মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কালির চর গ্রামের একাধিক কাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে পার্শবর্তী মেঘনা ও পদ্মা নদীতে বালুবাহী ,মালবাহী, যাত্রীবাহী ট্রলার ও তেলের জাহাজে ডাকাতি করে আসছে দীর্ঘ বছর ধরে। কালির চরে গড়ে ওঠে একাধিক ডাকাত দল । পুলিশ সর্বশেষ এই এলাকার শীর্ষ ডাকাত এবং বাবলা বাহিনীর প্রধান বাবলাকে আটক করে। এর পর এই বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হুমায়ুন, মমিন মিঝিসহ অনেকে আটক হয়। বাবলা বাহিনীর প্রধান বাবলা ছাড়া এই বাহিনীর প্রায় ১০ জন্য সদস্য বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছে। এরা আটকের পর এলাকায় কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখন নতুন করে এলাকাটিতে তারা একটি বাহিনী গড়ে তুলেছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকাটি আবারো পূর্বের মত নিজেদের দখলে নিয়েছে ডাকাত দলের সদস্যরা । নতুন এই বাহিনীটিতে রয়েছে, হত্যা. ডাকাতি. চুরি ও অস্ত্র মামলার অন্যতম আসামী মমিন মিঝি ও হুমায়ুন মিঝি । এছাড়াও এই বাহিনীতে যোগ হয়েছে কালিরচর গ্রামের ছানা মিয়ার ছেলে ফরিদ,গিয়াসউদ্দিন বেপারীর ছেলে আবুল বাসার, বদুর ছেলে নুরা মিয়া, রুহুল আমিনের ছেলে সজীব, মাহমুদের দুই ছেলে রিজাউল ও জসিমস ওরফে কাইল্লা, চর আব্দুল্লাহ গ্রামের শাহাবুদ্দিন সরকারের ছেলে মহসিনসহ ২০-২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট। এর মধ্যে মহসিন হলো পাবলার অন্যতম সহযোগী । তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর থানায় ডাকাতি মামলা রয়েছে । সে মামলায় ৬ মাস জেল খেটে বের হয়ে আবার নতুন করে শুরু করেছে মাদক ও ডাকাতি এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম। তার ভয়ে চর আব্দুল্লাহ গ্রামের সাধারন মানুষ আতংক নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। দিনের আলোতে এই বাহিনীর সদস্যদের দেখা মিলেনা । রাতের আঁধার হলেই এরা নেমে পড়েন নদীতে। চুরি, ডাকাতি এবং জেলেদের মেরে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় । এছাড়া এই বাহিনীর কাছে রয়েছে দেশী বিদেশী অস্ত্র। কেউ কোন প্রকার প্রতিবাদ করলে তাদেরকে অস্ত্র হাতে গ্রামে মহড়া দিয়ে ভয়বীতি দেখায় ।দিন দুপুরে দুরের যাত্রীদের ট্রলার থামিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্থ লুটে নেই এই বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, দেশের দক্ষিনাঞ্চল থেকে আসা ঢাকা- নারায়নগঞ্জ গামী তেলবাহী জাহাজ, বালুভর্তি বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন পরিবহনে প্রতিনিয়ত ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি করে চক্রটি। ঢাকা – থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় নদী পথে মালবাহী জাহাজ,লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচলকারী একমাত্র নৌ পথ মেঘনা নদী। এই নদীটির মুন্সীগঞ্জ সীমান্ত পথ কালির চর থেকে শুরু করে মেঘনা নদীর গজারিয়ার ইছমানির চরের মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত এই বিস্তৃন্ন এলকা জুড়ে এই বাহিনীটি এখন সক্রিয় রয়েছে। কালির চর, চর আব্দুল্লাহ, বাংলাবাজার, মহেশপুর, জাজিরাসহ নদী তীর বর্তী গ্রামের বাসিন্ধা ও জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, নদীতে এবং গ্রামে কোন স্থানে শান্তি নেই। নদীতে তারা চালায় জোড় ধবস্তি। জোর করে তেলবাহী জাহাজ, ট্রলার, জেলেদের নৌকাসহ নদীতে চলাচলরত যানবাহনে ডাকাতি করে নতুন এই ডাকাত দলটি। বর্তমানে কালিরচর এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চটালাচ্ছে রিজাউল বাহিনী । প্রতিদিন রাতে জেলেদের নৌকা আটক করে ডাকাতি করে। নৌকায় থাকা জেলেদেরও মারধর করে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গজারিয়া এলাকার একটি ট্রলারে রিজাউল বাহিনী ডাকাতি করে মাছ বিক্রির ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করে এ বিষয়ে বাহিনী প্রধান রিজাউল বলেন, আমরা নদীতে কাজ করি সে কারনে নদীতে যাই । আমরা তেলবাহী জাহাজ থেকে তেল, বালুবাহী জাহাজ থেকে টাকা এবং বিভিন্নভাবে অর্থসহ কি আদায় করি । এটা আমাদের বিষয় । আপনাদের কাছে কেউ কি কোন অভিযোগ করেছে? থানায় আমাদের নামে কেউ কোন অভিযোগ করেনি । আমাদের নামে মামলা আছে আমরা জামিনে আছি । পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই । আপনাদের কাজ লিখার আপনারা লিখেন । লিখলে আমাদের কিছুই হবেনা । পরে সংবাদকর্মীদের একের পর এক প্রশ্নর জবাব না দিয়ে ট্রলার চালিয়ে দূরে চলে যায়।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম বলেন, নৌপথে ডাকাতির সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা । আমরা ইতিমধ্যে অনেক নৌ ডাকাতকে আইনের আওতায় এনেছি । নৌপথে ডাকাতির সাথে জড়িত বাকী সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে ।
স/রহ

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন