মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ জেলার দক্ষিনাঞ্চলের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আলদি,পুরা বাজার এবং দিঘিরপাড় বাজারকে ঘিরে গড়ে উঠছে একটি শক্তিশালী চোরাই মটর সাইকেল বিক্রির সিন্ডিকেট । এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি গ্রামের রবিন, শিলই ইউনিয়নের রবিনসহ ৪ জনের একটি সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত মোটর সাইকেল ছিনতাই বা চুরি করে বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলার বিক্রি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । পুড়া বাজার এলাকার সুমন নামের এক ভুক্তভোগী জানান, রবিন সিন্ডিকেট পুরা বাজার এবং দিঘিরপাড় বাজারকে কেন্দ্র করে মাদক এবং চোরাই মোটর সাইকেল বিক্রির রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে । এই সিন্ডিকেল পার্শবর্তী কামারখাড়া, দিঘিরপাড় এবং শিলই ইউনিয়নে গত কয়েক মাসে শতাধিক মোটর সাইকেল বিভিন্ন স্থান থেকে এনে বিক্রি করেছে । মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য স্বপন মেম্বারের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে পুড়া বাজার । বাজারটি মুন্সীগঞ্জ এবং টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সাথে সংযুক্ত হলেও এই বাজারের পুরো নিয়ন্ত্রন এখন স্বপন গ্রুপের লোকজনের নিয়ন্ত্রনে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দোকানদার জানান, বাজারে চুরি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি, চোরাই মোটর সাইকেল ক্রয় বিক্রয় সব কিছুই করে স্বপন মেম্বারের লোকজন । তার রয়েছে বিশাল একটি সন্ত্রাসী বাহিনী । তার গ্রুপের লোকদের কাছেও রয়েছে প্রায় অর্ধশত মটর সাইকেল । একটি মোটর সাইকেলেরও কোন বৈধ কাগজপত্র নেই । মাদক এবং চোরাই মোটর সাইকেল সিন্ডিকেট চলে স্বপনের কথায় । শুধু তাই নয় অস্ত্রবাজ এই মেম্বারের ভয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পায় না । কিছু হলেই অস্ত্র আর ককটেল নিয়ে বাজারটিতে তার লোককজন ঢুকে পড়ে ।

গত ১৫ দিন আগে পুরা বাজারে ইফতার করার সময় ৫-৭ মিনিটের ব্যাবধানে সাংবাদিক জাফর মিয়ার নীল রঙ্গের পালসার মোটর সাইকেল লক ভেঙ্গে রবিন নিয়ে চলে যায় । রবিন মোটর সাইকেলটি নিয়ে আকাল মেঘ গ্রামে ঢুকে পড়ে যা স্থানীয়রা দেখে ফেলে এবং বলে সে স্বপন মেম্বারের লোক । দ্রুত হুন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনা টঙ্গিবাড়ী এবং মুন্সীগঞ্জ সদর থানাকে অবগত করিলে পুলিশ চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায় । ঘটনার ১৫ মিনিট পর ছুটে আসেন এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা স্বপন মেম্বার । এসেই বলে এই বাজার আমার নিয়ন্ত্রনে । আপনাদের মোটর সাইকেল যে নিয়েছে বুঝতে পারেনি এটা সাংবাদিকের মোটর সাইকেল । ২ ঘন্টা অপেক্ষা করুন বের করে দিবো । এর ২ ঘন্টা পর মেম্বার জানান, গাড়ীটা কোন বাড়িতে ঢুকিয়ে রাখা রয়েছে । রাস্তার পাশে কিংবা কোন পরিত্যক্ত অবস্থায় পাবেন আপনাদের গাড়ী । রাত হয়েছে চলে যান আমি বের করে দিবো । এভাবে ৪-৫ দিন কেটে গেলেও মেম্বার বলে সন্ধান পেয়েছি আরো কিছু সময় লাগবে চিন্তা করবেন না দরকার হলে কিনে দিবো কিন্তু কোন রিপোর্ট করেন না । থানায় অভিযোগও করার দরকার নাই । আমার এলাকায় আমার আইন চলে । আমি থাকতে পুলিশ প্রশাসনের দরকার নেই ।

গত রবিবার মেম্বার কৌশলে আবারো ফোন করে জানায়, একটি মোটর সাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে আপনারা আসুন । পরে ৮ জন সাংবাদিক তার কাছে গেলে তিনি মাটর সাইকেলটাকে না দেখিয়ে বলে ভাই যে আপনাদের হুন্ডারটা নিয়েছে সে এটা হজম করতে পারবেনা । এখন ভয় পাইতেছে পরিস্থিতি ঠান্ডা হলে বের করে দিবে । এভাবে ১৫ দিন কাটিয়ে দেন এই চতুর মেম্বার । ৩০-০৫-১৮ ইং তারিখে হয় মোটর সাইকেল নতুবা টাকা দিবে বলে শান্তনা দেন স্বপন । ৩০ তারিখের পর মেম্বার মোবাইল বন্ধ করে গা ডাকা দিয়ে চলে যায় । পরে সাংবাদিকরা স্বপনের সাথে যোগাযোগ করলে কিনে দিবো বলছিতো এই বলে ফোন রেখে দেন ।
এ ব্যাপারে দিঘিরপার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, হুন্ডাচুরী সেন্ডিকেটের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না তদন্ত সাপেক্ষে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
স/রহ

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন