নিজস্ব প্রতিবেদক : মিরপুর চিরিয়াখানা সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে এক মুক্তিযোদ্ধার কন্যা রেখা (৪১)কে উচ্ছেদ্যে করে, তার বাড়ীটি দখলে নেওয়ার জন্য একটি বিশাল চক্র ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। রেখা স্বামী সন্তান হারা অসহায় নারী। ভূমি দস্যু ও জালিয়াতরা সে সুযোগ নিচ্ছে। সাথে সাথে মাঠ প্রর্যায়ের প্রশাসনের কিছু লোক এ যৌথ অপকর্মে জড়িত রয়েছে। ইতিমধ্যে তারা রেখার বাড়ীর অনেক অংশ ভেঙ্গে ফেলেছে। রেখা প্রশাসনের কাছে ও বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, আমি রেখা (সাহেরা খাতুন) (৪১), স্বামী: মৃত: সোলেমান মিয়া, মাতা: মৃত: নূর জাহান, পিতা: মৃত: দৌলত আলী (মুক্তিযোদ্ধা), ঠিকানা: বাড়ি নং: ৫/২ (ক), মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, থানা: শাহ আলী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬, জেলা: ঢাকা। গভীর দুঃখ বেদনার সাথে প্রতিকার পাওয়ার প্রত্যাশায় আরজি পেশ করছি যে, আমার স্বামী: মৃত: সোলেমান মিয়া, পিতা: মৃত: আব্দুল মজিদ মিয়া, ঠিকানা: বাড়ি নং: ৫/২ (ক), মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, থানা: শাহ আলী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬, জেলা: ঢাকা। আমার স্বামী মৃত্যুর পূর্বে উক্ত ঠিকানার বাড়িটি (২.১৫ শতাংশ) ভূমিসহ ৭টি রুম আমার নামে বরাদ্দ দিয়ে যান। স্বামী গুরুতর অসুস্থ হলে তাহার চিকিৎসার জন্য আমি সর্বমোট ৭,০০,০০০ (সাত লক্ষ) টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে ও আমার চাকরির জমানো টাকা থেকে তাকে প্রদান করি বিনিময়ে আমার স্বামী ভূমিসহ উক্ত বাড়িটি আমার কাছে বিক্রি করে ও আমার নামে বরাদ্দ দেন। আমি অদ্যাবদি উক্ত বাড়িতে বসবাস করে আসছি।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমানে আমাকে এই বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য কতিপয় ব্যক্তি নানাভাবে হুমকি দিয়ে চলেছে। বিবাদী ১। আবুল কালাম (বাঙ্গালী) (৪৫), পিতা:মৃত আব্দুল মজিদ মিয়া, ২। আমিনুল ইসলাম জয় (২৫), ৩। মোঃ আল-আমিন (৪০), উভয় পিতা: মৃত: সোলেমান মিয়া, ৪। মোঃ ইউনূস (৩৫), পিতা: অজ্ঞাত, ৫। আবেদা বেগম (৪৫), পিতা: অজ্ঞাত, ৬। নেপাল সরকার (৩৫), পিতা: পরেশ চন্দ্র সরকার, ৭। খোরশেদ আলম সাগর (৩০), পিতা: মোঃ হাশমত আলী, ৮। ইলিয়াস আলী (৪০), পিতা: অজ্ঞাত। ৯। হিরা মিয়া, পিতা: মৃত: মমতাজ উদ্দিন, ১০। স্বপন মালাকার, পিতা: মৃত: সুরেশ মালাকার, মাতা: কিরন মালা, ১১। আরো অনেকে, সর্ব ঠিকানা: বাড়ি নং: ৫/২ (ক), মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, থানা: শাহ আলী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬, জেলা: ঢাকা।
এরা সমবেতভাবে আমার উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দিন আগে সকাল আনুমানিক ১০.০০ ঘটিকায় ১ নং আসামী আবুল কালাম বাঙ্গালী আমার উক্ত বাড়িটির দক্ষিন দিকের বাথরুম গোসল খানা ভেঙ্গে দেয়াল নির্মান করে দখল করছে। তাকে বাধা দিতে গেলে সে আমাকে হত্যার হুমকি দেয় এবং বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করবে বলে জানায়। ২নং আসামী আমিনুল ইসলাম জয় আমাকে লাঠি শোঠা নিয়ে মারতে আসে। ৩নং আসামী আল-আমীন আমার বেড রুমের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেছে। ৪নং আসামী ইউনূসকে নতুন দেয়াল নির্মানে বাধা দেওয়ায় সে আমাকে শাবল দিয়ে মারতে আসে। ৫নং আসামী আবেদা বেগম আমার বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। উল্লেখিত সন্ত্রাসী ও জবর দখলকারীদের যোগসাজসে আমার দালিলিক চুক্তিতে আবদ্ধ ভাড়াটিয়া ৬ নং আসামী নেপাল সরকার ও ৭ নং আসামী খোরশেদ আলম সাগর আমার দোকানের ভাড়া আত্মসাৎ করেছে। ৮ নং আসামী ইলিয়াস আলী আমার মাথার চুল ধরে বাসা থেকে টেনে হিচরে আমাকে বের করে দিয়েছে। ৯ নং আসামী হিরা মিয়ার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমার বাসার যাবতীয় মালামাল টাকা পয়সা ফার্নিচার ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করেছে। ১০ নং আসামী স্বপন মালাকার আমাকে অপহরন করার ও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছে।

আমার মুক্তিযোদ্ধা পিতা ও স্বামী না থাকায় উক্ত সন্ত্রাসীগন আমার বাড়িটি দখল করেছে। তারা যেকোন সময় আমাকে হত্যা ও গুম করতে পারে।

 

আরআর

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন