এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জ:মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ভবেরচর খাল হতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্রের লাশ উদ্ধার ও হত্যাকারীদের আটকের ঘটনায় মিডিয়া ব্রিফিং করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, সাইদুর রহমান পায়েল হত্যার ঘটনায় হানিফ পরিবহনের বাসচালক জালাল, সুপারভাইজার ফয়সাল ও সহকারী জনিকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আটক সুপারভাইজার ফয়সাল। মৃতভেবেই পায়েলকে গজারিয়া বাটেরচর বীজ্রের সামনে একটি খালে ফেলে দেয় সুপারভাইজার ফয়সাল ।

গত ২১ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে হানিফ পরিবহনের বাসে চড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএর পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাইদুর এবং তাঁর রুমমেট ও বন্ধু আকিমুর রহমান আদর। বাসটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে যানজটে পড়ে। বাসযাত্রী সাইদুর প্রস্রাব করতে বাস থেকে নিচে নামেন। বাস দ্রুতত টান দিলে পায়েল বাসের দরজার সঙ্গে জোরে ধাক্কা খায়। নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। বাসের চালক, চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার ধারণা করেন, পায়েল মারা গেছেন। বিষয়টি নিয়ে ঝামেলার আশংকায় তারা ভাটের চর খালে ফেলে দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। লাশটি ভেসে ভাটেররচর সেতুর নিচে চলে আসে।
পরে ২৩ জুলাই সোমবার সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবের চর খাল থেকে সাইদুরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিবারের সদস্যরা এসে তার লাশ সনাক্ত করে ও নিহতের মামা গোলাম সোরয়ারদী বাদী হয়ে ৩জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ২৫জুলাই আসামী ৩জন কে আটক করে গজারিয়া থানা পুলিশ।

প্রেসব্রিফিংয়ে নিহত সাইদুর রহমান পায়েলের বন্ধু হাকিমুর রহমান আদর জানান, কুমিল্লা পর্যন্ত আমরা এক সঙ্গে ছিলাম। আমরা বাসে ঘুমিয়ে ছিলাম। পিছনের সিটে বসা ছিলো পায়েল। ঘুম ভাঙ্গলে পায়েলকে দেখতে পা পেয়ে বাসের হেলপারকে জিজ্ঞাসা করি । হেলপার জানান পায়েল প্র¯্রাব করতে নেমে পড়েছিলো পড়ের বাসে চলে আসবে । বাস থেকে নেমে অনেক অপেক্ষা করলেও পায়েল ফিরে আসেনি। পরে খবর পেলাম গজারিয়া উপজেলার ভাটের চর সেতুর নিচে তার লাশ পানিতে ভেসে আছে।
স/রহ

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন