মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের তালিকায় র্শীষ স্থানেই উঠে আসছে আমজাদ কাজী নামে এক ২২বছরের তরুনের নাম। অনুসন্ধানে জানাগেছে, আধারা ইউনিয়নে সোলারচর গ্রামের নসু কাজির ছেলে আমজাদ কাজী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে আসছে। তার নেতৃত্বেই ইউনিয়নের সোলারচর, বকুলতলা, দেওয়ানকান্দি, রাঢ়িপাড়াসহ ৭টি গ্রামের বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। আর আমজাদের এই ব্যবসায় ইয়াবা সরবরাহ করছে পার্শবর্তী মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ছোট আমঘাটা (নয়াকান্দি) গ্রামের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শিপন।
স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, আমজাদ প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে ইয়াবা বিক্রি করে । তার কারনে এলাকার যুবসমাজ মরন নেশা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে । আমাজাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না ।
অনুসন্ধানে দেখাগেছে, মাদক বিক্রির জন্য সোলারচর গ্রামের কাজী বাড়ীর রাস্তার পাশে বাঁশের ৩ টা বেঞ্চ তৈরী করা হয়েছে । পাশাপাশি স্থানীয় দোকানের ঠিকানা দেয়া হয় মাদকসেবীদের । মাদক সেবীরা আমজাদকে ফোন করে ঐ বাঁশের তৈরী বেঞ্চে অথবা দোকানের সামনে গেলে আমজাদ ইয়াবা বিক্রি করে । টাকা দিলেই মাদকসেবীরা সহজে পেয়ে যাচ্ছে ইয়াবা নামক মরন নেশা । চতুর এই মাদক বিক্রেতা আমজাদ ইয়াবার নাম দিয়েছে গুঁটি বা দানা । বিভিন্ন গ্রামের ক্রেতা বা সেবীরা আমজাদকে ফোন করে গুঁটি লাগবে বা দানা লাগবে বললেই হয় । তবে আমজাদ কাউকে না চিনলে তার কাছে ইয়াবা বিক্রি করে না । বিভিন্ন গ্রামে ইয়াবা পৌছানোর কাজটি নিজের লোক দিয়েই করে আমজাদ। তবে বেশীরভাগ ক্রেতা আমজাদের স্পটেই এসে নিয়ে যায়।
এনিয়ে আমজাদের মুঠোফোনে আমজাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে, সাংবাদিক পরিচয় শুনে ফোন কেটে দেয়। পরে প্রতিবেদক কৌশল পাল্টিয়ে ছদ্মবেশে ইয়াবা ক্রেতা আজগর পরিচয়ে আমজাদকে ফোন করলে আমজাদ ইয়াবা বিক্রির কথা জানায়। আমজাদের সাথে ফোনালাপ তুলে ধরা হলো: আমজাদ- কে আপনি ?
প্রতিবেদক: আমি মিঝিকান্দি থেকে বলছি (ছদ্মবেশে)।
আমজাদ : নাম কি আপনার?
প্রতিবেদক :আমি আজগর । আমার ২০ পিস গুঁটি (ইয়াবা) দরকার ।
আমজাদ : নবীর দোকানের সামনে আসেন। সাথে কাউরে আনবেন না ।
প্রতিবেদক :দাম কত ?
আমজাদ : পাইকারী ৯০ টাকা । জিনিস ভালো আমি খারাপ মাল বেঁচিনা।
প্রতিবেদক :আপনি কার কাছ থেকে মাল আনেন ? শুনছি শাহালমের মাল ভালো ।
আমজাদ: পুরো ইউনিয়নের সকলে জানে শিপনের মাল সবার চেয়ে ভালো । আমি শিপনের মাল বিক্রি করি ।
শিপন আবার কোন গ্রামের? প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে আমজাদ বলেন, শিপন ছোট আমঘাটা গ্রামের দিলা বেপারীর ছেলে ।

এর ১ঘন্টা পর নিদিষ্ট স্থানে গিয়ে প্রতিবেদক দাড়ালে আমজাদ এগিয়ে আসে। আমজাদ এসেই বলে আপনি আজগর? টাকা দেন আর মাল নিয়ে দ্রুত চলে যান । এসময় প্রতিবেদক আমজাদকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে। আমজাদ দৌড়ে গ্রামে ঢুকে পড়ে।
এব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি(অপারেশন) জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, মাদক বিক্রেতা যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে ।

স/রহ

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন