মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিন ইসলামপুর গ্রামে ঝাড় ফুক দিয়ে চিকিৎসার নামে চলছে অভিনব প্রতারণা । এডভোকেট এমারত এর বাড়ির পাশে দক্ষিন ইসলামপুর মাদ্রাসার কথিত মৃত বড় হুজুরের ছেলে আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ঝাঁড় ফু দিয়ে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে। পটুয়াখালি জেলার বাসিন্দা কথিত বড় হুজুর ঐ এলাকায় ভাড়া থাকলেও তার ছেলে আব্দুল্লাহ ঝাড় ফু দিয়ে অর্থ কামিয়ে ঐ এলাকায় কিনেছেন জমি। করেছেন একটি সুন্দর বাড়ীও। পবিত্র কোরআন শরীফের অপব্যাখ্যা দিয়ে দূর দূরান্ত গ্রাম থেকে আসা সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে তেল পড়া, ঝাড় ফুঁ প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা । আব্দুল্লাহ নামের এই ব্যক্তি নিজেকে কোরআনে হাফেজ দাবি করিয়া নিজ বাড়ীতে গড়ে তুলেছেন চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র । প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত নারী পুরুষ পানি আর তেল নিয়ে হাজির হন । জ্বিনের আছর, বান যাদুটোনাসহ সকল ধরনের চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন কথিত ভুয়া ফকির । আধুনিক যুগে কোরআনের অপব্যাখ্যা দিয়ে নারীদের কুসংস্কার বিশ্বাসে বাধ্য করছেন এই ধরনের ফকিররা । এই ধরনের কর্মকান্ড রাষ্ট্রীয় আইনে কোন বৈধতা নেই । তবুও দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙ্গের ছাতারমত গড়ে উঠেছে এমন জ্বিনের বাদশাদের আস্তানা।
সরেজমিনে এই ফকিরের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের কবিরাজি বই, কোরআনের বিভিন্ন আয়াত, সুতা পড়া, ঝাড় ফুর সরঞ্জামসহ একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ন্যায় চেম্বার খুলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে আব্দুল্লাহ। চেম্বার এবং চেম্বারের বাইরে ৩০-৩৫ জন রোগী দাঁড়িয়ে আছে । এদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশী । ভিতরে বসে এই ফকির নারী ও শিশুদের ঝাঁড় ফু আর তেল পড়া দিচ্ছেন । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মধ্য বয়সী মহিলা জানায়, আমার মাথা এবং বুকে ব্যাথা ছিলো এই হুজুরের কাছ থেকে তেল ও পানি পড়া নিয়ে এখন সুস্থ্য আছি ।
চেম্বারে ঢুকে কথা হয় আব্দুল্লাহ নামের জ্বিনের আছর থেকে রোগীকে মুক্ত করার ভন্ড ফকিরের সাথে । আপনি এতো বড় চেম্বার দিয়ে কি করেন? জবাবে আব্দুল্লাহ বলেন, আমি রোগীদের কোরআনের আলোকে তদবির দেই । এই ধরনের চিকিৎসার কি কোন বৈধতা আছে আপনার কাছে ? জবাবে তিনি বলেন, আমি একজন আলেম মানুষ রোগীরা এসে বলে পেট ব্যাথা আমি তাদের পানি পড়া আর তেল পড়া দেই ।
রোগীদের থেকে বিভিন্ন অযুহাতে অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের সুস্থ করি টাকা তো নিবই । কি কি রোগের চিকিৎসা করান আপনি? জবাবে তিনি জানান, জ্বিনের আছর থাকলে, কাউকে যাদুটোনা করলে সেটা কাটিয়ে দেই । রোগীরা ফল পায় বলেনই তো এতো রোগী এখানে আসে । তার দেয়া চিকিৎসা শতভাগ কার্যকরী এমন অনেক যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। শরিয়তে আছে তাবিজ, পানি পড়া,তেল পড়া যেকোন রোগীর কাজে লাগে । সকালে একটা রোগী আসছিলো তাকে জ্বিনে ধরেছিলো । রোগীটা অনেকটা প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছিলো । আমি রোগীরাটাকে সুস্থ্য করেছি ।

রোগীকে জ্বিনে ধরেছে এটা আপনি কিভাবে বুঝেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এই কথিত আলেম বলেন, রোগীর মায়ের নাম আর রোগীর নাম দিয়ে চালান দিলে আমি দেখতে পারি কোন জ্বিনে রোগীর উপর আছর করেছে । এ সময় প্রতিবেদক বলেন, আমার নাম এবং আমার মায়ের নাম দিলাম এবার আপনি চালান করে দেখেন আমাকে কোন জ্বিনে আছর করেছে কি না? জবাবে তিনি বলেন, আপনি তো সুস্থ্য আপনার সাথে জ্বিন আছে কিনা সেটা বলতে পারবো না । সংবাদ কর্মীদের সাথে কথা বলার সময়েও তিনি রোগীদের ঝাঁড় ফু আর তেল পড়া দেন । এ সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে কথিত জ্বিনের বাদশা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমার অনুমতি ছাড়া ছবি তোলেন কেন? আপনারা সাংবাদিক তাতে কি হয়েছে । আমি ভন্ডামি করিনা মানুষের সেবা করি । এই জিনিস নিয়ে বারাবারি করবেন না । বারাবারি করলে পরে টের পাবেন । আপনাদের বাড়ীঘর তছনছ করে দিবো । আপনি রোগীদের সাথে প্রতারনার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বাড়ী ঘরও তছনছ করেন ? এ সময় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের নামে মামলা করবে বলিয়া হুমকি দেন ।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম বলেন, আব্দুল্লাহ পিতা বড় হুজুর এই চিকিৎসা করিত । এখন তার ছেলে তাবিজ, কবজ, আর তেল পড়া দিয়ে হাদিয়া হিসাবে কিছু নেয় ।

এ ব্যাপরে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা: হাবিবুর রহমান জানান, এই ধরনের চিকিৎসার কোন বৈধতা নেই । সাধারন মানুষ ধর্মীয় অনুভুতিতে বিশ্বাসী হয়ে এগুলো বিশ্বাস করে । এটা এক ধরনের কুসংস্কার । কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়েই ফল পাওয়ার আশায় রোগীরা ছুটে যান।
স/রহ

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন