এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে । লাঙ্গল মার্কা টিকেট পেতে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। কে পাচ্ছেন লাঙ্গল প্রতীক এ নিয়ে জাতীয় পার্টির তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনার ঝঁড় । লাঙ্গল প্রতীকের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নীতিনিধারক ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারন ভোটারদের জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা । মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে এরা হলেন, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল বাতেন ও জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক এ এফ এম আরিফউজ্জামান দিদার। তবে দু”জনই নিজেদেরকে তৃনমূলের সমর্থিত প্রার্থী বলে দাবি করেন। এই দুই প্রার্থী মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ( জাপা ) থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানাগেছে ।

স্থানীয় জাতীয় পার্টি (জাপার)একাধিক সুত্র জানায়, জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি ও হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক উপদ্রেষ্টা গজারিয়ার বাসিন্ধা সাবেক গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কলিম উল্লাহ ছিলেন জাতীয় পার্টির একজন সফল নেতা। দীর্ঘদিন তিনি গজারিয়ায় জাতীয় পার্টির হাল ধরে রেখেছিলেন এবং তার ব্যাপক জনপ্রিয়তাও ছিল । সব সময় তার বিপরীত অবস্থানে কাজ করেছিল আব্দুল বাতেন। তিনি বিএনপির স্বোচ্ছাসেবক দল থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন । কিন্তু আলহাজ্ব কলিমউল্লাহর সাথে কখনও পেরে ওঠেনি বাতেন তিনি। এ নিয়ে কলিমউল্লাহর সঙ্গে বিরোধ ছিল বর্তমান জেলা জাপার সাধারন সম্পাদক আব্দুল বাতেনের ।এই বিরোধের কারনে দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত থেকেও গজারিয়ায় আব্দুল বাতেন তার কোন অবস্থান সৃস্টি করতে পারেনি। গত বছরের ২২ই রমজান বাধ্যক্য জনিত কারনে কলিমউল্লাহ মারা যান। তবে রেখে গেছেন তার বিশ্বস্থ নেতাকর্মীদের । মহান এই ত্যাগী নেতা মারা যাওয়ারএক বছর অতিবাহিত হলেও আব্দুল বাতেনের বিরোধিতার কারনে হয়নি কোন শোকসভা। হয়নি কোন মিলাদ মাহফিল । মিটিংয়ে কোন শোক প্রস্তাবও আনা হয়নি । অথচ বেঁচে থাকতে এই নেতা দলের জন্য নিজের বাসভবন জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয় বিনাম্যল্যে ব্যবহার করতে দেন। এই পার্টি অফিসটি ছিলো সকলের জন্য উন্মুক্ত । এই আসনে কলিমউল্লাহ সমর্থকরা যাকে সমর্থন করবে সেই প্রার্থীর মনোনয়ন চুড়ান্তসহ নির্বাচনী লড়াইয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হবেন। এমনটাই জানান তৃনমূলের নেতাকর্মীরা । গজারিয়াতে আব্দুল বাতেনকে ঘিরে রয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা । তিনি তাবলিক জামাতের নামে পবিত্র মক্কা নগরীতে মানুষ পাঠায় এ কারনে তাকে অনেকে আদম ব্যাপারী বলে চিনে । শুধু তাই নয় নিজেকে দলীয় একমাত্র মনোনিত প্রার্থী দাবি করে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছে । বিভিন্ন সময়ে ব্যানার ফেন্টুন লাগিয়ে নিজেকে জাহির করে । এ ব্যাপারেকেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে তারা জানান, জাতীয় পার্টির কোন জেলার কাউকে আজও কোন মনোনিত প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা দেওয়া হয়নি । যারা এই ধরনের মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে দলের মধ্যে ফাটল ধরিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পায়তারা করে সময় হলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সৃংখলা ভঙ্গের কারনে ব্যবস্থা নেয়া হবে । এমনটাই জানিয়েছেন তৃনমূলের একাধিক নেতা । তার বিরুদ্ধে তৃসমূলের ব্যাপক অভিযোগ থাকা স্বত্বেও বর্তমান জেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল বাতেন । নিজেকে তৃনমূলের সমর্থিত প্রার্থী দাবি করে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করছেন।

এ প্রসঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল বাতেন বলেন, আমি জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী । আমার জানামতে আমার বিপক্ষে এ আসনে জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী নেই। আমি আশাকরি দলীয় ফোরাম আমাকেই মনোনয়ন দিবে ।

অপরদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর থেকে সম্ভাব্য আরেক প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির গাংগঠনিক সম্পাদক এ এফ এম আরিফুজ্জামান দিদার । ১৯৮৬ সাল থেকে জাতীয় ছাত্র সমাজের সঙ্গে জড়িত হয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। এর পর সরকারী হরগঙ্গা কলেজ শাখার যুগ্ন- সম্পাদক । ১৯৮৭ সালে সরকারী হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ছাত্র সমাজ হতে মনোনিত স্বপন – আজিম – দিদার পরিষদে নির্বাচন করেন। পরবর্তীতে জেলা ছাত্র সমাজের জেলার প্রতিষ্টাতা সভাপতি হন। ২০১২ সালে জাতীয় যুবসংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জেলা যুবসংহতির সি: ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরেও তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা আহলে সুন্নাত আল জামাতের বর্তমান সভাপতি । এ দলটিও এখন ৫৮ দলের সঙ্গে আছে এবং সেখানেও তার একটি সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে । তাছাড়া তিনি দলিল লিখক ও স্টাম্প্য ভেন্ডার ও সমিতির নির্বাচিত সাবেক সাধারন সম্পাদক । বর্তমানে তিনি দলিল লিখক সমিতির উপদ্রেষ্টা । সেখানেও তার ব্যাপক সমর্থক রয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন এ এফ আরিফউজ্জামান দিদার সমর্থকরা।

এ প্রসঙ্গে জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক এ এফ এম আরিফ উজ্জামান দিদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত আছি। দলকে ভালবেসে দল এবং তৃনমূল নেতাকর্মীদের সময় দিয়েছি। তৃনমূল নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন দিয়েছে । আমি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি।

এ ব্যাপরে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাড. শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনে কাউকে মনোনয়ন ঘোষনা দেওয়া হয়নি । তবে ২ জন সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে আছে ।
স/রহ

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন