এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমের কামলাঘাটে অবস্থিত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছ বাজারটি ধ্বংসের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ অসাধু কিছু আড়ৎতাদারের বিরুদ্ধে। সুত্রে জানা গেছে, শত বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী এই মাছ বাজারটি প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার মাছ বিক্রি হতো। সরকার বছরে এই হাট থেকে কোটি টাকা রাজস্বও আদায় করে। প্রায় ৭ বছর পূর্বে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য কিছু অসাধু আড়ৎদার মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে ইজারা বন্ধ করে দেয়। সেই মামলায় দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর পৌরসভার পক্ষে রায় হয়। আড়ৎদার পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্টে আপীল করে। উচ্চ আদালতে আপীল মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে । দীর্ঘদিন ইজারা বন্ধ থাকায় কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। বর্তমানে বাজারের কিছু আড়ৎতার বাজারটি সরিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনে নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে । বাজারটি সংলগ্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে তিনতলা ভবন নির্মাণ করে সংঘবন্ধ চক্রটি । ভবনটির কাজ শেষ হলে মাছ বাজারটি সেখানে সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েন স্থানীয়রা। নতুন এই ভবনে যাওয়ার জন্য সরকারী জমির মাটি কেটে সরকারী জমির উপর দিয়ে একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণও করেছে আড়ৎতাররা । বাজারটি পঞ্চসার ইউনিয়ন এলাকাতে নিতে পারলে আড়ৎতাররা সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত ব্যবসা চালাতে পারবে। সরকারকেও কোন রাজস্ব দিতে হবেনা এমন চিন্তা মাথায় নিয়ে বাজারটি সরিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছেন মাছের কতিপয় আড়ৎররা। এমনটাই আশংকা করছেন সাধারন ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মাছ ব্যবসায়ী জানান, বাজারটি ধবংস করার জন্য উঠে পুড়ে লেগেছে কিছু অসাধু আড়ৎতার। চক্রটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে একটি ভবন তৈরী করেছে । উদ্দেশ্য বাজারটি স্থানান্তর করা। বাজারটি এখান থেকে সরিয়ে নিলে হারিয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী মাছ বাজারটি।
এ ব্যাপারে রিকাবীবাজার মাছের আড়ৎদার সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, বর্তমানে বাজারটিতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয় । তবে আমরা শুনতেছি বাজারটি অন্যস্থানে সরিয়ে নিবে। স্থান ত্যাগ করলে এই বাজারটির ব্যবসা বানিজ্য নষ্ট হয়ে যাবে। সারদেশে এই বাজারটির ব্যাপক সুনাম রয়েছে সেটা নষ্ট হয়ে যাবে।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে রিকাবি বাজার মাছের আড়ৎতার সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী আলী আকবর হোসেন বলেন, যারা আপনাদের কাছে অভিযোগ করেছে তাদের খবর আছে । এই বাজারের সাথে আমাদের ভবনের সম্পর্ক কি? আমরা আড়ৎদারা নিজেরা জমি কিনে সেখানে ভবন করেছি । সেখানে আমরা পাইকারী মাছের ব্যবসা করবো ।
মিরকাদিম পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই বাজারে পাইকারী মাছ বিক্রি হয় । বাজারটি আগে ইজারা হতো পরে কিছু আড়ৎদার উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে ইজারা বন্ধ করে দেয়। সেই মামলা পৌরসভার পক্ষে রায় হয়। পরে আবারো অসাধু ব্যবসায়ীরা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য পূনরায় উচ্চ আদালতে আপীল করে । বর্তমানে আপীল মামলাটি চলমান রয়েছে । এ কারনে ঐতিহ্যবাহী এই মাছের বাজার থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার ।
স/রহ

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন