ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ১২ আগস্ট’২০১৮

ঝিনাইদহে দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আজাদ রহমানের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। রোববার বিকেলে শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়।
ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কালীগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক বিশ্বাস আব্দুর রাজ্জাক, দৈনিক নবচিত্র পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম, নবচিত্রের উপদেষ্টা সম্পাদক মোস্তফা আব্দুল জলিল, আনোয়ারুল ইসলাম রবি, দৈনিক লোকসমাজ প্রতিনিধি এম শাহজাহান আলী সাজু, সমকাল প্রতিনিধি জামির হোসেন, বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন এবং সমাজের কথার প্রতিনিধি নয়ন খন্দকার, মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি আনিসুর রহমান মিঠু মালিথা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আজাদ রহমান প্রথম আলোর শুরু থেকে সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে যাচ্ছেন। তার লেখনির মাধ্যমে জেলাবাসী অনেক উপকৃত হয়েছেন। অথচ কৃষি বিভাগের উপজেলা পর্যায়ের একটি অনিয়মের খবরকে কেন্দ্র করে তার নামে ১২ টি মামলা দেওয়া হয়। সংবাদ নিয়ে সৃষ্ট ১০টি মানহানির মামলা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। চাঁদাবাজির দুইটি মামলা এখনও চলমান আছে। এই মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কৃষি বিভাগ নানাভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানোর। এ জন্য তারা বাদি-সাক্ষীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানা ভাবে প্রভাব বিস্তাব করছেন। সরকারের একাধিক মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বাদি-স্বাক্ষীদের ভয় দেখানোর হচ্ছে। মিথ্যা স্বাক্ষ্য দেওয়ানোর চেষ্টা চলছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সৎ সাংবাদিকতার অন্তরায়।
বক্তারা আজাদ রহমানের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালে দায়ের হওয়া এই মামলাগুলো স্থানীয় কিছু ব্যক্তিকে ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগের চাপের মুখে তারা এই মামলাগুলো করতে বাধ্য হন। পরবর্তী সময়ে তারা মামলাগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করেন। এক সময় সংবাদটি মিথ্যা মর্মে অভিযোগ এনে দায়ের হওয়া মানাহনির ওই ৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যায়। ঢাকায় প্রেস কাউন্সিলে দায়ের হওয়া মামলাটিও নিষ্পত্তি হয়। যেগুলো থেকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও নিজস্ব প্রতিবেদক আজাদ রহমান মুক্ত হন। এদিকে পত্রিকার খবর নিয়ে দায়ের হওয়া ১০টি মামলা নিষ্পত্তির হয়ে যাবার পর মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা নিয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগ নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছেন।
তারা এই মিথ্যা মামলায় সাংবাদিককে ফাঁসানোর জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন দপ্তরে সরকারের একাধিক মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে মামলাটিতে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। বাদি ও স্বাক্ষীরা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই মর্মে আদালতে স্বাক্ষ্য দেওয়ার পরও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভয় দেখিয়ে তাদের দিয়ে আবারো মিথ্যা স্বাক্ষ্য দেওয়ার চেষ্টা করছে কৃষি বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা।
আর এই তৎপরতা বাস্তবায়নে ওই বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা সংবাদ নিয়ে সৃষ্ট মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তারা সাংবাদিককে ফাঁসানোর জন্য নতুন করে বাদি-স্বাক্ষীদের উপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। বাদি ও স্বাক্ষীকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়ে হলেও সাংবাদিককে ফাঁসাতেই হবে, অন্যথায় আপনাদের সমস্যা হবে।
মানববন্ধনে সাংবাদিকবৃন্দ আরো বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিষয়টি দেখবেন, এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। আর এটা না হলে ঝিনাইদহের সাংবাদিকরা হতাশ হবেন, তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে উৎসাহ হারাবেন।

স/জনী

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন