিং কোর্সে অংশ নিয়েছেন বহুদিন পূর্বে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি খেলা পরিচালনায় অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রচুর সুনাম কুড়িয়েছেন। বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন। পেশায় তিনি একজন সফল শিক্ষক।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন