এ.কে আজাদ(লক্ষ্মীপুর)প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ০৫ নং চর ফলকন ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ভিজিডি ও জেলে কার্ডের চাউল বিতরনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ফুসে উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,হাজী হারুনুর রশিদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত সরকারের দেওয়া যেসকল বরাদ্ধ ইউনিয়ন পরিষদে আসে তার সবগুলো থেকেই নিজে টুপাইজ কামাতে মরিয়া হয়ে হঠে এবং কার্ডধারীকে ওজনে কম দেওয়ার পাশাপাসি বাহিরে চাউল বিক্রির একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে না হতেই সরকারী চাউল আত্মসাৎ সহ ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা হরিলুটের দায়ে দুদকের খপ্পরে পরে সে। দুর্নীতি দমন কমিশন নোয়াখালী জোনে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হওয়ার পর হাজিরা দিতে থাকে বেশ কিছুদিন ধরে।

ইদানিং কালে তার ওই ইউনিয়ন পরিষদে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাবে আবারো পুর্বের ন্যায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতে সে জড়িয়ে পরে। দুর্নীতিবাজ এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়নবাসীর অভিযোগের যেন শেষ নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য জানান,একসময়কার শ্রমিকদলের সাধারন সম্পাদক এই হারুনুর রশিদ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের একখান টিকিট সংগ্রহ করে চেয়ারম্যানের ভোট করে নির্বাচিত হয়েই অনিয়ম আর দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য সৃষ্টি করে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে চলেছে। এছাড়াও প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর বিএনপি নেতা বর্তমানে ওই পরিষদের ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হক মফু দেওয়ানকে দিয়ে চালাচ্ছেন এ পরিষদটি। তিনিই নাকি চেয়ারম্যানের অবর্তমানে পরিষদের হর্তা-কর্তা। আওয়ামী সরকারের যেসব ইউপি সদস্য দলের জন্য রাত-দিন ভর কঠোর পরিশ্রৃ করেছেন,তারা এই পরিষদের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বন্ঞিত। একদিকে যেমন ইউনিয়নবাসী বন্ঞিত, তেমনি সরকার বরাদ্ধ দেওয়ার পরও হারাচ্ছে দলের সুনাম।

ইউনিয়ন পরিষদ ঘুড়ে জানা যায়,জেলে কার্ড বিতরনের সময় এলেই চেয়ারম্যান নিজকে লুকিয়ে রেখে তার পছন্দের ওই মফু দেওয়ানকে দিয়ে চাউল বিতরন করান। ওজনে কম হলে মফু দেওয়ান তার প্রভাব খাটিয়ে মেনে নিতে বাধ্য করান। জেলে কার্ডে ৪০ কেজি চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে চাউল পাচ্ছেন ২৬-৩০ কেজি এমনটাই জানিয়েছেন শতাধিক কার্ডধারী ব্যাক্তি। এদিকে চাউল নেওয়ার সময় জড়ো হয়,এখানকার নিয়মিত জেলেরা। যারা কার্ড করার সময় চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারায় বন্ঞিত হয়েছেন। এরা প্রত্যেকেই আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চান,কিভাবে শুধুই টাকার বিনিময়ে একবাড়ী থেকে ৫/৭ জন লোকের নামে জেলে কার্ড হয়। কথা হয়,ইউনিয়ন পরিষদের চাউল বিতরনে নিযুক্ত ট্যাগ অফিসার জহিরুল ইসলামের মুঠো ফোনে।

তিনি বলেন,আমি চাউল বিতরনের শুরুতে ছিলাম,ব্যাক্তগত কাজে আসার সময় ওখানে দায়িত্ব দিয়ে আসি চর ফলকন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস সহিদ সুমনকে। চাউল বিতরনে অনিয়ম হলে কি ব্যবস্হা নিবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,কারও চাউল কম হয়ে থাকলে অামার নিকট লিখিত অভিযোগ করতে হবে। এসব বিষয়ে জানার জন্য চেয়ারম্যানকে পরিষদে না পেয়ে তার মুঠো ফোনে কথা বলি। সে জানান,পরিষদে আসবেননা। তার নিজস্ব প্রতিনিধি ওখানে আছেন।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন