মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীতা জেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক আব্দুল বাতেন দলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারনা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তৃনমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা- সমালোনা। তৃনমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মুন্সীগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক আব্দুল বাতেন নিজেকে মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনের জাতীয় পার্টির একমাত্র মনোনিত প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা দিয়ে লাঙ্গল প্রতিকে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে বাতেন বিভিন্ন সময়ে পোষ্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে লাঙ্গল প্রতিকে নিজের জন্য ভোট চেয়েছেন এবং আগামী নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করার জন্য ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে করে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে সাধারন ভোটারও কর্মী সমর্থকরা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়েও নিজেকে দলীয় মনোনিত প্রার্থী ঘোষনা এবং ব্যানার ফেষ্টুন লাগিয়ে দলীয় প্রতিকে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারনা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নীতিনিধারক ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী রিতিমত বোকা বানিয়েছেন এই নেতা। সরেজমিনে মুন্সীগঞ্জ ও গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, শত শত পোষ্টার , ব্যানার ও ফেষ্টুন গাছে এবং দেয়ালে ঝুলে রয়েছে । এছাড়াও মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের প্রবেশ মুখ, ডিসি এবং এসপি অফিসের সামনেও গাছের মধ্যে ঝুলে আছে ব্যানার ফেষ্টুন। ব্যানার ফেষ্টুনগুলোতে লিখা রয়েছে পল্লীবন্ধু হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সালাম নিন জাতীয় পার্টিতে যোগদিন। আসন্ন ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ – গজারিয়া ৩ আসনে জাতীয় পার্টির একমাত্র মনোনিত প্রার্থী মুন্সীগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল বাতেনকে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিন । এলাকার সেবা করার সুযোগ দিন।

মুন্সীগঞ্জ – গজারিয়া আসনের জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আব্দুল বাতেন লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চাচ্ছে এবং নিজেকে একমাত্র মনোনিত প্রার্থী হিসাবে দাবি করে। শুধু তাই নয় আব্দুল বাতেন একজন আদম বেপারী। প্রতিবছর হজ্ব পালনের নামে লোক নিয়ে সৌদি আরবে যায় এবং সেখানে তাদের রেখে চলে আসে। এ বছরও এর কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। তিনি ঢাকার ফকিরাপুলে একটি এজেন্সি অফিসে বসে আদম ব্যবসা পরিচালনা করে। ইতিমধ্যে আব্দুল বাতেন শত শত লোক হজ্বের নামে সৌদি আরবে পাঠিয়েছে হাতিয়ে নিয়েছে লক্স লক্ষ টাকা। তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোক পবিত্র হজ্ব পালন শেষে আর দেশে ফিরে আসেনি। তিনি ওমরা হজ্বের নামে সারাবছরই সৌদি আরব লোক পাঠায় । তাছাড়া কাতার, দুবাইসহ আরো কয়েকটি দেশে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভ্রমন ভিষায় বিদেশ লোক পাঠানোর ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই পালিয়ে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছে । বাংলাদেশে তাদের স্বজনরা রয়েছে উৎকন্ঠায়।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাদের সাথে ফেনালাপকালে তারা জানান, কোন জেলায় এখনও কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। আমাদের দলের পার্টির চেয়ারম্যান আগামী আগষ্ট মাসের শেষ দিকে মনোনয়ন ফরম বিতরন করবে ।এখন যদি কেউ নিজেকে দলের একমাত্র মনোনিত প্রার্থী বলে প্রচার করে সেটা হলো অপ- প্রচার । যা দলের জন্য ক্ষতিকারক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুল বাতেন বলেন, আমার ছাড়া এই আসনে দাঁড়ানোর মত কারো বুকের পাটা আছে? । এই আসনে আমার বিকল্প জাতীয় পার্টিতে আর কাউকে দেখিনা । এরশাদ সাহেব আমাকে বলেছে মনোনয়ন আমাকেই দিবে । মনোনয়ন দেওয়া এখনও শুরু হয়নি আপনি কিভাবে একমাত্র মনোনিত প্রার্থী লিখেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বাতেন বলেন, এরশাদ সাহেব আমাকে অনেক ভালোবাসে আমি আবেগে লিখে ফেলেছি । আমার ভুল হয়েছে আর এমনটা হবে না । আদম ব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল বাতেন বলেন, আমি ফকিরাপুলে একটি এজেন্সিতে বসে সময় কাটাই । তবে আমি টুকটাক কয়েকজন আতœীয় স্বজনকে বিদেশ পাঠিয়েছি । আপনি অনেক লোকদের সৌদি পাঠিয়েছেন তারা সেখানে পালিয়ে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করিতেছে । জবাবে আব্দুল বাতেন বলেন, আমি হজ্ব পালনের জন্য শুক্রবার সৌদি আরবে চলে যাচ্ছি । দেশে এসে এ ব্যাপারে আপনার সাথে কথা হবে বলে ফোন কেটে দেন।
স/রহ

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন