ইবি প্রতিনিধি-
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে যৌন হয়রানির শিকার শালিক (ছদ্মনাম) এখন মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। শালিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত ১ জুলাই ৩য় সেমিস্টারের ভাইভা দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ভাইভা বোর্ড থেকে বের হয় শালিত। এরপর থেকে ভীতসন্ত্রস্ত ও ভারসাম্যহীন অবস্থায় সে অসংলগ্ন আচরণ করছে বলে জানিয়েছে তার সহপাঠিরা। বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে কয়েকবার প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হলে আজ সকাল ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়া হল কর্তৃপক্ষ। বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় কুমারের হয়রানি ও হুমকি-ধামকির ফলেই এমনটি হয়েছে বলে তার সহপাঠিরা অভিযোগ করেছে।

তার সহপাঠিরা জানায়, শালিক গত ১ জুলাই ৩য় সেমিস্টারের মৌখিক পরীক্ষার পর থেকে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বিভিন্ন উল্টা-পাল্টা কথা বলতে থাকে। সে বারবার তার বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় কুমার সরকার নামের এক শিক্ষকের নাম বলতে থাকে। বারবার একই শিক্ষকের নামে প্রলাপ বকতে থাকলে সবার মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।

সহপাঠি ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সঞ্জয় কুমার সরকার তার বিভাগের নতুন ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে এলেই তাদের ফেসবুক, মুঠোফোনে খুদে বার্তা ও কল দিয়ে বিরক্ত করে। গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর দেশরতœ শেখ হাসিনা হলে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই বিষয়ে ওই বিভাগের ২য় বর্ষের এক ছাত্রী সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে ইবি ভিসি প্রফেসর ড. মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নিকট অভিযোগ করেন। এরপর ভিসি সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমারকে ডেকে তিরস্কার করেন ও সতর্ক করে দেন।

বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শালিকসহ প্রায় ১৫জন শিক্ষার্থী সঞ্জয় সরকারের নেয়া ১২৩ ও ১২৫ নম্বর কোর্সে অকৃতকার্য হয়। এর মধ্যে এই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমীন অর্থ কেলেঙ্কারির দায়ে ওএসডি সাজা প্রাপ্ত হলে তার ১২৫ নম্বর কোর্সটিও নেন সঞ্জয় কুমার। একই শিক্ষকের দুইটি কোর্সে অকৃতকার্য হওয়ায় হতাশায় ভুগতে থাকে শালিক। সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলেও ফলাফল দেখতে বেশ বেগ পেতে হয় তাকে। ফলে চিন্তিত হয়ে পড়ে সে।

এর পর গত ১ জুলাই ৩য় সেমিস্টারের মৌখিক পরীক্ষায় সঞ্জয় কুমার শালিককে অপমান করে। এতে তাকে কাঁদতে কাঁদতে ভাইভা বোর্ড থেকে বের হতে দেখে তার সহপাঠিরা। এঘটনায় সে আরো বেশি মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে। ফলে মৌখিক পরীক্ষার পর থেকে শালিক বিভিন্ন প্রলাপ বকতে থাকে। এসময় শালিক ‘সঞ্জয় স্যার আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে, গলায় ছুরি ধরেছিল, আমার সব শেষ করে দিয়েছে, সব নিয়ে গেছে’ বলতে থাকে বলে জানায় হলের ছাত্রীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শালিকের এক সহপাঠি জানায়, ‘গত ৪ তারিখ গভীর রাতে শালিক আমাকে কল দেয়। সে সঞ্জয় স্যারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ডকুমেন্ট দেয়ার কথা বলে।’

এদিকে শালিকের বড় বোন জানায়, ‘গত ডিসেম্বর মাসে বাড়ি গিয়ে শালিক তার ওই শিক্ষকের চরিত্র খারাপের কথা জানায়। সঞ্জয় ক্লাসে ছাত্রীদের দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকায় বলেও শালিক অভিযোগ করেছে’। শালিকের ভাই জানায় তার বোন আগে কখনো এমন ছিলনা।

এর আগে চলতি বছরে কুষ্টিয়া শহরে স্থানীয় এক মেয়েকে উত্যাক্ত করার অভিযোগ ওঠে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে। পরে শিক্ষক নেতারা কুষ্টিয়াতে বিষয়টি সূরাহা করেন বলে খবর পাওয়া যায়। এছাড়াও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে এক পরীক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ ওঠে সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে। কিন্তু কৌশলে পার পেয়ে যান তিনি।

অভিযুক্ত সঞ্জয় কুমার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ছাত্রীদের খুদে বার্তা পাঠানো ও কল দেয়ার বিষয়ে উপাচার্য তাকে সতর্ক করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘মেয়েদের মেসেজ পাঠানোর বিষয়ে উপাচার্য মহদয় আমাকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তবে আমি কাউকে ফেল করাইনি। ভাইভা বোর্ডে কাউকে কোন অপমানও করা হয়নি।’

এবিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নারীদের জন্য অভয়ারণ্য করা হয়েছে। এখানে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জারি রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযুক্ত যেই হোক না কেন তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনা হবে।’

আরআর

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন