রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখানে সিনিয়র জুনিয়রদের মধ্যে “তুই” সম্মোধন করাকে নিয়ে কিশোর মেহেদীকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে শনিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ।

রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এর মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সাইফ, মনির, আরাফাত, সাইফুল, মেহরাব, আপেল, সিফাত, সোহেল।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি ব‍্যবহারিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এবং এই মামলার প্রধান আসামি সাইফ এর কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।

মাসুদুর রহমান বলেন, এই তুই বলার জের ধরে শান্ত গ্রুপের ছেলেরা আরাফাত গ্রুপের কাউসারকে মারধর করে। এরপর ১৮ আগস্ট আবারও শান্ত গ্রুপের সদস্যরা আরাফাত গ্রুপের সাইফকে মারধর করে। এর পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩১ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রোগ্রামে মিছিল নিয়ে আসার পথে মেহেদীর ওপর হামলা চালায় আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা। আসামিদের মধ্যে সানি ও সোহেল মেহেদীকে জড়িয়ে ধরে এবং সাইফ চাকু দিয়ে মেহেদীর বাম কানের নিচে স্টেপ করে। এবং অন্যরা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়। এই মামলায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও নিজস্ব ইন্টিলিজেন্স ব্যবহার করে গতকাল আসামিদের সিলেট ও দিনাজপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি জানান, আসামিদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দক্ষিণখান থানাধীন চেয়ারম্যান বাড়ির ইউপির নগরিয়া বাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সিনিয়ার জুনিয়ারদের মধ্যে প্রায় দ্বন্দ্ব এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে শান্ত আরাফাত গ্রুপের মধ্যে প্রায় হাতাহতি ও মারামারি হয়। তারই জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড।

তিনি বলেন, এ এলাকায় উঠতি বয়সী ছেলেরা বেশ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত। গ্রুপ গুলো হলো- জিম জিয়াদ গ্রুপ, শান্ত গ্রুপ, আরাফাত গ্রুপ, কামাল গ্রুপ, আনছার গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এরাই এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ড সহ নানা ধরনের অপরাধে সঙ্গে জড়িত।

উল্লেখ্য, ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরায় সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কিশোর মেহেদী হাসানকে (১৭) পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আহত অবস্থায় মেহেদীকে প্রথমে কেসি হাসপাতাল ও পরবর্তীতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেই দিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করে।

আরআর

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন