ওরা (বিএনপি) যখনই ক্ষমতায় এসেছে শুধু ধ্বংস করেছে। মানুষ হত্যা ও লুটপাট করেছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের কল্যাণে কাজ করছে এবং করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ গড়ে ওরা (বিএনপি) ধ্বংস করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে পাবনার পুলিশ লাইন মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামাত হাজার হাজার মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অনেক সরকারি স্থাপনা ধ্বংস করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আজকে আমি সব হারিয়েছি, শুধু আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমার বাবা চাইতেন এই বাংলার মানুষ ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন, আপনাদের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আগামী নির্বাচনে আপনারা যদি নৌকায় ভোট দেন তাহলে ক্ষমতায় আসবো। আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাব। নৌকায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন কি-না হাত তুলে দেখান। যে ওয়াদা আপনাদের কাছে করেছি, সে ওয়াদা আমরা নিশ্চয়ই পূরণ করবো।

তিনি আরো বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশ, কারো কাছে ভিক্ষা করে চলবো না। জাতির পিতা বলেছিল, সাড়ে সাত কোটি মানুষকে কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব। বাংলাদেশকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে নাই, দাবিয়ে রাখতে পারবে না। জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা দেশকে ধ্বংস করতে জানে, দেশকে কিছু দিতে জানে না। এতিমের টাকা, আপনারা জানেন এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার বিষয়ে কোরআন শরীফেও নিষেধ আছে। এতিমের টাকা এতিমকে দেয় নাই। নিজে আত্মসাৎ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আজকে জেল খাটছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষকে দিতে জানে। আর ওরা জানে খুন, হত্যা, ধর্ষণ। আমরা তো প্রতিশোধ নিতে যাইনি। আমরা প্রতিটা সময় কাজে লাগিয়েছি মানুষের উন্নয়নের জন্য।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের ফার্স্ট কংক্রিট ঢালাই কাজের উদ্বোধন, পাবনাবাসীর স্বপ্নের রেললাইন উদ্বোধন, পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০০ রোগী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনসহ ছোটবড় ৪৯ টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাবনাবাসীর জন্য এগুলো তিনি উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছেন।

এর আগে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেন জনগণের জন্য কোনও ঝুঁকি সৃষ্টি না করতে পারে, সেদিকে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে কিছু মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে। কারণ এখানে নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরাও এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। এটি নির্মাণে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গাইডলাইন ও আন্তর্জাতিক মান অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২১ মে পারমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে চুক্তি হয় মস্কোতে। আর ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দুই হাজার চারশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার দুটি চুল্লি নির্মাণে রাশিয়ার এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী প্রথম ইউনিটের মূল নির্মাণ কাজের (এফসিপি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। চুক্তি অনুসারে এটি নির্মাণের জন্য সাড়ে পাঁচ বছর সময় পাবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। সে অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুনে কেন্দ্রটির এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে একই ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ার কথা।

আরআর

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন