মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: দেশব্যাপী মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জে ১২ দিনে ৪৪৩ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত ১৮মে শুক্রবার থেকে ৩০ মে বুধবার পর্যন্ত চলা অভিযানে তারা আটক হন বলে জানা গেছে। অভিযান শুরুর একদিন আগে (১৭ মে) জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম মুন্সীগঞ্জ সদর থানা কম্পাউন্ডে ওপেন হাউস ডে সভায় মাদকের বিরুদ্ধে জেলাব্যাপী যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এরপর শুরু হয় জেলাব্যাপী মাদক বিরোধী সাড়াশী অভিযান। এতে মাদকের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ও বিভিন্ন মামলায় পলাতক আসামীরাও পুলিশের হাতে আটক হন। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭১ জনকে সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পাশাপশি দুই ডজন মামলার আসামী মো. সুমন বিশ্বাস ওরফে কানা সুমন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই গ্রুপ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে দাবি করে পুলিশ। জেলাব্যাপী মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী অভিযান বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, দেশকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। মুন্সীগঞ্জ জেলায় কোনো মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারী বা তাদের গটফাদারদের স্থান নেই। মাদকের সাথে জড়িত কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার ৬টি থানায় একযোগে অভিযান শুরু করা হয়েছে এবং ১২ দিনে জেলায় মোট ৪৪৩ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ জেলা মাদক মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ যুদ্ধে পুলিশের সাথে স্থানীয় জনতাও অংশ নিয়েছেন। তারা আবার সেই ৭১ এর ন্যায় মাদক বিরোধী যুদ্ধে নেমে পুলিশকে সহায়তা করছে। কাজেই মুন্সীগঞ্জ মাদক, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ মুক্ত হতে শুরু করেছে। খুব শিগগিরই শতভাগ সফলতা পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা যায়, চলমান অভিযানের ১২ দিনে গজারিয়া থানায় মোট আটক হয়েছে ৬৩ জন। এর মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে ৪৮ জন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে বিভিন্ন মেয়াদে ৭ জনের সাজা, মাদকের ৭টি মামলায় ৮ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সদর থানা পুলিশ মোট ৮৬ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে চোর হিসেবে ৩ জন, ডাকাত ১ জন, ওয়ারেন্ট তামিলে ২০ জন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে বিভিন্ন মেয়াদে ৭ জনকে সাজার মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন, মাদকের ৪০টি মামলায় ৫৬ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। সিরাজদিখান থানা পুলিশ মোট ৫৯ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে ২৮ জন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে ২১ জনের ৬ মাস করে সাজা এবং ৯টি মাদক মামলায় ১০ জন আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। টঙ্গীবাড়ী থানা পুলিশ মোট ১১০ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে ৫৫ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে ১০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ৩৫টি মাদক মামলায় ৪৫ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। লৌহজং থানা পুলিশ মোট ৬৩ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে ২৮ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে ১৩ জনের ৬ মাস করে সাজা এবং ১৭টি মাদক মামলায় ২২ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায় এবং শ্রীনগর থানা পুলিশ মোট ৬৮ জনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে ৩০ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে ১৩ জনের ৬ মাস থেকে ১ বছর করে সাজা এবং ১৫টি মাদক মামলায় ২৫ জন আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। এদিকে, জেলাব্যাপী এ অভিযানের কারণে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার শঙ্কায় অনেকে স্বেচ্ছায় কারাবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক অভিভাবক তাদের মাদকাশক্ত ছেলেদের স্বেচ্ছায় কারাবাসের জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেকে আবার মুন্সীগঞ্জ ছেড়ে বিভিন্ন শহরে ছদ্মবেশে জীবন যাপনের পথ বেছে নিচ্ছেন । যুবক বয়সের অনেক মাদক ব্যবসায়ী তাবলিগ জামায়েতে চলে গেছে বলেও জানা গেছে।
স/রহ

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন