হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের তালমায় সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণের পর নৃশংসভাবে খুন হওয়া সেই আলাউদ্দিন মাতুব্বর অন্তরের (১৪) পরিবারের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যা মামলার আসামীদের স্বজনেরা বাদি হয়ে পৃথক পৃথকভাবে ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এসব মামলা দায়ের করেছেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ৭ জুন সন্ত্রাসীরা অপহরণের পর নৃশংসভাবে খুন করে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের তালমা নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র চর মানিকদি পাগলপাড়া গ্রামের গ্রীস প্রবাসী আবুল হোসেন মাতুব্বরের ছেলে অন্তরকে। এরপর ফিল্মি ষ্টাইলে লাশ গুম ও মুক্তিপণ আদায় করে।
এ ঘটনায় ১৬ জনকে আসামী করে প্রথমে একটি অপহরণ মামলা হয়। ২৬ জুন রাতে অন্তরের মৃতদেহ উদ্ধারের পর ওই অপহরণ মামলা এখন হত্যা মামলা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

এ মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। যাদের নিকট থেকে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে অন্তর হত্যাকান্ডের নৃশংস ও লোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, হত্যার আগে অন্তরের চোঁখ উপড়ে ফেলা হয়। এরপর জীবন্ত অন্তরকে উপুড় করে মাটিতে গেড়ে রাখা হয়। এসময় জীবন ভিক্ষা চেয়েছিলো অন্তর। দাদার নিকট থেকে ২০ লাখ টাকা এনে দেবে বলেছিলো। বিনিময়ে জীবন ভিক্ষা চায়। কিন্তু এতে মন গলেনি খুনিদের।
এর আগে পুলিশের উপস্থিতিতে অন্তরের পরিবারের নিকট থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে খুনিরা।
এরকম একটি জঘন্য হত্যাকান্ডের ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় হয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অন্তরের মৃতদেহ উদ্ধারের পর আসামীদের বাড়ি ভাংচুর করে এবং আসামীদের স্বজনদের কয়েকজনকে গণধোলাই দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। এসব ঘটনাকে পুঁজি করেই এসব পাল্টা মামলার অবতারণা বলে জানায় নিহতের স্বজনেরা।

জানা গেছে, অন্তর হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামী মাহবুব (৩২) ও জুবায়েরের (২৮) ভাই রাসেল (২৫) বাদি হয়ে নিহত অন্তরের পরিবার ও স্বজনদের ২২ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে। দন্ডবিধির ১৪৩/১৪৮/৪৪৮/৪২৭/৩২৩/৩৮০/৪৩৫/৪৩৬/৩৮৫/৫০৬(বি)/১১৪ ধারায় রুজ্জুকৃত এ মামলায় বেআইনী জনতাবদ্ধ হয়ে ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকার মালামাল লুটপাট, চাঁদা দাবি ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে অন্তরের স্বজনদের বিরুদ্ধে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপারকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অন্তর অপহরণ মামলায় অন্যতম আসামী খোকন মাতুব্বর (৩৫) ও আজাদ মাতুব্বরের ((৪০) পিতা বিলনালিয়া গ্রামের শেখ মোবারক (৬২) বাদি হয়ে নিহত অন্তরের পরিবার ও স্বজনদের ২৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দন্ডবিধির ১৪৩/১৪৮/৪৪৮/৩২৩/৩৭৯/৪২৭/৩৮০/৩৮৫/৪৩৬/৫০৬(বি)/১১৪ ধারায় রুজ্জুকৃত এ মামলায় বেআইনী জনতাবদ্ধ হয়ে ৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকার মালামাল লুটপাট, মারপিট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিআইও ওয়ানকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অন্তর অপহরণ মামলার আসামী পিপরুল গ্রামের রফিক (৩২) ও মাসুদের ((২৫) বোন রুনা আক্তার বাদি হয়ে দায়েরকৃত অপর মামলায় অন্তরের পরিবার ও স্বজনদের ৩৫ জনকে আসামী। দন্ডবিধির ৪৪৮/৩২৩/৩৭৯/৩৮০/৪২৭/৪৩৬/১১৪ ধারায় রুজ্জুকৃত এ মামলায় বেআইনী জনতাবদ্ধ হয়ে প্রায় ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার মালামাল লুটপাট, হত্যাচেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত এ মামলার তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন।

অপর একটি মামলার বাদি হয়েছেন অন্তর অপহরণ মামলার আসামী ছলেমান বেপারীর (২৮) ভাই রেজাউল মাতুব্বরের স্ত্রী রেখা বেগম (২৯)। দন্ডবিধির ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৪২৭/৪৩৬/৩৮০/৫০৬(বি)/১১৪ ধারায় ৩৪ জনকে আসামী করে রুজ্জুকৃত এ মামলায় ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকার মালামাল লুটপাট, মারপিট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্তপূর্বক নগরকান্দা থানার পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিহত অন্তরের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা অন্তর হত্যার বিচার চাই। কিন্তু এখন আমাদের বিরুদ্ধেই পাল্টা মামলা করেছে আসামীদের লোকেরা। আমরা এসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও হত্যাকারীদের বিচার চাই।

আরআর

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন